8.18.2016

রাগীব আলী দোষী, কিন্তু বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত আর সি কে হাডসন কি ভালো??

পত্রপত্রিকাগুলো যে কত বড় দালাল তা একটু খেয়াল করে পড়লেই খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। রাগীব আলীর ঘটনা নিয়ে পত্রিকাগুলো লিখেছে তারাপুর চা বাগানের মালিক ছিলো সি কে হাডসন নামক এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী।অথচ ইতিহাস ঘেটে দেখি, সি কে হাডসন ছিলো সিলেটের (তৎকালীন আসামের অন্তর্ভূক্ত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডেপুটি কালেক্টর মানে খাজনা আদায়কারী। (সূত্রঃ The Asiatic Journal and Monthly Miscellany, Volume 27, পৃষ্ঠা ২০২, লিঙ্ক-https://goo.gl/jTm9OY)

ইতিহাস বলছে ঐ সময় ব্রিটিশ খাজনা আদায়কারীরা সিলেটের মানুষের উপর এতটাই নিপীড়ন চালাতো যে ঐ সময় সিলেট থেকে অনেক ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ দেখা দেয়। (https://goo.gl/d73z7j)

আসলে এই তারাপুর চা বাগানের আগের নাম ছিলো স্টার টি গার্ডেন এবং সেটা ছিলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জনসন অ্যান্ড কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। (http://goo.gl/t4Dmje)


এবার আসি বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তর বিষয়ে, যে ব্রিটিশদের থেকে জমিটা ক্রয় করেছিলো সে কেমন ছিলো??

আসামের গৌহাটি আদালতের একটি রায়ের আদেশনামা থেকে জানা যাচ্ছে বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত (বিসি গুপ্ত) ছিলো ব্রিটিশদের কর্মচারি। সে স্টার টি বাগানের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। (https://goo.gl/MxhJTG)

অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলকৃত জমি কোম্পানির ডেপুটি কালেকটর সি কে হাডসন তার আজ্ঞাবহ কর্মচারি বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তকে জালিয়াতি করে দিয়ে যায়।

বাংলাদেশে সুপ্রীম কোর্ট থেকে বিচারপতি এসকে সিনহা যে রায় দিয়েছে (http://goo.gl/6t4HZO) সেখানে সরাসরি বলা আছে - তারাপুর চা বাগানের মালিক সি কে হাডসন।

অথচ সি কে হাডসন তো আসমান থেকে জমির মালিক হয়নি। হাডসনের পরিচয় বা সে কিভাবে জমিটা পেলো সে সম্পর্কে কোন পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, বরং রায়ের মধ্যে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

এখন আমার কথা হচ্ছে-
তারাপুর চা বাগানের সাড়ে তিন হাজার পরিবার যদি রাগীব আলীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করে অন্যায় করে থাকে, তবে ব্রিটিশ কর্মচারি বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত খাজনা আদায়কারী সি কে হাডসনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ভুল করেছিলো কি না ?


আর যে জমি সিলেটবাসীর থেকে অনৈতিকভাবে দখল করা হয়, সেই জমি মন্দিরের জন্য দান করা ঠিক হলো কি না ?? দেখি কি উত্তর পাই।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: