9.01.2016

যাদের একা কুরবানী দেওয়ার ক্ষমতা নাই কিন্তু ইচ্ছা আছে তারা কি করবে?


কুরবানী করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যারা সামর্থ না থাকায় কুরবানী করতে পারেন না তাদের কুরবানী করার উপায়ঃ যে সকল লোক এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় অথচ তারা কিছু লোক মিলে পশু কিনে যবেহ করে গোশত বণ্টন করে অথবা হাটবাজার থেকে গোশত কিনে খেয়ে থাকে। এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে। এ সকল ব্যক্তিদের করণীয় হচ্ছেঃ-
তারা হাটবাজার থেকে গোশত না কিনে বরং কিছু লোক মিলে কুরবানীর পশু কিনে এক বা একাধিক নামে কুরবানী করতে পারে।

যেহেতু কুরবানীর পশু উট, গরু ও মহিষে ৭ নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসীতে ১ নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।

তাই যদি ৪০ জন ব্যক্তি মিলে ১টি উট, গরু বা মহিষ কিনে ৭ নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে।

তদ্রুপ ১টি খাসী তিনজনে মিলে খরীদ করে, যদি ১ নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানীও শুদ্ধ হবে।

তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরণের কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে কুরবানী দিয়ে কুরবানীর ফযীলত হাছিল করতে। আর উট, গরু ও মহিষে সাত নামের বেশি এবং দুম্বা, ছাগল ও ভেড়াতে এক নামের বেশি দেয়া যায় না। কার নাম দিবে বা কার নাম বাদ দিবে, এ নিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হবে।

এছাড়াও যদি কারো পক্ষ থেকে দেয়া হয়, অন্য কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি না করলেও অন্তরে সম্মতি না থাকে তাহলে কুরবানী শুদ্ধ হবেনা। কারণ একজনের টাকা দিয়ে অন্যজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবেনা টাকাওয়ালার সম্মতি ব্যতিত।

সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে উত্তম তরীক্বা ও আদব হচ্ছে, যদি কুরবানীর পশু এক নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, নাযাত সর্বপোরি মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের খাছ সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার উসীলাও হবে।

যে সকল প্রাণীতে সাত নামে কুরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে প্রথমতঃ এক নাম মহান আল্লাহ পাক-উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে এবং বাকী ছয় নাম পর্যায়ক্রমে

- হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালামদের পক্ষ থেকে,
- হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে।
- হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামদের পক্ষ থেকে।
এছাড়াও
- হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।
- হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।
- হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম।
- হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম।
- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। ও
- হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম।
উনাদের পক্ষ থেকে ইচ্ছে মুতাবিক কুরবানী দিতে পারে।

তাহলে এতে কোন ফিৎনা পয়দা হবেনা, সাথে সাথে কুরবানীর দিন মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে- কুরবানী করা, তাও আদায় হলো। আর কুরবানীর বরকতময় গোশতও লাভ হলো। সাথে সাথে গুণাহর কাজ থেকেও বেঁচে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে যে সকল প্রাণীতে ১ জনের নাম দেয়া যায়, সেক্ষেত্রেও উপরোক্ত নিয়মে উনাদের যে কোনজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করে শরীকদাতারা সমভাবে গোশত বন্টন করে দিতে পারেন।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে কুরবানীর দিন উনার প্রিয় আমল কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: