7.06.2016

ফ্ল্যাশব্যাকঃ যেভাবে তৈরী হয়েছিল সালাফি মতবাদি সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’

ফ্ল্যাশব্যাকঃ যেভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন সালাফি মতবাদি ‘আইএস’ তৈরী হয়েছিল।
ISIS In Reality
বাংলাদেশে বর্তমানে গুলশান হামলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে পুরোহিত হত্যা, এবং ভিবিন্ন উপজাতিকে কুপিয়ে হত্যার পেছনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যেনো প্রমাণ করা যায় এদেশে আইএসআছে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে বিদেশী আগ্রাসন চালানো। অথচ এই আইএসএর জন্মইতিহাস পড়লে সবাই একমত হবেন, যদি আইএসএর দায়ে কোন জায়গায় সৈন্য পাঠাতে হয়, সেক্ষেত্রে তা করা উচিত আমেরিকা ও ইউরোপে।

কারন ২০১২-১৩ সালের দিকে আমেরিকা-ইউরোপ যে কিভাবে অস্ত্র দিয়ে এবং প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে আইএস তৈরী করেছিল, তা এখনো পুরাতন খবরগুলোতে পাওয়া যায়। যেমন ২০১৩ সালের জুন মাসে ইউএসএ টুডে-তে খবরের শিরোনাম ছিলোঃ- Obama approves arming Syrian rebels (http://goo.gl/aUR5fE) অর্থাৎ ওবামা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্য দিতে সম্মত হয়েছে।

বিবিসিতে ২০১৩র মে মাসের আরেকটি খবরের শিরোনাম ছিলোঃ- EU ends arms embargo on Syria rebels (http://goo.gl/ghfwuH)

অর্থাৎ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের আর্মস এমবার্গোঅর্থাৎ অস্ত্রবিরতি তুলে নিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য। শুধু অস্ত্রবিরতি তুলে দিয়ে নয়, বরং মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা চালিয়েও তখন আইএস সদস্য রিক্রুট করতে ভূমিকা রেখেছিল পশ্চিমারা। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এই প্রচারনা যুদ্ধ' তখন চালানো হয়েছিল সিরিয়ায় অস্ত্র সাহায্য পাঠানোর বৈধতা দেয়ার জন্য। (http://goo.gl/T8dZ52)

উল্লেখ্য, গুলশান হামলায় সিএনএনের ১৩ ঘণ্টা টানা লাইভ ব্রডকাস্টও কিন্তু প্রচারণা যুদ্ধের মধ্যে পড়ে, যার লক্ষ্য উদ্যেশ্য ছিলো বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলা।

২০১৩ সালের দিকে ইউরোপের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলো এমনসব ভিডিও ডকুমেন্টারী তৈরী করে প্রচার করতো, যেনো ইউরোপের মুসলমান যুবকেরা সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিতে আগ্রহী হয়। ব্রিটেনের চ্যানেল ফোরএ প্রচারিত এই ডকুমেন্টারীটি দেখলে আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন, যে বর্তমানে আইএসকে সারাক্ষণ গালি দেয়া পশ্চিমা মিডিয়া তখন তাদেরকে কতোটা পজিটিভ ভাবে তুলে ধরেছিলো মুসলমান যুবকদের বিপথগামী করতে। (https://youtu.be/5hAlKlQ2g1Q)

আসলে মিডিয়া বিধর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এরা যেভাবে মুসলমানদের নিয়ে খেলছে, তা বড়ই মর্মন্তুদ। যেভাবে পশ্চিমারা শুরুতে আইএসকে পজিটিভ ভাবে তুলে ধরে ইউরোপের মুসলমানদের সিরিয়া যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, ঠিক উল্টোভাবে সমুদ্রে নিহত আয়লানের ছবি দিয়ে এই পশ্চিমা মিডিয়াই সিরিয়ার মুসলমানদের ইউরোপে নিয়ে এসেছিল। এরপর হঠাৎ একদিন প্যারিসে হামলা হলো, পশ্চিমা মিডিয়াও তার ভালোমানুষি ছেড়ে নখদাঁত বের করে আসল রূপে আবির্ভূত হলো। ইউরোপে যাওয়া মুসলমানদের জীবন রীতিমতো নরক হয়ে উঠলো। (যা এইটা পড়লে বুঝেতে পারবেন)


তখন পশ্চিমারা সিরিয়ায় আইএসকে সাহায্য করতে অস্ত্রবিরতি তুলে দিয়েছিল, মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা করেছিল আইএস সদস্য রিক্রুটের জন্য। যারা তখন আইএস তৈরী করেছিল, তারাই এখন আইএসের দায় চাপাচ্ছে বাংলাদেশের উপর। এদের এই দোষারোপযে কতোটা ভয়াবহ, সেটা সিরিয়া ও ইরাকের দিকে তাকালে বোঝা যাবে। আমেরিকা প্রথমে ইরাককে মিথ্যা দোষ দিয়েছিল ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের, এর মাধ্যমেই সে ইরাক হামলার পথ খুঁজে নিল। সিরিয়ার বাশারকে দোষ দিল রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের, এর দ্বারা সে সিরিয়ায় হামলার পথ খুঁজে নিল। এখন সে দোষ দিচ্ছে বাংলাদেশকে, যেনো সে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

এই দোষারোপের জবাব দেয়ার জন্য এখন সরকারের দরকার শক্তিশালী মিডিয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের মিডিয়া শক্তিশালী হলেও তা এখন আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণে নেই। আওয়ামীলীগ তার শাসনামলের শুরুতেই বামপন্থীদের বিশ্বাস করে মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, যার ফল এখন তারা হাতেনাতে পাচ্ছে গুলশান হামলায় মিডিয়ার বিট্রেয়ালের মাধ্যমে।

বলুনঃ #বাংলাদেশে_কোন_আইএস_নেই Say #No_IS_in_Bangladesh


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: