7.18.2016

ভারতের স্বাধীনতা রক্ষার দায়ও এখন বাংলাদেশের তবুও ভারতের আগ্রাশি মনোভাব যাচ্ছেনা

ভারতের স্বাধীনতা রক্ষার দায়ও এখন বাংলাদেশের তবুও ভারতের আগ্রাশি মনোভাব যাচ্ছেনা
চীনের উস্কানিতে চরম বিদ্রোহপ্রবণ হয়ে পড়েছে ভারতের ৭টি অঙ্গরাজ্য বা সেভেন সিস্টার। কিন্তু সেখানে সেনা ও অস্ত্র পাঠাতে বহু কষ্ট করতে হচ্ছে ভারতকে, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন ভারতের হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তাই চীন যে কোন সময় দখল করে নিতে পারে সেভেন সিস্টার।

ঠিক সে মূহুর্তে এগিয়ে আসলো বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশ। নিজ জীবন যায় যাক, তবুও রক্ষা করতে হবে বন্ধুর স্বাধীনতা। নিজ বুকের উপর দিয়ে অনুমতি দেয় ট্রানজিটের। এখন থেকে বিনা বাধায় নামমাত্র মূল্যে বাংলাদেশের উপর দিয়ে সবকিছু টেনে নিয়ে যেতে পারবে ভারত। সেখানে যদি অস্ত্র ও সেনাবাহী ট্রাক থাকে তবুও কিছু করার নেই, বন্ধু রাষ্ট্র বলে কথা। তাকে রক্ষা করতে গেলে যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয়, তবু দিতে রাজী বাংলাদেশ।

আপনারা জানেন যে বাংলাদেশ-ভারত নৌ ট্রানজিট শুরু হয়েছে যার বিস্তারিত নিছে উল্লেখ করলামঃ

গত বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ নৌ ট্রানজিটনৌ প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে এটি হবে নিয়মিত ট্রানজিট নৌ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগেও দু-একটি ক্ষেত্রে নৌ ট্রানজিট দেওয়া হয়েছিল ভারতকেতবে সেটা ছিল অনানুষ্ঠানিকআনুষ্ঠানিকভাবে এবারই প্রথম মাশুলের বিনিময়ে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের নৌ সীমানায় প্রবেশ করছে 

এরই মধ্যে ভারতীয় একটি জাহাজ বাংলাদেশের নৌ সীমানায় প্রবেশ করেছে বলে নৌ মন্ত্রণালয় জানিয়েছেজাহাজটি গত বুধবার রাতে আশুগঞ্জে পৌঁছেবৃহস্পতিবার সকালে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় নৌ ট্রানজিটের

আশুগঞ্জ বন্দরে ভারত থেকে আসা পণ্য খালাস করার পর বাসযোগে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে আগরতলায় যায়এ বিষয়ে নৌ সচিব অশোক মাধব রায় বলে, ভারতের সাতটি বন্দর থেকে পণ্য আসবে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দরেবাংলাদেশ থেকে সড়ক পথে পণ্য ভারতে যাবে

সে বলে, যেহেতু ভারত একটি বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পণ্য পাঠাবে, তাই ভারতই ঠিক করবে কোন পণ্য ট্রানজিট হবেতবে নিষিদ্ধ কোনো জিনিস পরিবহন করবে না তারাসেটা নিশ্চিত করা হবেজানা গেছে, ১৯৭২ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ট্রানজিটের বিষয়টি উল্লেখ ছিলএরপর ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ট্রানজিটের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসেতবে ফি নির্ধারণ, অবকাঠামো দুর্বলতাসহ নানা সমালোচনার কারণে ট্রানজিট নিয়ে কেউ আর এগোয়নি

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৌ প্রটোকল চুক্তিতে বন্দর ব্যবহারের বিধান না থাকায় ভারতকে এতদিন তা দেওয়া সম্ভব হয়নি২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এলে এই চুক্তি সংশোধন করে বাংলাদেশএরপর গত বছর দিল্লিতে মাশুল নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়মূলত এরপর থেকেই ট্রানজিটের বিষয়ে ভারত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বেশি

সর্বশেষ দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে ট্রানজিটের রুট নির্ধারণ করা হয়েছেভারতের চেন্নাই, কৃষ্ণপত্তম, বিশাখাপত্তম, কাশিনাদা, প্যারা দ্বীপ, হলদিয়া ও কলকাতা নৌবন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়বে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা, খুলনা, পায়রা, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও ও আশুগঞ্জ বন্দরেবন্দর থেকে পণ্য খালাস হলে বাংলাদেশি ট্রাক সেই পণ্য নিয়ে যাবে ভারতে

পণ্যের শুল্ক, সড়ক ও বন্দর ব্যবহারের জন্য তিনটি পর্যায়ে ফি বা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে

প্রতি মেট্রিক টন পণ্যের জন্য শুল্ক ফি ধরা হয়েছে ১৩০ টাকা, রোড চার্জ প্রতি কিলোমিটারে ৫২ টাকা ২২ পয়সা, বন্দর ব্যবহারের জন্য ১০ টাকা পাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)১৯২ টাকা দিয়ে ভারতের এক মেট্রিক টন পণ্য বাংলাদেশ দিয়ে আবার ভারতে যাবে

তবে নৌ মন্ত্রণালয় বা ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে কোথায় এবং কীভাবে ফি আদায় করা হবে তা এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি

সত্যিই বাংলাদেশের মত বন্ধুই হয় না। স্যালুট বাংলাদেশ, স্যালুট।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: