9.01.2016

আসুন জেনে নেই পবিত্র হজ্ব আদায়ের সহীহ্ পদ্ধতি বা নিয়ম অবশ্যই সংগ্রহে রাখবেন

পবিত্র ক্বাবা শরিফ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়। - সুরা আল ইমরানঃ ৯৬। সুবহানাল্লাহ।

আর হাদিস শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে পবিত্র হজ্জের বিনিময় হবে বেহেশতঃ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেনঃ পবিত্র মাবরুর হজ্জের বিনিময় হচ্ছে নিশ্চিত জান্নাত। বুখারি শরিফঃ হাদিস শরিফ ১৭৭৩।

* হজ্বের ফরজ হচ্ছে- ৩টি

(১) ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ মীকাত হতে ইহরাম বাঁধা।
(২) ওকুফে আরাফা অর্থাৎ ৯ই জিলহজ্বের দ্বিপ্রহরের পর হতে অর্থাৎ সূর্য ঢলার পর হতে ১০ই জিলহজ্ব সুব্হে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকা।
(৩) তাওয়াফে জিয়ারত অর্থাৎ ১০, ১১ ও ১২ই জিলহজ্ব তারিখের মধ্যে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা।

* হজ্বের মূল ওয়াজিব ৫টি

(১) সাফা মারওয়া পাহাড়ের সাঈ করা।
(২) মুযদালেফায় অবস্থান।
(৩) রমী বা কঙ্কর নিক্ষেপ করা।
(৪) মাথা মুন্ডন করা।
(৫) তাওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ করা।

* হজ্ব আদায়ের সহীহ্ পদ্ধতি বা নিয়ম

হজ্ব করতে হলে প্রথমে ইহ্রাম বাঁধতে হয়। ইহ্রাম বাঁধা হজ্বের অন্যতম রোকন বা ফরজ। বাংলাদেশ তথা পাক ভারত উপমহাদেশের লোকেরা সাধারণতঃ ইয়েমেন হয়ে হজ্বে গমন করে থাকে। সে হিসেবে তাদের মীক্বাত” (ইহ্রাম বাঁধার স্থান) হচ্ছে- ইয়ালামলাম।
যারা সরাসরি হজ্ব করতে না গিয়ে আগে মদীনা শরীফ গিয়ে সেখানে অবস্থান করার পর হজ্ব আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে, তাদেরকে মদীনা শরীফের অধিবাসীদের মীক্বাত জুলহুলাইফানামক স্থান হতে হজ্বের ইহ্রাম বাঁধতে হবে।

আমাদের হানাফী মাযহাব মোতাবেক তিন প্রকার হজ্বের মধ্যে হজ্বে ক্বিরানহচ্ছে সুন্নত ও আফজল।

ইহ্রাম বাঁধতে হলে প্রথমে ওজু বা গোসল করে নিতে হয়, তবে গোসল করাটাই উত্তম। অতঃপর দুখানা নতুন বা পরিস্কার কাপড় পরিধান করবে। একখানা সেলাইবিহীন ইযার বা লুঙ্গি অপরখানা চাদর। সাথে সুগন্ধি থাকলে মেখে নিবে। অতঃপর দুরাকায়াত নামাজ পড়ে নিম্নের দোয়া পাঠ করবে যা হজ্বে কিরানের নিয়তঃ
اللهم انى اريد الحج والعمرة فيسر همالى وتقبلهما منى.
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ওয়াল ওমরাতা ফাইয়াস্সির-হুমা-লী ওয়া তাক্বাব্বালহুমা মিন্নী।
অর্থঃহে আল্লাহ্ পাক! আমি হজ্ব ও ওমরার নিয়ত করলাম। আমার জন্য উভয়টি সহজ করুন এবং আমার পক্ষ থেকে উভয়টি কবুল করুন।
আর যদি কেউ হজ্বে তামাত্তুর নিয়ত করে তাহলে তাকে প্রথমে ওমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধতে হবে।

ওমরার নিয়তঃ
اللهم انى اريد العمرة فيسر هالى وتقبلها منى.
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি উরীদুল ওমরাতা ফা ইয়াস্সির-হা-লী ওয়া তাক্বাব্বাল্হা মিন্নী।
অর্থঃ- হে আল্লাহ্ পাক! আমি ওমরা করার নিয়ত করছি। অতঃপর তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তা আমার তরফ থেকে কবুল করে নিন।
আর যদি কেউ হজ্বে ইফরাদের নিয়ত করে তাহলে তাকে শুধু হজ্বের নিয়ত করতে হবে। হজ্বের নিয়তঃ
اللهم انى اريد الحج فيسره لى وتقبله منى
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি উরীদুল হাজ্জ্বা ফাইয়াস্সিরহুলী ওয়া তাক্বাব্বাল্হু মিন্নী।
অর্থঃ- হে আল্লাহ্ পাক! নিশ্চয়ই আমি শুধু হজ্ব করার নিয়ত করছি। সুতরাং আপনি আমার জন্য তা পালন করা সহজ করুন এবং আমার পক্ষ হতে কবুল করুন।
অতঃপর তালবিয়া পাঠ করবে। তালবিয়া হচ্ছে-
لبيك اللهم لبيك لبيك لاشريك لك لبيك ان الحمد والنعمة لك والملك لاشريك لك.
উচ্চারণঃ- লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা লাব্বাইকা লা- শারীকালাকা লাব্বাইকা ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্ নিমাতা লাকা ওয়াল মুল্কা লা- শারীকালাকা।
অর্থঃ- আমি হাজির আছি হে আল্লাহ্ পাক! আমি হাজির আছি। আমি হাজির আছি, আপনার কোন শরীক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও সমস্ত নেয়ামত এবং সমস্ত রাজত্ব আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই।
এ তালবিয়ার কোন শব্দ বাদ দেয়া যাবেনা। ইচ্ছা করলে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আর তালবিয়া পাঠ করা হলেই ইহ্রাম বাঁধা হয়ে গেল।

ইহ্রাম বেঁধে মক্কা শরীফ প্রবেশ করেই তাওয়াফের দ্বারাই কাজ শুরু করতে হবে। অর্থাৎ কাবা শরীফ ৭ বার প্রদক্ষিণ করে তাওয়াফের কাজ সমাধা করতে হবে।

* তাওয়াফের নিয়মঃ তাওয়াফের নিয়তের সহিত ওযু-গোসল করে কাবা শরীফের হজ্বরে আসওয়াদের ঠিক বরাবর দাঁড়িয়ে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করে আর ভীড়ের জন্য চুম্বন করতে না পারলে ইস্তেলাম (হাতে ইশারা করে চুম্বন করা) করে তাওয়াফ শুরু করবে।

(উল্লেখ্য, হজরে আসওয়াদ থেকে সামনে বেড়ে তাওয়াফ শুরু করলে তাওয়াফ শুদ্ধ হবেনা। আর তাওয়াফকালীন শুধুমাত্র হজরে আসওয়াদ চুম্বন করার সময় মুখ কাবা শরীফের দিকে থাকবে, অন্যসময় মুখ সামনের দিকে থাকবে। আর বাইতুল্লাহ্ শরীফ বাম পার্শ্বে থাকবে। তাওয়াফের সময় মুখ বা পিঠ ক্বাবা শরীফের দিকে থাকলে তাওয়াফ শুদ্ধ হবেনা।)

পর্যায়ক্রমে হজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে মুলতাযিম এরপর বাইতুল্লাহ্ শরীফের দরজা, রুকনে ইরাকী হয়ে হাতিমের বাইর দিয়ে পর্যায়ক্রমে রুকনে শামী, রুকনে ইয়ামেন হয়ে এরপর হজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌঁছলে এক চক্কর সমাধা হলো। অতঃপর হজরে আসওয়াদ চুম্বন করবে। ভীড়ের কারণে চুম্বন করতে না পারলে ইস্তেলাম করবে। পুণরায় হজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফের দ্বিতীয় চক্কর শুরু করবে। প্রত্যেক চক্করের সময় খেয়াল রাখতে হবে, তাওয়াফকারী যেন কোন চক্করের সময়ই হজরে আসওয়াদ থেকে সামনে বেড়ে তাওয়াফ শুরু না করে।

তাওয়াফের মধ্যে প্রথম তিন চক্কর রমল (হাত বাঁকা করে বুক পর্যন্ত উঠিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে বীরের ন্যায় মধ্য গতিতে দৌড়ানোকে রমল বলে) ও শেষ চার চক্কর মাশী (সাধারণ গতিতে চলাকে মাশী বলে।) করবে।

তাওয়াফ সমাধা করে ছাফা মাওয়াতে সাঈ (দৌড়ানো) করবে। এ সমস্ত কাজগুলি ওমরার। অর্থাৎ ওমরাহ্ সমাধা হলো।

যদি কেউ হজ্বে তামাত্তুর নিয়ত করে থাকে তাহলে চুল মুন্ডন করে ইহরাম ছেড়ে দিবে। অতঃপর তামাত্তুকারী ৮ই জিলহজ্ব হেরেম শরীফের সীমানা অন্তর্ভূক্ত কোন এক স্থান থেকে হজ্বের জন্য ইহ্রাম বেঁধে নিবে। এরপর যথারীতি হজের আহকামসমূহ পালন করবে। তামাত্তুকারীও যদি হজের পূর্বে নফল তাওয়াফ করে তার মধ্যে রমল, ইজতেবা আদায় করে এবং এরপর সাঈ করে তাহলে তামাত্তুকারীকেও তাওয়াফে যিয়ারতের মধ্যে রমল, ইজতেবা ও এরপর সাঈ করতে হবেনা। অতঃপর হজ্বের জন্য যথারীতি হজ্বে ইফরাদের মত তাওয়াফে কুদুম করতে হবে।

ক্বিরানকারী তাওয়াফে কুদুম করার সময় রমল ও ইজতেবার সহিত তাওয়াফ করবে। অতঃপর সাফা ও মারওয়া সাঈ করবে। তাহলে তাওয়াফে যিয়ারতের সময় রমল ও ইজতেবা ও পরে সাঈ করতে হবেনা।

হজ্বে ইফরাদকারী যদি তাওয়াফে কুদুমের মধ্যে রমল, ইজতেবা ও সাঈ করে তাহলে তাওয়াফে যিয়ারতের মধ্যে রমল, ইজতেবা ও এরপর সাঈ করতে হবেনা। তবে ইফরাদ হজ্বে তাওয়াফে যিয়ারতের পর সাঈ করা উত্তম।

তাওয়াফ শুরু করার পূর্বে ইজতেবা করতে হবে। অর্থাৎ ইজতেবা হলো- চাদরকে ডান বগলের নীচে দিয়ে ও বাম কাঁধের উপর দিয়ে পরবে যাতে ডান কাঁধ খোলা থাকে এবং বাম কাঁধ ঢাকা থাকে।

উল্লেখ্য, প্রতিবার তাওয়াফ করার সময় হাতীমের বাইর দিয়ে তাওয়াফ করতে হবে। হাতীম হলো- কবা শরীফের উত্তর পার্শ্বে দুদিক খোলা কমর পর্যন্ত উঁচু দেয়াল দ্বারা ঘেরা স্থান। তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্কর রমল করবে ও শেষ চার চক্কর মাশী করবে। তাওয়াফ করাকালীন প্রত্যেকবারই হজরে আসওয়াদের নিকট আসলে উহাকে চুম্বন করবে অথবা হাতে ইস্তেলাম করবে। ইস্তেলাম হলো- হাতে ইশারা করে চুম্বন করা। শেষবার চুম্বন বা ইস্তেলাম করে তাওয়াফ সমাধা করবে। অতঃপর মাকামে ইব্রাহীমে এসে দুরাকায়াত নামাজ আদায় করবে। যদি ভীড় বা অন্য কোন কারণে সেখানে নামাজ পড়া সম্ভব না হয় তাহলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে মসজিদে হারামের যেখানে সম্ভব হয় সেখানেই দুরাকায়াত নামাজ আদায় করবে। এই তাওয়াফকে তাওয়াফে কুদুম বলে। ইহা আদায় করা সুন্নত। ইহা মক্কাবাসীদের জন্য আদায় করতে হয়না।

অতঃপর মসজিদে হারামের বাবুস্সাফা নামক দরজা দিয়ে বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে আরোহণ করবে। সেখানে কাবা শরীফের দিকে মুখ করে তাসবীহ্-তাহ্লীল বলে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করে নিজের আরজু মোতাবেক দোয়া করবে। অতঃপর সেখান থেকে অবতরণ করে সাধারণ গতিতে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চলবে।

তবে বত্নে ওয়াদীতে পৌঁছে মাইলাইনে আখজারাইনে (সবুজ রংয়ের মাইল দ্বারা চিহ্নিত স্থান) দৌঁড়াবে। অতঃপর সাধারণ গতিতে মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করবে। সাফা পাহাড়ের অনুরূপ মারওয়া পাহাড়েও তাকবীর, তাহলীল, দরুদ শরীফ পাঠ ও দোয়া করবে। এতে একবার হলো। অনুরূপ সাতবার সাফা মারওয়াতে দৌড়াবে। অর্থাৎ সাফা হতে শুরু করবে মারওয়াতে শেষ করবে। অতঃপর ইহ্রাম অবস্থায় মক্কা শরীফে অবস্থান করবে এবং যত ইচ্ছা তাওয়াফ করবে।

উল্লেখ্য, হজ্ব উপলক্ষ্যে তিনটি খুৎবা দেয়া হয়। (১) জিলহজ্ব মাসের ৭ তারিখে যোহরের পর মসজিদে হারামে এক খুৎবা দিতে হয়। খুৎবার মধ্যে বসতে হয়না। (২) আরাফার ময়দানে জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখে দুই খুৎবার মধ্যে বসতে হবে। ইহা জুহরের নামাজের পূর্বে দিতে হয়। (৩) জিলহজ্বের ১১ই তারিখে মীনাতে জুহরের পরে এক খুৎবা দিতে হয়, মধ্যে বসতে হয়না।

হজ্ব আদায়কারী ৮ই জিলহজ্ব ফজর নামাজ মক্কা শরীফে পড়ে মিনার দিকে রওয়ানা হবে। মিনাতে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর আদায় করবে। অতঃপর সেখান থেকে আরাফার ময়দানে যাবে অর্থাৎ ৯ই জিলহজ্ব আরাফার ময়দানে সারাদিন অবস্থান করবে। আরাফার ময়দানে ইমাম সাহেব খুৎবার মাধ্যমে আরাফার কার্যসমূহ শুরু করবে। খুৎবান্তে যোহরের ওয়াক্তে ইমাম সাহেব এক আযান ও দুইকামতে যোহর ও আসরের নামাজ পড়াবেন।

যে ব্যক্তি নিজ স্থানে একা একা নামাজ আদায় করবে সে যোহরের ওয়াক্তে যোহরের নামাজ, আসরের ওয়াক্তে আসরের নামাজ আদায় করবে। ইহাই ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি অালাইহি -এর ফতওয়া।

নামাজের পরে আরাফার ময়দানে ওকুফ বা অবস্থান করবে যতটুকু সম্ভব জাবালে রহ্মতের নিকটে। আরাফার ময়দানে বত্নে আরানা ব্যতীত সমস্তটুকুই অবস্থানস্থল।

ওকুফ অবস্থায় ইমাম সাহেব বাহনের উপর থেকে হাত তুলে দোয়া করবে। আর অন্যান্যরাও যত বেশী সম্ভব দোয়া ইস্তেগফারে মশগুল থাকবে।

৯ই জিলহজ্ব সূর্যাস্তের পর ইমাম সাহেব সকলকে নিয়ে সাধারণ গতিতে মুযদালেফায় রওয়ানা হবে। সেখানে কুজা নামক পাহাড় যার উপর মিকাদা রয়েছে তার নিকট অবতরণ করবে। সেখানে ইমাম সাহেব এশার ওয়াক্তে একই আযান ও একই ইকামতে সকলকে নিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবে। এর মধ্যে সুন্নত ও নফল পড়বেনা। পথে যদি কেউ মাগরিব পড়ে তবে সেটা আদায় হবেনা।

* বত্নে মুহাস্সার ব্যতীত সকল স্থানই মুযদালেফায় অবস্থানস্থলঃ সুব্হে সাদিক হওয়া মাত্রই ইমাম সাহেব সকলকে নিয়ে অন্ধকার থাকতেই ফজর নামাজ আদায় করে সকলকে নিয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করবে। আর সূর্যদ্বয়ের পূর্বে ইমাম সাহেব তার সাথে সকলকে নিয়ে মিনায় রওয়ানা হবে।

মুযদালিফা হতে মিনায় যাওয়ার পূর্বে বা পথে ৪৯টি বা ৭টি বা ৭০টি কঙ্কর নিয়ে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার দিকে রওয়ানা দিবে। ১০ই জিলহজ্ব সকালে শুধুমাত্র মিনাস্থ জমরাতুল আকাবাতে ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। কঙ্কর নিক্ষেপ করতে প্রত্যেকবার তাকবির বলবে এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করার পর সেখানে একটুও দাঁড়াবেনা। আর প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপ করার সাথে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে।

অতঃপর কোরবানী করতে হবে। যারা শুধু হজ্বে ইফরাদ করবে তাদের জন্য এ কোরবানী করা মুস্তাহাব। আর যারা হজ্বে তামাত্তু ও হজ্বে ক্বিরান করবে তাদের জন্য এ কোরবানী করা ওয়াজিব। যা কোরবানী করতে হবে তা হচ্ছে- এক বকরী অথবা এক দুম্বা অথবা গরু, মহিষ বা উটের এক সপ্তমাংশ।

যদি তামাত্তু ও ক্বিরানকারী আর্থিক অনটনের কারণে ওয়াজিব কোরবানী করতে না পারে তাহলে তাদের জন্য ১০ই জিলহজ্বের পূর্বে ৩টি এবং ১৩ই জিলহজ্বের পরে ৭টি রোজা রাখা ওয়াজিব হবে। যদি ১০ই জিলহজ্বের পূর্বে ৩টি রোজা রাখতে না পারে তাহলে কোরবানী অবশ্যই করতে হবে। কোরবানী করার পর পুরুষেরা মাথা মুন্ডন করে অথবা চুল ছেটে ইহ্রাম খুলে ফেলবে। মহিলারা চুল মুন্ডন না করে এক অঙ্গুলি বা এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল ছাটবে।

এ অবস্থায় মুহরিমের জন্য স্ত্রী ব্যবহার ছাড়া সবই হালাল হয়ে গেল। একই দিনে অর্থাৎ ১০ই জিলহজ্বে তাওয়াফে জিয়ারত করা উত্তম যা হজ্বের শেষ ফরজ। তাওয়াফে জিয়ারত ১২ই জিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্বে আদায় করতে হবে। অন্যথায় দম দেয়া ওয়াজিব হবে।
১০, ১১ এবং ১২ই জিলহজ্ব তারিখে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত।
১১ এবং ১২ই জিলহজ্ব তারিখে মিনার জমরাতুল আকাবা, জমরাতুল উস্তা ও জমরাতুল উলাতে পর্যায়ক্রমে ৭টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। ১০ তারিখে সূর্য ঢলার পূর্বে ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার পরে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে।

১২ই জিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনা হতে মক্কা শরীফে চলে আসা যায়। যদি আসতে রাত্র হয়ে যায় তাহলে আসাটা মাকরূহের সহিত জায়েয রয়েছে। আর যদি ১৩ তারিখ সকাল হয়ে যায় তাহলে তিন স্থানে ৭টি করে ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করে আসতে হবে। এটাই সুন্নাত। কঙ্কর নিক্ষেপের সময় হল সূর্য ঢলার পর হতে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।

মিনাতে কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য থেকে মাল-সামানা বা আসবাবপত্র মক্কা শরীফে পাঠিয়ে দেয়া মাকরূহ্। মিনাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা শেষ করে মক্কা শরীফে আসার পথে মুহাস্সার নামক স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করা সুন্নত। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেছেন। অতঃপর মক্কা শরীফে এসে তাওয়াফে বিদা বা তাওয়াফে সুদুর করবে। মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যান্য সকলের জন্য এ তাওয়াফে বিদা ও তাওয়াফে সুদুর ওয়াজিব। যাদের উপর তাওয়াফে বিদা বা তাওয়াফে সুদুর ওয়াজিব তারা এ তাওয়াফ না করলে তাদের জন্য দম দেয়া ওয়াজিব।


যে সমস্ত মহিলারা অসুস্থ হয়ে যায় অর্থাৎ যাদের মাসিক হয়ে যায় তাদের জন্য তাওয়াফে সুদুর ওয়াজিব থাকেনা। এ তাওয়াফ ব্যতীতই তারা বাড়ীতে প্রত্যাবর্তন করবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: