7.13.2016

রাষ্ট্রযন্ত্র যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন দেশকে বাঁচাতে চাই সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ

রাষ্ট্রযন্ত্র যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন দেশকে বাঁচাতে চাই সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ
রাষ্ট্রযন্ত্র যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন দেশ বাঁচাতে চাই সামাজিক প্রতিরোধ
বর্তমান বাংলাদেশ যেভাবে চলছে, তাতে করে বলা যায় যে আজ হোক কাল হোক আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হবেই হবে। এর মূল কারণ ক্ষমতাসীন সরকারের হিন্দুপ্রীতি। এদেশের মুসলিম জনমতকে রাষ্ট্রযন্ত্র আর গোনায় ধরতে রাজি নয় বর্তমান সরকার। সুতরাং সরকারের আশা না করে মুসলিম জনগণকে এখন সামাজিক প্রতিরোধের রাস্তা বেছে নিতে হবে 

কিভাবে গড়া যায় সেই সামাজিক প্রতিরোধ? আমরা আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে দেখবো, সেদেশে যেই সরকারই আসুক না কেন, সেখানকার মুসলমানরা কখনোই উন্নতি করতে পারবে না। এর মূল কারণ ভারতের হিন্দু পরিচালিত সমাজব্যবস্থা, যা সবসময় ফোকাস করে মুসলমানদের বয়কট করার উপর। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার ফলাফল নিয়ে ভারতীয় এক সাংবাদিকের মন্তব্য ছিল-
এবারের দাঙ্গার পর আহমদাবাদে কোনো মিশ্র এলাকা আর রইলো না। হিন্দু আহমদাবাদ (অচিরেই যার নাম বদলানো হবে ও একটি নতুন শহর হিসেবে ঘোষিত হবে, যে শহরে বিপুল টাকা ঢালা হবে ও গরিব মানুষের বাসস্থানগুলোকে ভেঙে দিয়ে সুন্দর হর্ম্যশ্রেণী গড়ে উঠবে অনেকটা নতুন দিল্লীর কায়দায়) আর মুসলমান আহমদাবাদ, যে শহরটিকে ধীরে ধীরে বাসের অযোগ্য করে তোলা হবে পুরোনো দিল্লীর মতো। (সূত্রঃ ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়, গোলাম আহমাদ মোর্তজা, পৃষ্ঠা ৬০)

অর্থাৎ দাঙ্গার পর গুজরাটের রাজধানী আহমদাবাদের যে অংশটি মুসলিমপ্রধান হবে, সেই অংশটিকে যে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত রাখা হবে তা ভারতীয় সাংবাদিক আগেভাগেই বলে দিয়েছে। ভারতীয় হিন্দুচালিত সমাজব্যবস্থায় মুসলমানদের এই বিচ্ছিন্ন রাখার মানসিকতা এতো প্রকট যে, পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সুস্নাত দাশ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছে-
এখনো পশ্চিমবঙ্গে মফস্বল শহরগুলিতে এমনকি নগর কলকাতার অনেক অঞ্চলে, পুরানো পাড়ায় মুসলমান ভাড়াটের জন্য বহু হিন্দু বাড়ির দরজা থাকে বন্ধ (অর্থাৎ মুসলমানদের বাড়িভাড়া দেয়া হয় না)। গৃহকর্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন তো নয়ই (!) হয়তো অফিসে-কারখানায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত।” (সূত্রঃ ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়, গোলাম আহমদ মোর্তজা, পৃষ্ঠা ৫৫)

কলকাতার সব এলাকা কিন্তু হিন্দু অধ্যুষিত নয়, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাও কলকাতায় রয়েছে। কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো, সরকার সেসব এলাকায় স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে না। কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত মেটিয়াব্রুজ এলাকাটি নিয়ে উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মেটিয়াব্রুজে শিক্ষা বিস্তারের কোন লক্ষ্য সরকারের নেই। যদিও মেটিয়াব্রুজে একটি কলেজ রয়েছে, তাতে আর্টসের সাবজেক্ট ছাড়া আর কোন বিষয় পড়ানো হয় না। (https://goo.gl/chvRju)

হিন্দুদের এই বয়কটমানসিকতা আজকের নয়, বরং সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের পৌত্তলিকরাও একই চরিত্র বহন করত। চাচা আবু তালিবকে কুরাইশরা বারবার অনুরোধ করেও নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, সেই ক্ষোভে কুরাইশদের অন্যান্য গোত্র মিলে সমগ্র বনি হাশিম গোত্রকে বয়কট করে। অন্যান্য কুরাইশদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ বনি হাশিম গোত্রের সদস্যরা শিয়াবে আবি তালিব নামক স্থানে অবস্থান নেন।

এই আটক অবস্থার মেয়াদ প্রায় তিন বছর দীর্ঘ হয়েছিল। এ সময় তাদের যে দুর্দশার মধ্য দিয়ে সময় কাটে তার বিবরণে পাষাণও গলে যায়। কোন আয় উপার্জন করার সুযোগ নেই। কেউ বাইরে গিয়ে কারো সঙ্গে কোনো লেনদেনও করতে পারে না। বাইরে থেকে কেউ কোনো সাহায্য পাঠাতে পারছে না। এমতাবস্থায় খাদ্যাভাবে বনু হাশিমের সদস্যগণ শুকনা চামড়া সিদ্ধ করে আগুনে ভেজে খেয়েছেন। এরপর খেয়েছেন গাছের পাতা, গাছের ছাল। অবস্থা এতদূর গড়ায় যে, নিষ্পাপ শিশুরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন চিৎকার করতো তা বহুদূর পর্যন্ত শোনা যেতো। কুরাইশরা সে কান্নার আওয়াজ শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতো।

আমরা শান্তিপ্রিয় মুসলমান, ভারতীয় হিন্দুদের মতো দাঙ্গা করতে আমরা চাই না। সরকার যেহেতু হিন্দুদের ক্ষমতায়নে বদ্ধপরিকর, সেহেতু আমাদের সামনে এখন একমাত্র পথ শান্তিপূর্ণ সামাজিক প্রতিরোধ তথা বয়কটএর মাধ্যমে হিন্দু ক্ষমতায়নের রাস টেনে ধরা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে হিন্দুদের বয়কট করতে হবে। আপনি একটা প্যারাসিটামল কিনলেও হিন্দুর দোকান থেকে কিনবেন না। আপনার প্রতিষ্ঠানের পিয়ন পদেও হিন্দু নিয়োগ দিবেন না। কোন হিন্দুকে আপনার বাড়িতে ভাড়া দিবেন না। মুসলমানের পকেট থেকে যেনো হিন্দুর পকেটে একটা পয়সাও না যায়, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

শুনুন মুসলমানরা, সরকার হিন্দুদের চাকরি দেয় বলে কান্নাকাটি করে লাভ নেই, সরকার আপনার কথা শুনবে না। আপনি বরং চিন্তা করুন আপনার এলাকায় হিন্দুরা বাড়িভাড়া পায় কি করে? শুরুতে আলোচনা করেছি, ভারতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবেই শিক্ষার অবকাঠামো তৈরী করা হয় না। সে কারণে ভারতে আইসিএস (বাংলাদেশের বিসিএসের মতো) পরীক্ষার কোচিং করার জন্য মুসলিম যুবক আনসার শেখকে হিন্দু নাম নিয়ে, হিন্দু এলাকায় বাড়িভাড়া নিতে হয়েছে। (http://goo.gl/bRjMNZ)
আপনারা সবাই মিলে হিন্দুদের বয়কট করুন, দেখবেন সরকার শত চেষ্টা করেও বাংলাদেশে হিন্দু ক্ষমতায়ন করতে পারবে না। আজকে যদি ঢাকা শহরে হিন্দুদের বাড়িভাড়া দেয়ার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠতো, তাহলে সরকারের বাপের সাধ্য ছিলো না হিন্দুদেরকে বড় বড় পোস্টিং দেয়ার। আপনারা মুসলমানরা সামাজিকভাবে হিন্দুদের ব্যাপারে শক্ত হোন, সরকারও তখন হিন্দুতোষণ ছেড়ে আপনাদেরকেই গুরুত্ব দিবে। জাতি যেমন, শাসকও তেমনই হয়ে থাকে।


কথাগুলো যতোই সাম্প্রদায়িকশোনাক না কেন, সময় কিন্তু গড়িয়ে যাচ্ছে। শিয়াবে আবি তালিবের শিশুদের কান্নার আওয়াজ শুনতে চেষ্টা করুন, কারণ হিন্দুরা দখল করে নিলে আপনার বাচ্চাটিকেও ঠিক ওভাবেই কাঁদতে হবে। সরকার যেভাবে লাগামহীনভাবে হিন্দুতোষণ করে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকেও শিয়াবে আবি তালিবের ভাগ্য বরণ করতে হবে অচিরেই। নিজেরা বয়কট হওয়ার আগেই বাংলাদেশী মুসলমানরা হিন্দুদের বয়কট করুক, কারণ পরিস্থিতি এখনো অনুকূলে আছে। সময় চলে গেলে তাও থাকবে না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: