8.21.2016

সত্যি রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে রাগীব আলী খুবই খারাপ কাজ করেছেন

আজ প্রথম নিজেকে সিলেটি বলতে খুব লজ্জা হচ্ছে তারপরেও বলতে লিখতে বাধ্য, যাইহোক মুল বিষয়ে আসিঃ ২০১৫ সালের একটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে সিলেটের তারাপুরে রাগীব রাবেয়া হাসপাতালটির ইনডোরের (ভর্তিকৃত) রোগীর সংখ্যা ছিল--৫২,৭৬৬ জন এবং আউটডোরের (বহিঃ বিভাগে) রোগীর সংখ্যা ছিল ২,৩৩,৩৫০ জন। অর্থাৎ রাগীব রাবেয়া হাসপাতাল থেকে ২০১৫ সালে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। এভাবে করে ২১ বছর যাবত (১৯৯৫ সাল থেকে) হাসপাতালটি মানুষকে সেবা দিয়ে আসছে। এতগুলো মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া অবশ্যই খারাপ কাজ ! কি বলেন??

আবার এই হাসপাতালটি তৈরী করতে রাগীব আলী ২০০-৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এই টাকা দিয়ে সেই গহীন চা বাগানে গরীব মানুষদের সেবা দেওয়ার কি দরকার ছিলো তার ? ঐ টাকা দিয়ে ঢাকায় বসুন্ধরা বা যমুনা গ্রুপের মত বড় রিয়েল স্টেট কিংবা ঢাকায় মার্কেট গড়তে পারলে আরো লাভ করতে পারতেন তিনি। তাহলে মানুষ তাকে ‘দানব’ বলে অন্তত গালি দিতো না।

এবার আসুন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে তারাপুরের চা বাগানের কি উপকার হয়েছে ?

১৯৯০ সালে তারাপুরের চা বাগানের তেমন মূল্য ছিলো না। চা বাগান থেকে তেমন কোন লাভই হতো না, বরং রক্ষণাবেক্ষন করতে অনেক খরচ হতো। জমিটা এতটা ব্যাকওয়ার্ডে ছিলো যে চা-বাগানের জমির তেমন মূল্যই উঠতো না। তাই পুরো বাগানটিকে মাত্র ১ কোটি টাকা দিয়ে বেচে দিয়ে ভারতে পারি দিতে উদ্দত হয় পঙ্কজ কুমার। কিন্তু ঐ সময় এত টাকা দিয়ে ব্যাকওয়ার্ডের জমি কেনার মত লোক পাওয়া যায়নি। তাই অনেকটা উপকার করার নিয়তেই জমিটা কিনে নেয় রাগীব আলী।

১৯৯৫ সালে যখন রাগীব আলী চা বাগানে বিশাল হাসপাতালটি নির্মাণ করেন তখনই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চারপাশে গড়ে উঠে বিশাল জনবসতি। ফলে ঐ এলাকায় জমির দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। হাজার গুন বেড়ে ঐ জমির দাম এখন কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌছেছে। জমির দাম হাজার গুন বৃদ্ধির পাওয়ার পেছনে কিন্তু মন্দির কিংবা চা বাগানের কোন ভূমিকা নেই। পুরো ভূমিকাই হচ্ছে ঐ হাসপাতালের। অর্থাৎ তারাপুর চা বাগান বিশাল মূল্যবান করেছে এই রাগীব আলীই।

রাগীব আলীর উপর আমার অনেক সিলেটি ভাইবোন এখন ক্ষ্যাপা, এর কারণ রাগীব আলী তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের সাথে নিজের নাম লাগান। আমি ঐ সকল সিলেটবাসীকে অনুরোধ করবো, আপনারা যেনো দয়া করে ২-৩শ’ কোটি টাকা খরচ করে একটি হাসপাতাল বানান এবং তার নাম যেন ভিন্ন নামে দেন। অন্তত তারা রাগীব আলীর মত ১টি প্রতিষ্ঠান আগে বানিয়ে দেখাক (রাগীব আলীর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬০ এর উপরে) এরপর যেন রাগীব-রাবেয়া নামকরণ করা নিয়ে বিরোধীতা করা হয়।

অহে আমার প্রানের মুসলিম সিলেটবাসী রাগীব আলীর বিরোধীতা করে এবং হিন্দুর পক্ষ নিয়ে এটাই প্রমাণ করছো- আমরা সিলেটীরা হচ্ছি নিখাদ বিশ্বাসঘাতক এবং গৌড়গোবিন্দের শাসনই আমাদের জন্য উপযুক্ত।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: