8.10.2016

দ্বীন ইসলাম কে বুঝতে হলে মাজহাবের ইমাম মুস্তাহিদদের অনুসরণ করতে হবে সেটা পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত

দ্বীন ইসলাম কে বুঝতে হলে মাজহাবের ইমাম মুস্তাহিদদের অনুসরণ করতে হবে সেটা পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত

যেমনঃ পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে বলা হয়েছে, "আমাদেরকে সরল পথ দান করুন" (সূরা ফাতিহা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৬)পরবর্তী আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি সরল পথের বর্ণনা দিতে গিয়ে বললেন, "সেই সমস্থ লোকের পথ যাদের নিয়ামত দেয়া হয়েছে সেই পথ" (সূরা ফাতিহা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৭)

প্রশ্ন চলে আসে তাহলে কাদের নিয়ামত দেয়া হয়েছে? এর জবাব ও মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে দিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে, "নিয়ামত দেয়া হয়েছে নবী আলাইহিমুস সালাম, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের। (সূরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৬৯)

এখনতো নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পাওয়া যাবে না, সূতরাং নিয়ামতের জন্য সলেহীন বা নেককার বান্দা উনাদের অনুসরণ করতে হবে

সেটাও মহান আল্লাহ পাক তিনি জোরালো ভাবে বলে দিয়েছেনঃ হে ঈমানদারগন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করোআর সত্যবাদীদের সঙ্গী হয়ে যাও। (সূরা তাওবা শরীফঃ আয়াত শরিফ ১১৯)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলে দিয়েছেন, "ঐ ব্যাক্তির পথ অনুসরণ করো যে আমার দিকে রুজু হয়েছে । (সূরা লোকমান শরীফঃ আয়াত শরিফ ১৫)

উক্ত আয়াত শরীফ থেকে প্রমান হলো নিয়ামত পেতে হলে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি পেতে হলে সলেহীন, সাদ্বেকীন বান্দা উনাদেরকেই অনুসরণ করতে হবেউনাদের অনুসরণ বা একতেদা না করলে হিদায়েতই পাওয়া যাবে নাকারন মহান আল্লাহ পাক বলেন, "উনাদেরকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি হিদায়েত দান করেছেনসূতরাং উনাদের হেদায়েতেরই ইকতেদা বা অনুসরণ করো।" (সূরা আনআ'ম শরীফঃ আয়াত শরিফ ৯০)

হেদায়েতের অনুসরণ করতে গেলে মাজহাবের ইমাম মুস্তাহিদদের দেখানো পথের বিকল্প আছে কি?

মহান আল্লাহ পাক এসকল উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগনের সাথে গভীর ভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে বলেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

"আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে উনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যিকির করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন নাযার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।" (সূরা কাহাফ শরীফঃ আয়াত শরিফ ২৮)

যেসকল মহান ব্যাক্তিগন নিজেদের মহান আল্লাহ পাক উনার জিকিরে মশগুল রেখে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন তাদের সাথে নিজেদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছেএবং যেসকল লোক শরীয়তের খিলাপ কাজ করে যেমন জাকির নায়েক সহ অসংখ্য সালাফী ওহাবীরা তাদের অনুসরন থেকে দূরেও থাকতে বলেছেন কারন তারা কখনোই জিকির আজকার নিজে করেনা অন্যকেও করার জন্য তাগিদ দেয়না

সাধারণ মানুষতো অনেক কিছুই জানে না বোঝে না তারা কি করবে? তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক বলে দিয়েছেন, তোমরা যারা জানো না তারা আহলে জিকিরদের থেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।" অর্থাৎ যারা জ্ঞানি এবং নিজেদের মহান আল্লাহ পাক উনার জিকিরে মশগুল রাখে। (সূরা আম্বিয়া শরীফঃ আয়াত শরিফ ৭, সূরা নহল শরীফঃ আয়াত শরিফ ৪৩)

যারা জানে না তাদের এখানে বাংলা অনুবাদ পড়ে মুফতী সেজে ফতোয়া দিতে নিষেধ করা হয়েছে, বরং তাদের কর্তব্য হচ্ছে জ্ঞানীদের কাছ থেকে জেনে নেয়া

আর এ কারনে বারবার তাকিদ দেয়া হয়েছে অনুসরন করার জন্য মহান আল্লাহ পাক বলেন, হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো, আনুগত্য করো রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এবং যারা উলিল আমর (উলামায়ে কিরাম) তাদের আনুগত্য করো। ( সূরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৫৯)

কিন্তু অবুঝ ব্রেইনওয়াশ সালাফীরা তা না করে নিজেরাই মাসায়ালা খুঁজতে যায়ফলে নিজেরাও বিভ্রান্ত হয় অন্যকেও বিভ্রান্ত করেআর এমনটি করতে নিষেধ করে উলিল আমর অর্থাৎ ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের সরনাপন্ন হতে আদেশ করেছেন মহান আল্লাহ পাককালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়, "আর যখন তাদের কছে কোনো সংবাদ পৌঁছে শান্তি সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়আর যদি তারা সেগুলো পেশ করতো রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কিংবা তাদের উলিল আমর বা উলামায়ে কিরামগনের নিকট, তাহলে অনুসন্ধান করে দেখা যেতো সেসব বিষয়, যা তাতে রয়েছে অনুসন্ধান করার মতো।" (সূরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৮৩)

উক্ত আয়াত শরীফ থেকে বোঝা গেলো কোন বিষয় যদি এমন এসে পড়ে যেটা জটিল সেক্ষেত্রে ইমামদের নিকট পেশ করতে হবেউনারা উনাদের ইস্তেহাদী অসাধারণ ইলিম দ্বারা অনুসন্ধান করে সঠিক ফয়সালা দিয়ে দিবেন

তাহলে কি করে তাকলিদের বিরোধীতা করা সম্ভব? কি করে মাযহাবের বিরোধীতা সম্ভব? মহান আল্লাহ পাক তিনিতো নিজেই অনুসরণ করতে বলেছেন, ইমামদের নিকট সরনাপন্ন হতে বলেছেনআর সেটা হতেই হবে, কারন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, "সেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো।" (সূরা বনী ইসরাইল শরীফঃ আয়াত শরিফ ৭১)

যারা লা'মাযহাব, যাদের কোন ইমাম নেই তাদের কি পরিনাম হবে সেদিন ?  তারা কি সেদিন ইবলিশের সাথে উঠবে যার কোনো ইমাম নেই?

এসব লা'মাযহাবী খারেজী সালাফীদের সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, " যে ব্যাক্তি মারা গেলো, অথচ তার গলায় বাইয়াতের বন্ধন রইলো না, সে জাহিলিয়াতের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলো।" (মিশকাত শরীফ- কিতাবুল ইমারাত- ফচ্ছুল আউয়াল)

এদেরকে এত দলীল দিয়ে বলা হয় কিন্তু তারা বোঝেনা মানেনা কি কারনে জানেন? কারন মহান আল্লাহ পাক তিনি এদের অবস্থান সম্পর্কে ক্লিয়ার করেই বলেছেনঃ অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা (সালাফীরা) বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! (আল্লাহ পাক বলেন) মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।" (সূরা বাকারা শরীফঃ আয়াত শরিফ ১৩)


মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের হক্ব বোঝার, মানার, মেনে আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: