9.01.2016

কুরবানী হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র গরিব জনগোষ্ঠী বিরাট উপকৃত হয়


কথিত মানবতাবাদীরা সব সময় মানুষ মানুষের জন্য বলে মুখে ফেনাতুলে, অথচ কোরবানীর বিরুদ্ধে বলে, অপপ্রচার করে, বাধা দেওয়া চেষ্টা করে, কোরবানীকে কষ্টসাধ্য করতে প্ররোচনা চালায়। অথচ কোরবানী হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম, যার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও গ্রামীন জনগোষ্ঠী বিরাট উপকৃত হয়। যেমনঃ

১) গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষক/রাখাল যদি সারা বছর একটি গরু পালন করে, তবে সে গরুটি কোরবানীর হাটে বিক্রি করে সে ভালো ইনকাম করতে সক্ষম। দেখা যায় প্রতি গরু বাবদ যে টাকা (৩০-৪০ হাজার) পাওয়া যায় তা দিয়ে একটি গ্রামীন কৃষক পরিবারের সারা বছরের জন্য একটি বড় যোগান হয়। দেখা যায় প্রতি বছর কোরবানী ঈদে প্রায় ৭০ লক্ষ গরুর প্রয়োজন হয়। তাই গড় হিসেব করলে ৭০ লক্ষ গরু দিয়ে ৭০ লক্ষ গ্রামীন কৃষক/রাখাল পরিবারের (প্রায় ৪ কোটি জনগণ) আর্থিক অবস্থা সচ্ছল করা সম্ভব। এছাড়া কোরবানী উপলক্ষে ৩০ লক্ষ ছাগলের প্রয়োজন হয়। সেটাও গ্রামীন জনগোষ্ঠীর আর্থিক যোগানে মারাত্মক প্রভাব ফেলে থাকে।

২) কোরবানীর গোশত কিন্তু সমাজের ধনী শ্রেনী নিজের ঘরে আটকে রাখে না, ৩ ভাগের ১ ভাগ বিলি করে দেয়। ধরুন প্রতি বছর ৭০ লক্ষ গরু কোরবানী হয় এবং প্রতি গরুর ওজন যদি কমকরে গড়ে আড়াই মন বা ১০০ কেজি হয়, তাহলে মোট গোশত হয় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মন এবং তার তিন ভাগের এক ভাগ প্রায় ৫৮ লক্ষ মন গরুর গোশত ঈদ উপলক্ষে বিলি হয়। আর প্রতি কেজি মাংশের দাম ৪০০ টাকা করে ধরলে কোরবানী ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার গরুর গোশত দরিদ্রদের মাঝে বিলি হয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোরবানী ঈদ আসলে শুধু গোশতকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ধনী থেকে দরিদ্রদের কাছে আসছে। তাই কোরবানীর সংখ্যা যত বৃদ্ধি করা যাবে দরিদ্রদের ততই উপকার।

৩) কোরবানী ঈদ উপলক্ষে গরু বা ছাগল কাটাকুটি করতে কসাইয়ের খরচ লাগে। প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এত বিশাল এমাউন্টের টাকাও কিন্তু ধনী শ্রেনীর থেকে দরিদ্র শ্রেনীর পকেটে ঢুকছে। তাই কোরবানীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে দরিদ্র শ্রেণীর আরো উপকার হবে।

৪) হাটের ইজারা যদিও ধনী শ্রেনী নেয়, কিন্তু সেই হাটে কাজ করে হাজার হাজার দরিদ্র লোক। প্রতি বছর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ দরিদ্রের কর্মসংস্থান হয়। হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে আরো মানুষের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

৫) কোরানী ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর খাদ্য- ভূসি, কাঠাল পাতা, খড় ইত্যাদির বিজনেস ব্যাপক জমে ওঠে। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র শ্রেনী খুবই উপকৃত হয়।

৬) কোরবানী ঈদকে উপলক্ষ্য করে চাটাই, গোশত কোপানোর খাইট্টা, ছুরি-চাপাতি ‍উৎপাদন করাকে কেন্দ্র করেও অনেক দরিদ্র মানুষ লাভবান হয়।

৭) কোরবানী ঈদে চামড়া বিক্রয়ের মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এই পুরো টাকাটাই চলে যায় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র শ্রেনীর কাছে।

কোরবানী ঈদকে উপলক্ষ্য করে ধনী শ্রেণীর পকেট থেকে কত উপায়ে টাকা দরিদ্র শ্রেণীর পকেটে ঢুকে তার হিসেব মেলানো যাবে না। তবে এখানে একটি চিন্তার খোরাক আছে বাংলাদেশীদের জন্য। যেমন ধরুন, সৌদী আররেব একটি বড় ইনকাম হচ্ছে হজ্জ থেকে প্রাপ্ত টাকা, সেই টাকা তাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সউদীর সাথে তুলনা না হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এ কোরবানী। বিশেষ করে কোরবানী কারণে পরিবর্তিত হতে পারে গ্রামীন দরিদ্র শ্রেনীর ভাগ্য। তবে এর জন্য কয়েকটি কাজ করতে হবে-

ক) গ্রামীন জনগোষ্ঠীকে প্রচুর পরিমাণে গরু/ছাগল উদপাদনে উৎসাহ/সহায়তা দিতে হবে। বিদেশ থেকে আমদানী ছাড়তে হবে, নিজ দেশের গরু/ছাগল দিয়ে চাহিদা মিটাতে হবে। সোজা ভাষায়, নিজের টাকায় নিজ দেশেই রাখতে হবে।

খ) ধনী শ্রেনী যেন প্রচুর পরিমাণে কোরবানী দেয় সে জন্য উৎসাহ দিতে হবে। ধর্ম প্রচারকরা প্রচুর গরু/ছাগল কোরবানী করতে ধনী শ্রেণীকে উৎসাহ দিবে।

গ) কোরবানীর পশু সহজলভ্য করতে হবে, দোকান থেকে চাল/ডাল কেনা যত সহজ কোরবানীর পশুকে তত সহজলভ্য করতে হবে। হাটের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা যাবে না।

ঘ) কোরবানী জবাইয়ের বিষয়টিও সহজলভ্য করতে হবে, কোন স্থান নির্দ্দিষ্টকরণ করা যাবে না। সোজা ভাষায় এমন কিছু করা যাবে না, যাতে মানুষ কোরবানী বিমুখ হয়।

ঙ) কোরবানী বিরোধী কোন ফালতু অপপ্রচার (অ্যানথ্রাক্স, মোটাতাজা) করা যাবে না, যারা করছে তাদের শাস্তি দিতে হবে।

আমি আবার বলছি, এক কোরবানীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিবর্তন করে ফেলা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সদিচ্ছা, ব্যস সেটাই যথেষ্ট।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: