7.11.2016

কুফরি সেক্যুল্যারিজম কে যারা তৈরি করেছে তারা পরিত্যাগ করলেও আজকে মুসলিমরা তা ঠিকই অনুসরণ করে নাউযুবিল্লাহ!!!


আমেরিকান আর্মিতে চ্যাপলিন কোরনামক একটি অংশ আছে। এদের কাজ হচ্ছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সদস্যদের ধর্মীয়ভাবে উব্ধুদ্ধ করা। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় এই কোরের কাজ- ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে সদস্যদের মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করা, এদের মূলনীতি- For God and Country। আমেরিকান রেভুলুশনারি ওয়ার, আমেরিকান সিভিল ওয়ার, স্প্যানিশ-আমেরিকান ওয়ার, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, উপসাগরিয় যুদ্ধ, সোমালি সিভিল ওয়ার, কসোভো যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধে চ্যাপলিন কোরের কার্যক্রম দেখা যায়। আমেরিকার ইতিহাসের শুরু থেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে এই কোরের অস্তিত্ব ছিলো, যার বয়স প্রায় ২৪১ বছর।

যেহেতু আমেরিকার অধিকাংশ সেনা সদস্য খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, তাই বলা যায় মার্কিন যুদ্ধগুলোতে সেনা কর্মকর্তাদের এ কোরের মাধ্যমের বোঝানো হয় প্রতিটি যুদ্ধই এক একটি ক্রুসেড বা ধর্মীয় যুদ্ধ, তাই তোমাকে ক্রুশের শক্তি সঞ্চয় করেই কাজ করতে হবে
যাই হোক, আমি বলতে চাচ্ছিলাম, আমেরিকা কিন্তু দাবি করে তারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং কোন দেশে যদি ধর্মীয় (বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে) যোদ্ধাদের আবির্ভাব ঘটে তবে তারা সেটা দমন করতে যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা কিন্তু নিজেরাই আর্মির মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ব্যবহার করে, যা তাদের সাংবিধানিক সেক্যুলারিজমের পরিপন্থী।

অনেকে হয়তো বলতে পারেন, “বাংলাদেশ আর্মির মধ্যেও ধর্মীয় শিক্ষক (আরটি) আছে, তাহলে সমস্যা কোথায়?” আসলে বাংলাদেশের আরটি ও আমেরিকার চ্যাপলিন কোরের মধ্যে বিস্তর তফাৎ আছে। বাংলাদেশের আরটি (রিলিজিয়াস টিচার) এর কাজ শুধু ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো, কিন্তু যুদ্ধে ধর্মীয় অংশ হিসেবে ধর্মীয় চেতনায় উব্ধুদ্ধ করা নয়। কিন্তু আমেরিকান চ্যাপলিন কোরের কাজ হচ্ছে, যুদ্ধে আর্মিদের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা বা ক্রুসেডীয় চেতনা সৃষ্টি করা। এছাড়া বাংলাদেশে আরটি হচ্ছে নন গ্যাজেটেড সদস্য, বেতন একজন সৈনিকের মত, অর্থাৎ খুবই নিচু পদের। বাংলাদেশে সৈনিক র‌্যাঙ্কের একজন ননগ্যাজেটেড আরটি যখন ধর্মীয় শিক্ষা দেয় তখন সেটা সেনা কর্মকর্তাদের মত কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটা খুবই চিন্তার বিষয়। অপরদিকে আমেরিকার চ্যাপলিন কোরের প্রধানের মর্যাদা হচ্ছে মেজর জেনারেল র‌্যাঙ্কের, অন্যন্য পদগুলো অফিসারের সমতূল্য। স্বাভাবিকভাবে একজন মেজর জেনারেল র‌্যাঙ্কের অফিসার যখন ধর্মীয় শিক্ষা দেবে, সেটা অবশ্যই সকল সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকের মধ্যে বিরাট প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং সবাইকে উব্ধুদ্ধ করতে পারে।

সত্যিই বলতে মুসলমানরা সেক্যুল্যারিজম সেক্যুল্যারিজম করতে করতে শেষ হয়ে গেছে। অপরদিকে যে অমুসলিম জাতি মুসলমানদের সেক্যুল্যারিজম শিক্ষা দিয়েছে তারা কিন্তু যায়গা মত মোটেও সেক্যুল্যারিজম গ্রহণ করেনি, বরং কট্টর ধর্মপন্থীই রয়েছে, অর্থাৎ সোজা ভাষায় ধোকা খেয়েছে বোকা মুসলমানরা। যা আমেরিকান ডলারের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যেখানে লিখা আছে We Trust In God যার আর কোনো দেশের মুদ্রায় আছে কিনা আমার জানা নাই।

দেখতে পারেন-en.wikipedia.org/wiki/Chaplain_Corps_(United_States_Army)

আসুন মুসলিম বিশ্বের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সেক্যুলার সেনাবাহিনীগুলোর মধ্যে কতিপয় প্রধান পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হলেই বোঝা যাবে যেমনঃ

১/ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ যাঁরা ঈমানদার তাঁরা যুদ্ধ করে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্যে, আর যারা কুফফার তারা যুদ্ধ করে তাগুতের জন্যে।
সূরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৭৬

ইসলামী সেনাবাহিনী যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন কায়েমের জন্য লড়াই করে কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীগুলো কস্মিনকালেও মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন কায়েমের জন্য লড়াই করেনা । বরং যেকোনো মূল্যে মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন কায়েমে বাঁধা দেওয়াই তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । যা পৃথিবীর ভিবিন্ন রাষ্ট্রের দিকে তাকালে সহজেই অনুমেয়।

২/ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃযারা ঈমানদার তাঁদের অভিভাবক হলেন মহান আল্লাহ পাক। আর শয়তান হচ্ছে তাদের অভিভাবক যারা সত্য অস্বীকারকারী।

সূরা বাকারা শরিফঃ আয়াত শরিফ ২৫৭।

ইসলামী সৈন্যবাহিনী কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রজ্জু হয়। আর প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সৈন্যবাহিনীগুলো সামাজ্র্যবাদী কিংবা কমিউনিস্টদের পা-চাটা গোলাম।

৩/ ইসলামী সেনাবাহিনীতে বিধর্মী-নাস্তিকদের যোগ দেওয়া হারাম। রাষ্ট্রীয় বিপদগামী সেনাবাহিনীগুলো বিধর্মী-নাস্তিকদের জন্য উন্মুক্ত।

৪/ ইসলামী সেনাবাহিনীতে নারী সদস্য যোগ দেওয়া হারাম। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীগুলোতে নারী সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত ।

৫/ ইসলামী সৈন্যদের জন্য অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করা ফরয। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সেনাসদ্যরা বিলাসী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত।

৬/ ইসলামী সৈন্যদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জীবন ও সম্পদ বিসর্জন দেওয়া ফরয। রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন অসংখ্য সৈন্য আছে যারা জীবনে কখনও যুদ্ধই করেনি। নিজের জীবন ও ধন-সম্পদ বিসর্জন দেওয়াতো দূরের কথা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করে । মূলত একারণেই দুনিয়াপূজারী তরুণরা রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অধিক আগ্রহী থাকে।

৭/ ইসলামী সেনাবাহিনীর কেবলমাত্র ইসলামী যুদ্ধনীতি অনুসরণ করে যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীগুলো জাতিসংঘ (ইহুদীসংঘ) এর প্রেসক্রিপশন মেনে চলে।

৮/ ইসলামী সৈন্যবাহিনীর আমীর/সেনাপতিকে অবশ্যই মুত্তাকী আলিম হতে হবে। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানগুলো শরীয়তের ব্যাপারে অজ্ঞ হয়। এরা কাফির-মুশরিকদের রোল-মডেল মনে করে থাকে।

৯/ কারবালার যমীনে যারা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছিলো তারা ছিলো রাষ্ট্রীয় সেক্যুলার মুনাফিক সৈন্যবাহিনী। এরা যদিও ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম পালন করতো, কিন্তু দলগত পর্যায়ে ছিল মুর্তাদ।

যারা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে লড়াই করেছে তারা হলেন ইসলামী সেনা/মুজাহিদ বাহিনী ।

বর্তমানে অনেকে আফসোস করে বলে থাকে যে, মুসলিম বিশ্বের এতগুলো রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী রয়েছে অথচ এরা কেন আরাকান, ফিলিস্তিন, জিনজিয়াং, এ্যাঙ্গোলা, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক প্রভৃতি দেশের মজলুম মুসলমানদের পক্ষে লড়াই করেনা ?


উত্তরটা একেবারে সহজঃ কারণ, এরা ইসলামী সেনাবাহিনী নয় বরং রাষ্ট্রীয় সেক্যুলার সেনাবাহিনী তথা ইয়াযীদ লানতুল্লাহির সৈন্যবাহিনীর হাক্বিকী মিসদ্বাক। যখন ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আত্নপ্রকাশ করবেন তখন সর্বপ্রথম ৮০টি দেশের ৯,৬০,০০০ রাষ্ট্রীয় সৈন্য উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। যাদের মধ্যে অনেক মুসলিম-নামধারী সৈন্যও থাকবে। নাউযুবিল্লাহ !!!


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: