7.08.2016

অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা তাদের ধর্মে নিষেদ এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা

অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা খেত না।
অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা খেত না।
গোমাংস খাওয়া নিয়ে প্রচুর তর্ক বিতর্ক হয়েছে। তাই কয়েকটা কথা বলি । অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা খেত না । এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা । প্রথমেই বলি, সংস্কৃতে একটা প্রাচীন শব্দ আছে । গো-সঙ্খ্য। এই শব্দটার অর্থ হলো- গো পরীক্ষক । পরে অর্থ সঙ্কুচিত হয়ে গোপহয়েছে । এই পরীক্ষা কেন হতো ? কারণ, আর কিছুই না, যে বলদ বা ষাঁড়কে কাটা হবে, তার স্বাস্থ্য কেমন আছে সেটা দেখার জন্য । না পরীক্ষা হলে, সেই মাংস মানুষের জন্য খারাপ হতে পারে 

মাংস তিন প্রকার :-
ভূচর ( যারা ভূমিতে চরে )
খেচর ( যারা আকাশে ওড়ে )
জলচর ( যারা জলে বিচরণ করে )
এক জলচর বাদে, স্ত্রী- পশু বধ নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তাতে প্রজনন কমে যাবে । মাছেদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা শক্ত বলেই হয়তো, এই ব্যাপারটা হয়েছিল ।

বৌদ্ধ যুগের আগে , হিন্দুরা প্রচুর গোমাংস ভক্ষণ করতেন এ তথ্যও অনেকেই জানেন। ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত অনেক গ্রন্থে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের 'জাতি গঠনে বাধা' গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে গো-হত্যা, গো-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গো-মাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো ।তাই অতিথির আর এক নাম গোঘ্ন ।

বৌদ্ধ সম্রাট অশোকের সময় থেকে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গো-হত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছেন কেন?

এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল । বৌদ্ধ ধর্ম এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রচুর লোক, বিশেষ করে তথাকথিত নীচ জাতিআকৃষ্ট হয়েছিল, এই ধর্মের প্রতি ।

ব্রাহ্মণ্য বাদী এবং ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুনলেন । তারাও পুরোপুরি মাছ- মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ভেক ধারী হয়ে গেলেন । মূলত, এটা উত্তরভারতেই হয়েছিল । তাই এখনও ওটা গো- বলয়
অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা খেত না।
অনেকেরই ধারণা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গোমাংস খান না বা খেত না।
বেশীদিনের কথা নয়, আলিবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণা নন্দ আগম বাগীশ একটা বই লেখেন। নাম বৃহৎ তন্ত্রসার । এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই বলা হয়েছে ।

ঋগ্বেদে ফিরে আসি। কি দেখছি? প্রথম মণ্ডলের ১৬৪ সূক্তের ৪৩ নং শ্লোকে বৃষ মাংসের খাওয়ার কথা আছে। মহিষের মাংস উল্লেখ আছে পঞ্চম মণ্ডলের ২৯ নং সূক্তের ৮ নং শ্লোকে ।

মোষ বলি আজও হয় । নেপালে যারা মোষের মাংস খায়, তাদের ছেত্রী বলা হয় । এছাড়া, বনবাস কালে রামচন্দ্রের লাঞ্চের মেনু কি ছিল, অনেকেরই জানা নেই । তিন রকম মদ (আসব) গৌড়ী, (গুড় থেকে তৈরি) পৌষ্টি, (পিঠে পচিয়ে তৈরি) মাধ্বী (মধু থেকে তৈরি)। এর সঙ্গে প্রিয় ছিল- শূলপক্ব গোবৎসের মাংস।

বিশ্বাস না হলে রামায়ণ পড়া উচিত। রামকে যদি কল্প চরিত্র বলেও ধরি, তাহলেও এই গুলো তখনকার খাদ্যাভ্যাসের নমুনা।

The earliest surviving description of mead is in the hymns of the Rigveda, • Rigveda Book 5 v. 43:34, Book 8 v. 5:6, etc.


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: