8.19.2016

কুরবানীর পশু জবাই নিয়ে নাস্তিকদের আপত্তির চিরস্থায়ী জবাব


আর কিছু দিন পর কুরবানী আর কুরবানী আসলেই নাস্তিকরা আপত্তি করে পশু জবাই করা নাকি নিষ্ঠুরতা। যদিও নাস্তিকরা খাওয়ার সময় গরু, ছাগলের গোশত পেট ভরেই খায়। সে যাই হোক পশু যবাই করা নিষ্ঠুরতা কিনা পর্যলোচনা করে দেখা যাক।

উদ্ভিতাদি জন্তু জানোয়ারের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে নিরন্তন। অনুরূপই জন্তু জানোয়ার মানুষের খাদ্যে পরিণত হচ্ছে। মানুষের জন্য পশু যবাই করা না হলে ওরা মৃত্যু ও ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে পারছে এমন তো নয়। অন্যান্য অধিক শক্তিশালী হিংস্র জন্তু জানোয়ার কতৃক ছিন্ন ভিন্ন হয়ে ওদের খাদ্যে পরিণত হওয়া তো অবধারিত। অথবা ওরা স্বভাবিক মৃত্যু বরণ করতে বাধ্য হবে। আর তা ওদের গলদেশে শানিত অস্ত্র চালিয়ে যবেহ করার তুলনায় অধিক কষ্টদায়ক হওয়া নিশ্চিত। ইসলাম প্রাণী সমূহকে খাওয়ার উপযোগী বানানোর জন্য যে মৌলিক শর্ত দিয়েছে তা হচ্ছে শরীরের সমস্ত রক্ত বের হয়ে যাওয়া। এ জন্য স্বাভাবিকভাবে ঘাড়ের সামনের দিকটার রক্ত প্রবাহের চারটির প্রধান রগ (Jugulanvcins Carotid Arteries) এর সঙ্গে কন্ঠনালীও কাটতে হবে। উক্ত প্রাণীর গলা, সামনের Artery/ ধমণী/রগগুলি কেটে ফেলার কারণে রক্তের সাথে জীবানুসহ সকল প্রকার বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি গোশতপেশীসহ অন্যান্য organ অঙ্গ প্রতঙ্গে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আর এ কারণেই যবেহকৃত প্রানীর চর্বি, গোশত ও অস্থি মজ্জা তথা অন্যান্য অঙ্গ জীবানুমুক্ত হয়ে যায় ইসলাম সম্মত উপায়ে কুরবানি করলে।

এক সময় ব্রিটেনে প্রানীদের প্রতি সদয় কমিটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে আদালতে এই অভিযোগে মামলা দায়ের করে যে, মুসলিমগণ নিষ্ঠুর। কেননা, তারা জন্তুকে জবাই করে তাদেরকে কষ্ট দেয়। এ জবাইকে জুলুম আখ্যা দিয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! কোর্ট মুসলিমদেরকে জবাই করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। মুসলিমগণ এর কারণে যুলম নির্যাতন ভোগ করতে বাধ্য হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদেরকে বর্তমানেও এমন দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। আমাদের উলামা ও চিন্তাবিদদের উচিৎ বিজ্ঞানের যুক্তির মাধ্যমে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা। একজন মানুষ যদি তার দুই হাত দিয়ে অন্য একজনের গর্দান চেপে ধরে এবং গর্দানের দুটি ওদজানামক রগের উপর কয়েক সেকেন্ড চাপ সৃষ্টি করে রাখে তাহলে দেখা যাবে, উক্ত লোকটি অজ্ঞান হয়ে গেছে তার অনুভূতি শক্তি হারিয়ে যাবে।

প্রশ্ন হলো কেন এমন হয়?

কারণ হলো, মগজ সব সময় অক্সিজেনের ধরাবাহিক সাহায্য নিয়ে থাকে। মগজে রক্ত প্রবেশে যখন বাধার সৃষ্টি করা হয়, মাত্র কয়েক সেকেন্ড যদি রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকে, সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে যায়। যদি কেহ কোন প্রাণীর যে সমস্ত রগের মাধ্যমে মগজে সাহায্য পৌঁছে থাকে ঐ সমস্ত রগগুলো চেপে ধরে তাহলে সে প্রাণীরও অনুভুতি হারিয়ে যায়। আর যদি যবেহ করার মাধ্যমে হুলকুমসহ তার আশেপাশে ওদাজা নামক রগগুলো হঠাৎ কেটে ফেলা হয় তাহলে সাথে সাথে জ্ঞান ও অনুভুতি শক্তি হারিয়ে যায়। যেহেতু সামান্য সময় চাপ সৃষ্টি করলেই জ্ঞানহারা হয়ে যায়, তাই যবেহ করার সাথে সাথে জ্ঞান ও অনুভুতি যে হারিয়ে যায় তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারপর যদি উক্ত জন্তুকে কেটে টুকরা টুকরা করা হয় তাহলে উহা কি কোন ব্যাথা অনুভব করে? না, কোন ধরনের ব্যাথা অনুভব সে করে না। কারণ উক্ত রগগুলো কাটা ও রক্ত বন্ধের মাধ্যমে অনুভূতির যে কেন্দ্র রয়েছে তার বিলুপ্তি ঘটে। তা হলে প্রশ্ন থেকে যায়, কেন প্রাণীটি জবেহ করার পর অনেক সময় পর্যন্ত নড়া চড়া ও পাঁ দিয়ে জোরে জোরে নাড়া দিতে থাকে? তার জবাব হচ্ছে মগজ যখন রক্তশুন্য হয়ে পড়ে তখন মগজ থেকে হৃদপিন্ডে বার্তা পাঠিয়ে দেয় যে, আমি মহা বিপদে আছি, আমার রক্ত কম হয়েছে, তোমরা রক্ত পাঠাও। এমনি ভাবে নাড়ী ভূড়ি অঙ্গ প্রতঙ্গ ও সমস্ত শরীরে বার্তা পাঠিয়ে রক্ত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এ খবর পাঠায় যে, রক্তের অভাবে মগজের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে, তোমরা রক্ত পাঠাও। অতঃপর উক্ত প্রাণীটি নড়াচড়া করতে থাকে এবং যে সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গে রক্ত রয়েছে তা এই নড়া চড়ার মাধ্যমে হৃদপিন্ড উক্ত রক্তগুলো পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছতে পারে না বরং সেই কাটা রগ দিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে। এমনি ভাবে শরীরের সমস্ত রক্ত বাইরে বের হয়ে গোস্ত রক্তমুক্ত হয়ে যায়। এবং পরিস্কার ও পবিত্র হয়ে যায়, যা ভিতরে থাকলে মানুষের স্বাস্থের ক্ষতির কারণ হতো। এই রক্ত ভিতরে থাকলে জীবানু সম্প্রসারণে সাহায্য করতো।

আর মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতির ব্যবস্থা করেছেন। এই নিয়মের খেলাফ যে কোন নিয়মে যবেহ করলে, উক্ত প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে জীবানু এবং অন্যান্য আবর্জনা থেকে যায়, যার গোসত চবির্ ইত্যাদির সাথে ভক্ষণের ফলে জটিল রোগ হতে পারে। ভারত উপমহাদেশে হিন্দুরা প্রাণীকে দাঁড় করিয়ে তার ঘাড়ের উপর তরবারীর আঘাত করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলত। তাদের ভাষায় একে ঝটকা বলা হয়। এরূপ গোস্তকে মহাপ্রসাদ বলা হয়। নাউযুবিল্লাহ! ঝটকাকালে প্রাণীর মেরুদন্ড কেটে যাওয়ার দরুন মস্তিস্কের সাথে শরীরের সম্পর্ক নিঃশেষ হয়ে যায়, ফলে তার কাটা স্থান থেকে ঐ পরিমাণ রক্তই বের হয় যা কাটা স্থানের আশেপাশে থাকে। প্রাণীর শরীরের ভিতর যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত থেকে যায়। ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঝটকা পদ্ধতিতে প্রাণী বধ করা হয়। অতঃপর তারা একে নতুন আকৃতি প্রদান করে Goilatim বানাল। অর্থাৎ প্রাণীকে কাঠের ফ্রেমে দাঁড় করিয়ে উপর থেকে একটি ভারী ছোরা ফেলে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলত। গবেষনা দ্বারা জানা গেছে যে, এভাবে মেশিনে কাটা গোস্ত খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যেহেতু তার ভিতরে রক্ত থেকে যায়। তারপর তারা পশু জবায়ের আধুনিক পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। পশুটির মাথায় বিদ্যুতের শক দেয়া হয় এবং পশুটি যখন বেহুশ হয়ে যায় তখন তার পায়ে শিকল লাগিয়ে উল্টে করে লটকে দেয়া হয়। অতঃপর ঐ বেহুশ প্রাণীর গলায় ধারাল মেশিন চালিয়ে জবাই করা হয়। এই আধুনিক পদ্ধতিতে জবাই করার ক্ষেত্রে পশুকে বেহুশ করার জন্য বিদ্যুতাপৃষ্ট করা হয়। এর কারণে হিষ্টামিনের সৃষ্টি হয় যা ভক্ষণে মানব শরীরের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে।

তাই প্রমান হলো জবাই করা ইসলামী পদ্ধতি প্রাণীর জন্য আরামদায়ক এবং আহারকারীদের জন্য অধিক নিরাপদ এতএব ইহাকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা বলা বোকামি ব্যতীত কিছুই না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: