9.20.2016

সম্পদশালী মুসলিম এবং ফেসবুকের লাইক কমেন্ট শেয়ারকারি মুসলিমের আখেরাতের ফলাফল



হে নিজেকে মুসলিম দাবিকারি সম্পদশালী বিত্তবান মুসলমান। হে আপনাকেই বলছি আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন? আজকে কিছু কথা অবশ্যই আপনাকে শুনতে হবে ইচ্ছা না থাকলেও যদি আপনি মুসলিম হোন তাহলে ঈমানের দাবিতে আপনাকে ভাই হিসেবে বলছি আপনি শুনুন।

আপনার যে সম্পদ, কোটি কোটি টাকা মহান আল্লাহ পাক তিনি ফি সাবিলিল্লাহ দান করেছেন আপনাকে, কিন্তু বিনিময়ে আপনি কয় টাকা আপনার মহান মালিক আপনার একমাত্র স্রষ্টা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্থায় খরচ করছেন? আমি আপনাকে আপনার জাকাতের টাকার বিষয়ে বলিনি ওটাতো আপনার উপর ফরজ তা আদায় না করলে আপনি কাফের হয়ে যাবেন, আপনার সমস্থ ইবাদত বাতিল হবে, আমি বলছি পবিত্র দিন ইসলাম কে ধ্বংস করার জন্য কাফের মুশরেক ইহুদি নাসারা যে প্রতিনিয়ত প্রতি মুহূর্তে তাদের সর্বস্ব দিয়ে জান মাল টাকা দিয়েও ইসলাম কে প্রতিহত করে যাচ্ছে তার প্রতিউত্তরে আপনি কয়টি টাকা খরচ করেছেন? করছেন? করবেন?

হে আপনাকেই বলছি যিনি সম্পদের পাহাড় বানিয়ে দুনিয়া ছাড়বেন সন্তান সন্ততি পরিবার পরিজনের জন্যে অথচ মহান আল্লাহ পাক বলছেনঃ (وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ) আর জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের অকল্যাণের সম্মুখীনকারী ব্যতিত কিছুই না। বস্তুতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটই রয়েছে মহা সওয়াব।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ৮ আনফাল শরীফঃ আয়াত শরীফ ২৮]

অথচ আপনি ইসলামের জন্য, কাফের মুশরেক ইহুদি নাসারাদের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের জন্যে একটি ডলার ও খরচ করতে ইচ্ছুক না কিন্তু আপনার জানা উচিত তারা কিন্তু আপনার মতো না যদিও তারা ঈমানদার না কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত আপনার ধর্মের অনিষ্টের জন্য খরচ করেই যাচ্ছে যা আমরা আমেরিকা, ইসরায়েল, ভারত, রাশিয়া, ব্রিটেনের দিকে তাকালেই দেখতে পাই আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলেই দিয়েছেনঃ (إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ ۗ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ) নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের যারা নিজেদের ধন-সম্পদ কে ব্যয় করে, যাতে করে বাধাদান করতে পারে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্থায় (অর্থাৎ দ্বিন ইসলাম কে বাধাদান করতে)। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফের তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ৮ আনফাল শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩৬]

অথচ আপনি কি করছেন? সম্পদ কে আঁকড়ে ধরে আছেন? মহান আল্লাহ পাক উনার কথা না শোনতেছেন, না জানার চেষ্টা করছেন আবার অনেকে শুনে থাকলেও মানতেছেন না, কিন্তু আপনি জানেন না আপনি কাদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন? যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেনঃ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ) হে ঈমানদারগণ, মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবিব নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মান্য করো এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনেনা।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ৮ আনফাল শরীফঃ আয়াত শরীফ ২০-২১)

আপনারা যারা এই লিখাটি পড়ছেন তারা যদি বিত্তবান সম্পদশালী মুসলমান হোন তাহলে আপনাকেই বলছি আপনার জানা হয়ে গেছে যে দিন রাত সম্পদের পিছনে ছুটে যাদের জন্য আপনি সম্পদ বানাচ্ছেন সেই সম্পদ সহ ঐ সমস্থ স্ত্রি সন্তান আপনার জন্য কোনো কল্যানকর কিছুই না যদি তারা ইসলামের জন্য বাধা হয়ে দারায় অর্থাৎ তাদের কারনে যদি আপনি দ্বিন ইসলামের পথে খরচ করতে বিমুখ হয়ে যান তাই যদি আপনি মুসলিম হোন, নিজেকে ইমানদার মনে করেন, যদি মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম পালনের খাস নিয়তেঃ নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ্জ পালন করেন তাহলে আজকে থেকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করুনঃ যে আপনার অর্জিত সম্পদের একটা অংশ আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্থায় তাদের বিপক্ষে খরচ করবেন যারা নিজেদের সম্পদ খরচ করে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্থায় তথা দিন ইসলামের ক্ষতি করতে লিপ্ত।

কিভাবে খরচ করবেন?

বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি খুব জরুরি তা হলো মুসলমানদের এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা কিন্তু এই এক করার যে অন্যতম মাধ্যম মিডিয়া তার প্রায় ৯৫% হলো ইহুদি নাসারা খ্রিষ্টান কাফের মুশরিকদের দখলে তাই সঠিক কোনো খবর মুসলিমদের সম্মুখেই আসেনা প্রায় যার কারনে আপনার অবস্থান অনুযায়ি মুসলিমদের জন্য একটি শক্তিশালি মিডিয়া সৃষ্টি করা আপনার উপর প্রায় ফরজ হয়ে গেছে, আপনি যদি এমন সম্পদশালী হোন যে একটি জাতিও পত্রিকা আপনি চলানোর মতো ক্ষমতা রাখেন তাহলে একটি প্রিন্ট মিডিয়া তৈরি করুন, যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল করুন, যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে একটি বড়সড় ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপ তৈরি করুন যেখানে টপিক হিসেবে শুধুই থাকবে ইসলাম, মুসলিম নির্যাতন, এবং কলমের প্রতিবাদ। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে আপনার জ্ঞান খাটিয়ে দেখুন অনলাইনে কারা নিজেকে সেলিব্রিটি বানাতে না এসে শুধুই ইসলামের জন্যে লিখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত অথচ তাদের লিখা তেমন ছড়াচ্ছে না তুলনামূলক ভাবে তাদের আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করুন যেনো কাফের মুশরেকদের বিরুদ্ধে করা তাদের প্রতিটি পোষ্ট তারা বোষ্ট করে পোষ্ট করতে পারে যাতেকরে দ্রুত তা সমস্থ মুসলমানদের সম্মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই সম্মিলিত প্রতিবাদ করতে পারে। যদিও সেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে সেইসব কলম সৈনিকদের লিখাগুলো খুজে খুজে আপনার ওয়ালে শেয়ার করুন, তাদের প্রত্যেক পোষ্টে লাইক দিন কমেন্ট করুন এবং ভিবিন্ন গ্রুপে শেয়ার করে অন্তত ইসলামের খেদমত করেন কারন মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ হে মুসলমানগণ (وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ) তোমরা নেকি এবং পরহেজগারিতায় একে অন্যের সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার শাস্তি বড় মারাত্বক বা খুবই কঠিন।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ৫ সূরা মায়েদা শরীফ, আয়াত শরীফ ২]

অথচ আপনি একটি ইসলামিক পোষ্ট দেখলে এড়িয়ে যান, আপনি ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতিবাদে করা পোষ্ট গুলো তে লাইক দিতে কমেন্ট করতে শেয়ার করে অন্যকে জানাতে ভয় পান অনেকে নারাজ হোন অথচ এই আপ্নিই নায়িকাদের পোষ্টে, সেক্সি হট ইসলাম বিদ্বেষী পোষ্টে, ফালতু সেলিব্রিটি সহ ফালতু খেলাধুলার পোষ্ট হরদম লাইক কমেন্ট শেয়ার করছেন খুজে খুজে অথচ আপনি ভুলে গেছেন মহান আল্লাহ পাক আমাদের ডান এবং বাম কাঁধে দুইজন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আমাদের জন্ম থেকে ম্রিত্যু পর্যন্ত নিয়োগ করে রেখেছেন যারা আমাদের প্রতি মুহূর্তের কাজ কর্ম কে লিপিবদ্ব করে যাচ্ছেন অনবরত আপনার আমার করা লাইক কমেন্ট শেয়ার গুলও কিন্তু মিস যাচ্ছেনা, আপনি নিজেও জানেন না যে একটি বাজে পোষ্ট বাজে মেয়ের ছবিতে আপনার একটি লাইকের কারনে আপনার লিস্টের হাজার হাজার ফ্রেন্ডের চোখের জিনার মনের জিনার দায়ভার গুনাহগুলো আপনার আপনি যদিও মনে করেন বাজে ছবিতে লাইক দিলে ফেসবুকের লাইক কমেন্ট কি আর ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম রা লিপিবদ্ধ করছেন কিন্তু না আমন ধারনে ভুলেও করবেন না একটি লাইকের বিনিময়ে করা গুনাহ ই যথেষ্ট আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে কারন আগেই বলেছি আপনার প্রতি মুহূর্তের কাজ লিপিবদ্ব হচ্ছে যেমন মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا) আর সেদিন(রোজ কিয়ামতের) তাদের আমলনামা তাদের সম্মুখে রাখা হবে। তাতে যা কিছু আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি যা আমি করেছি, সমস্থ সবকিছুই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে তাদের সম্মুখে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ১৮ সূরা কাহফ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৪৯]।

বুঝতে পেরেছেন আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি? আজকে এই মুহূর্ত থেকে আপনি ইসলামিক একটি পোষ্ট আপনার সম্মুখে এলে ভুলেও তা ইগনোর করবেন না এবং ভুল করেও একটি পোষ্ট ও লাইক কমেন্ট করবেন না যা অনইস্লামিক যেমনঃ মেয়েদের ছবি তা ভালো মেয়ে হোক বা বাজে মেয়ে যারা নিজেদের রূপ কে প্রদর্শনের জন্য অনলাইনে ছবি পোষ্ট করে একিই বিষয় ছেলেদের ছবির বেলায়ও, খেলাধুলার পোষ্ট বা খেলোয়াড়দের ছবি বা পোষ্ট কারন আপনার জানা উচিত মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَـٰعِبِينَ لَوْ أَرَدْنَآ أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًۭا لَّٱتَّخَذْنَـٰهُ مِن لَّدُنَّآ إِن كُنَّا فَـٰعِلِينَ بَلْ نَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَى ٱلْبَـٰطِلِ فَيَدْمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌۭ ۚ وَلَكُمُ ٱلْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ) আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি খেলাধুলার ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি খেলাধুলার উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত। বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা বলছো, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।
সূত্রঃ আল কুরআন [সূরা ২১ আল-আম্বিয়া শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৬-১৮]

তাই খেলাধুলার পোষ্ট বা খেলোয়াড়দের ছবি বাই এই রিলেটেড বিষয় ইগ্নোর করবেন সর্বচ্ছো ঈমানি শক্তি দিয়ে।

যাইহোক এতক্ষন আপনারা কষ্ট করে ধর‍্য ধরে পোষ্ট পড়েছেন কিন্তু আমি যা বোঝাতে চেয়েছি তা কি বুঝতে পেরেছেন? কমেন্টে অবশ্যই বলবেন।

সবাইকে ধন্যবাদ।

বিদ্রঃ আমি তাদের কাছে দুষমন যারা মুসলিম হয়েও কুরআন সুন্নাহর অনুসারি না, এবং তারাও আমার দুষমন যারা কুরআন সুন্নাহর বিরধিতা করে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: