7.07.2016

সালাফি মতবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আই এস হলো মুসলমান নামধারী গুপ্ত ইহুদি

সালাফি মতবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আই এস হলো মুসলমান নামধারী গুপ্ত ইহুদি
সালাফি মতবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আই এস হলো মুসলমান নামধারী গুপ্ত ইহুদি
কাফিরদের দল ইসলামের যত ক্ষতি করতে পারেনি তার চেয়ে লক্ষ কোটি গুন বেশি ক্ষতি করেছে কাফিরদের গড়া "আই এস" মুলত আই এস সৃষ্টি করা হয়েছে মুসলমান নামধারী সন্ত্রাসীদের দোহাই দিয়ে মুসলিম দেশে আক্রমন করা। যেমন করেছিল তালেবান সৃষ্টির মাধ্যমে । যা সম্প্রতি একটা ভাষণে হিলারি ক্লিনটন নিজেই স্বীকার করে বলেছে, "We created Al-Qayeda" [সূত্রঃ www.youtube.com/watch?v=Dqn0bm4E9yw]

আল কায়েদা যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মদদপুষ্ট, এসম্পর্কে Michel Chossudovsky এর দেয়া সাক্ষাতকারকে উড়িয়ে দেয়া যায়না। [সূত্রঃ www.globalresearch.ca] - See ore at: http://sopnatur-purob.blogspot.com/2015/07/blog-post_32.html যার কারনে দেখা যায় যখনই কোন মুসলিম দেশ আক্রমন করার ছক তারা আকে তখনই দেখা যায় আই এস এর দোহাই দিয়ে নানা স্থানে হামলা করে। কিন্তু কোন হামলারই প্রমান পাওয়া যায়না। আই এস মুসলিম নাম ধারন করেছে মুসলমানদের বিপদগ্রস্থ করার জন্য। কোন কাফির সরাসরি এসে কোন মুসলমানের দেশ দখল করতে পারবেনা। সহজ উপায় তাদেরই সৃষ্ট আই এস জুজু। আই এস সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা কাফিরদের পশম পর্যন্ত স্পর্শ করেনি। অথচ মুসলিম নাম ধারন করে হত্যা করেছে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে। কোনো মুসলমান কি অন্য মুসলমানকে হত্যা করতে পারে?

কাফিরদের দল ইসলামের যত ক্ষতি করতে পারেনি তার ছেয়ে লক্ষ কোটি গুন বেশি ক্ষতি করেছে কাফিরদের গড়া এ সঙ্ঘঠন।

১.তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে বহিরাগত অর্থাৎ বিদেশী এবং তাদের খুব কম সংখ্যকই ইরাকের অধিবাসী। আর এদের প্রতি রয়েছে সৌদি দরবারি ওয়াহাবি মুফতিদের সমর্থন। 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের প্রত্যেককেই প্রতি মাসে ১০০০-১৫০০ ডলার বেতন দেয়া হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাত যোগান দিয়ে যাচ্ছে।

২. এইসব সন্ত্রাসীরা যে সব অঞ্চল দখল করেছে সেখানেই নৃশংস ও জঘন্য হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাউকে এরা রেহাই দেয়নি। শুধু তাই নয় এর আগে সিরিয়ায় দেখা গেছে, এইসব সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে নিহতদের বুক ও পেট চিড়ে হৃদপিণ্ড, কলিজা ইত্যাদি বের করে এনে চিবিয়ে খেয়েছে এবং এ সব দৃশ্যের সচিত্র ভিডিও ফুটেজও এরা প্রকাশ করেছে ইন্টারনেটে।

৩. অন্য এক ঘটনায় আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা মসুলের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে হত্যার পর তার লাশকে টুকরো টুকরো করে। তাদের দৃষ্টিতে ওই ইমামের অপরাধ ছিল যে তিনি তাদের দলে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। স্থানীয় আলেমরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটার কথা জানিয়েছেন।

৪. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীরা ইসলামসহ নানা ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র স্থানগুলোকে ধ্বংস করছে এবং লুটপাট ও নির্বিচার গণহত্যায় লিপ্ত হচ্ছে। অথচ পবিত্র ধর্ম ইসলাম যুদ্ধ-কবলিত অঞ্চলে বেসামরিক পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা তো দূরের কথা সেখানকার গাছপালা, ফসল, ক্ষেত-খামার, পশু, পানি ও পরিবেশের ক্ষতি করাকেও নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ইসলামী নীতি অনুযায়ী যুদ্ধ-বন্দী বা আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি ছাড়াও জাহেলি যুগেও আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকে হত্যা করা কাপুরোষোচিত কাজ বলে বিবেচিত হত।

৫. ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত কাফির বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির লাশকে বিকৃত করাও নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীরা যুদ্ধে নিহত সেনাদের লাশ বিকৃত করা, গাড়ী-চাপা দেয়া ও পদদলিত করা ছাড়াও নিহতদের মাথাকে ফুটবল বানিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করার মত পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাহলে সে যেন গোটা মানব জাতিকে হত্যা করলো ৫/৩২।

৬. 'আইএসআইএল'-এর সন্ত্রাসীদের অনেকেই আরব দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মত সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মত কঠোর শাস্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদেশে গিয়ে কথিত জিহাদের নামে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর শর্তে এদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।

৭. এই সব তাকফিরি সন্ত্রাসী যারা নিজেদেরকে জিহাদি বা মুজাহিদ বলে নিজেদের দাবী করে তারা ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের দিকে ভুলেও একটি গুলিও ছুঁড়েনি। একজন ইসরাইলি সেনাকেও হত্যা করে নি। অথচ এ সব সৌদি-কাতারি-তুর্কি-মার্কিন-ইঙ্গ-ফরাসি-জার্মান সমর্থনপুষ্ট তাকফিরি (সালাফী) ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা যেমনিভাবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাকে (ওয়াহাবি নয় এমন) লক্ষ লক্ষ নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করছে ঠিক সেভাবে তারা সিরিয়ায়ও যারা ওয়াহাবি মতাবলম্বী নয় তাদের মধ্য থেকে গত তিন বছরে হাজার হাজার মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে!

৮.এইসব বিদ্রোহী ও তাকফিরি ওয়াহাবি (সালাফি) সন্ত্রাসী গ্রুপ ও সংগঠন যেমন সৌদি-কাতারি-তুর্কি- শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত ঠিক তেমনি তারা সাম্রাজ্যবাদী বিধর্মী পাশ্চাত্য কর্তৃকও সমর্থিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত!

৯.এরা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, হিংস্র ও পাশবিক চরিত্রের বরং পশুর চেয়েও অধম। কারণ, এদের অনেকেই বন্দীদের হত্যা করে তাদের দেহ চিড়ে ফেঁড়ে হৃদপিণ্ড কলিজা ইত্যাদি চিবিয়ে খেয়েছে যা আমরা আগেও উল্লেখ করেছি।

১০.এদের প্রতি আপামর ইরাকি ও সিরিয় জনগণের কোনো সমর্থন নেই।

১১. এরা সিরিয়ায় সাহাবিদের মাজার ধ্বংস করেছে। ইরাকেও নবী বংশের দুই ইমাম তথা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাহিস সালাম ও ইমাম আলী নাকী আলাইহিস সালাম'র মাজারের গম্বুজ ধ্বংস করেছিল। এরা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাতি ও কারবালা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মাজার ধ্বংসের প্রতিজ্ঞা করেছে। এরাই সিরিয়ায় হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বোনের মাজারে হামলা করেছে, তিন-চার বছরের মুসলিম শিশুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, দুই কুর্দির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগে-থেকে জ্বালানো আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে ও তার ভিডিও প্রচার করেছে, গর্ভবতী মুসলিম নারীর পেট চিরে শিশু বের করে উভয়কে হত্যা করেছে, বন্দী শিশুকে দিয়ে যুবক বন্দীকে হত্যা করে তার ভিডিও প্রচার করেছে, কিশোরদের ধরে এনে হত্যা করেছে এবং বহু বেসামরিক লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকফিরি-ওয়াহাবি ইসলামের কথিত বীরত্বের ভিডিও প্রচার করেছে।


এরা কি কোনো উপায়ে মুসলিম হতে পারে বা এদের মুসলিম বলার কোনো উপায় আছে?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: