8.18.2016

মালের মতো আপনার কী মনে হয়, ভাত-তরকারি রান্নার কারণে দেশের গ্যাসসম্পদ সব শেষ হয়ে যাচ্ছে?

হ্যাঁ আপনাকেই বলছি হে বাংলার ঘুমিয়ে থাকা প্রতিবন্দি হিজড়া মানুষ নামের ফানুশ যদি আপনি প্রতিবাদীদের কাতারে নিজেকে না ফেলেন। আপনার কী মনে হয়, আপনার ভাত-তরকারি রান্না করার কারণে দেশের গ্যাসসম্পদ সব শেষ হয়ে যাচ্ছে? তাই আপনার উচিত, গৃহস্থালী সমস্ত কাজকর্মে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া?

বিশেষ করে মন্ত্রী মাল মুহিতের কথা শুনে অনেকেরই এরকম মনে হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাস দিয়ে ভাত-তরকারি রান্নার নাকি কোন মানেই হয় না! (http://goo.gl/8zhi8s) অথচ আমরা গৃহস্থালী কাজে যে গ্যাস ব্যবহার করি, তা মোট উৎপাদিত গ্যাসের খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ। এদেশের বিভিন্ন খাতে গ্যাসের শতকরা ব্যবহারের তালিকা নিচে দেয়া হলো-

মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে;
১৭ শতাংশ শিল্পে;
১৬ শতাংশ ক্যাপটিভ পাওয়ারে;
১২ শতাংশ গৃহস্থালিতে;
৭ শতাংশ সার-কারখানায়;
৫ শতাংশ সিএনজিতে;
১ শতাংশ বাণিজ্যিক এবং
দশমিক ১ শতাংশ চা-বাগানে। (http://goo.gl/Xf2KCN)

উপরের লিস্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ৪২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহারের কথা আছে, সেগুলো হল সরকারি মালিকানাধীন উৎপাদন কেন্দ্রের হিসাব। তার সাথে বেসরকারী পাওয়ার প্ল্যান্ট তথা উপরের লিস্টে উল্লেখিত ক্যাপটিভ পাওয়ারের ১৬ শতাংশ যোগ করলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের মোট ব্যবহার দাঁড়ায় ৫৮ শতাংশে, অর্থাৎ এদেশের অর্ধেকেরও বেশি গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিপরীতে বাসাবাড়িতে আমরা ব্যবহার করছি মাত্র ১২ শতাংশ গ্যাস।



অর্থমন্ত্রী গ্যাস দিয়ে ভাত রান্না বন্ধ করার পক্ষে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলেছে, “এই প্রাকৃতিক সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারে লাভ অনেক বেশি। আর এটা রান্নায় ব্যবহার মানে অপচয় ছাড়া কিছু নয়। প্রতিবন্ধী মাল মুহিতের আসলে অর্থমন্ত্রী থাকারই কোন যোগ্যতা নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রান্নায় গ্যাসের ব্যবহারের কোন অর্থনৈতিক ভূমিকা নেই! অথচ এই গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে আবাসন ব্যবসায় যে ধস নেমেছে, সেটা সবাই জানে। গ্যাস সংযোগ না দেয়ার কারণে হাজার হাজার নতুন ফ্ল্যাট ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না ডেভেলপার কোম্পানীগুলো। (http://goo.gl/Mv4cJR)

এই ডেভেলপার কোম্পানীগুলোর কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের আয়ের সংস্থান হচ্ছে, বাড়ি বানানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি-যোগালি পর্যন্ত। সাথে সাথে রড, সিমেন্ট, টাইলস, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ সহ আরো অনেক অনেক খাতের অর্থনীতি আবাসন ব্যবসার সাথে ওতপ্রেতভাবে জড়িত। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এই আবাসন খাতের কর্মকাণ্ড এখন পুরোপুরি স্থবির হয়ে রয়েছে স্রেফ বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ না দেয়ার কারণে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বহু দামী দামী ফ্ল্যাট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, কারণ চুলায় নেই গ্যাসের সংযোগ। এই আবাসন ব্যবসার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিতেই এই মাল মুহিতেরা ঘোষণা দিচ্ছে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার। সে আস্ফালন করে বলেছে, গ্যাস সংযোগ দেয়া সরকার বন্ধ করবেই। আন্দোলন করে নাকি কোন লাভ হবে না।

সরকারি পর্যায় থেকে এমনভাবে গৃহস্থালী কর্মকাণ্ডে গ্যাসের ব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, যেন ৯০ শতাংশ গ্যাস বাসাবাড়িতে খাবার তৈরী করার কাজেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে! স্ব-স্বীকৃত প্রতিবন্ধী মাল মুহিত শুধু নয় , গত কয়েকমাস আগে জ্বালানিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুও বলেছিল বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ আপাতত নয়” (http://goo.gl/9ln6aQ)


এখন জনগণ কী শুধু অন্যায় মুখবুঁজে দেখেই যাবে? তারাপুরে হাজার হাজার মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করে হিন্দুদের মন্দির করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে প্রশাসন, কিন্তু কেউ কোন প্রতিবাদ করছে না। স্বার্থপরের মতো সবাই চিন্তা করছে নিজের গা বাঁচাতে। ভাবছে তারাপুরের লোকেরা বাস্তুহারা হচ্ছে হোক, আমার তো কিছু হচ্ছে না। অথচ গোটা দেশটিকেই যে তারাপুর বানিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে, তা কি আমরা কেউই বুঝতে পারছি না? আমরা সাধারণ মুসলমানরা কেউই কিন্তু বাঁচতে পারবো না, যদি আমরা এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে চুপ করে থাকি।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: