9.10.2016

ভারতের হরিয়ানায় জোড়া খুন ও গণধর্ষণ অভিযুক্তদের একজন আরএসএস সদস্য অপরজন মোদি ভক্ত


ভারতে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা আর নির্যাতন এখন বেড়েই চলেছে এবং দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি দ্বারা বপিত ঘৃণার বীজ আজ ফল দিচ্ছে দেশজুড়ে। এরই সাম্প্রতিক উদাহরণ গত ২৪ শে আগস্ট ভারতের হরিয়ানার মেওয়াতে নিরিও দুই মুসলিম নারীকে খুন এবং গণধর্ষণ করা হয়েছে। রাতের বেলা বাড়িতে ঢুকে এরূপ নৃশংসতা সাম্প্রতিককালে বিরল। রেহাই পেল না একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মহিলাও।

এখন অবধি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের কারোরই ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই কিন্তু এরা গোরক্ষার নামে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাদা আদায় করতো। দুজনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রমাণিত হয় এরা আরএসএস এবং বিজেপির সাথে যুক্ত ছিল। রাহুল বর্মার ফেসবুক প্রোফাইল অনুযায়ী সে একজন আরএসএস স্বেচ্ছাসেবক। এপ্রিলে সাইনি পুর গ্রামে একটি আরএসএস ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করার পর সে ঐ সংগঠনে যোগদান করে। অন্য অভিযুক্তরাও অমরজিত একজন মুসলমান বিদ্বেষী মোদিভক্ত। ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে রাও তার ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদির একটি ছবি আপলোড করে; সাথে কমেন্ট ছিল মুসলিম তো আব গায়ে” (মুসলিমরা এবার গেলো)।


নরপিশাচগুলি খুন ধর্ষণ করার সময় বারবার বলছিল এবার বকরি ঈদে আর তোরা গরু জবাই করতে পারবি না। তাদের অপরাধ এবং ঐ নিকৃষ্ট কাজ করার সময় মন্তব্য নির্ভুলভাবে তীব্র সাম্প্রদায়িক ঘৃণার দিকে ইঙ্গিত করছে। ধর্ষিতাদের একজন মরে যাওয়ার ভান করে পড়েছিল। সে শুনতে পায় ঐ নরপিশাচদের একজন মোবাইলে কাউকে বলছে চারজনের সবাই খতম। প্রশ্ন উঠছে মেওয়াতে মুসলমানদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখতেই কি ভারতের দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির এহেন নৃশংস হত্যালীলা?


পুলিশি নিস্ক্রিয়তায় কেটে যায় বেশ কয়েকটি দিন। তারপর প্রতিবাদে গর্জে ওঠে মেওয়াতের আম জনতা। অবশেষে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে খট্টর সরকার। 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: