9.28.2016

সেলফীতে আক্রান্ত মানুষ এবং নামধারী কাট মোল্লাদের আখেরাতের ভয়ংকর পরিনতি জানুন

সেলফী রোগে আক্রান্ত পুরা বিশ্ব। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় এক শ্রেনীর লোক বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে, মুখ ভেঙ্গচিয়ে একের পর এক ছবি তোলে ইহাই সেলফী। আম পাবলিক না হয় বোঝে না কিন্তু সবচাইতে আফসোসের বিষয় কি জানেন? যখন দেখি মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে, গায়ে লম্বা জামা লাগিয়ে, মাথায় টুপি পরে কিছু মৌলবী সেলফী তুলছে তখন। মিনিটে মিনিটে ফেসবুকে তাদের সেলফি জ্বালায় সবাই অস্থির। 

মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে দাড়িয়ে সেলফি, মসজিদে দাড়িয়ে সেলফি, বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সেলফি, সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সেলফি। এই যদি হয় দাড়ি টুপি সম্বলিত লোকের হাল তবে আম পাবলিকের কি দোষ ? আম পাবলিক চিন্তা করে, মৌলবী সাহেবরা সেলফি তোলে তাহলে আমরা তুললে দোষ কি ? অর্থাৎ পরোক্ষভাবে আম পাবলিকদের প্ররোচিত করে এই সব ভন্ড মোল্লারা।

দুনিয়ার সকল হাদীস শরীফের কিতাব যেগুলা এসব মৌলবীরাও মাদ্রসায় পড়ে সেখানে ছবি তোলা সর্ম্পকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। এসব মৌলবীরা কি সেসব পড়ে না? নাকি ইচ্ছকৃতভাবে সে অধ্যায় বাদ দিয়ে পড়ে। আসুন দেখা যাক শরীয়ত ছবি তোলা সর্ম্পকে কি বলে-ছবিকে আরবীতে تصوير (তাসবীর), ইংরেজীতে Photo, Picture ইত্যাদি বলা হয়। যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন এবং যে কোন পদ্ধতিতেই তৈরী, আঁকা বা তোলা হোক না কেন- কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও কিয়াস অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা মোতাবেক প্রাণীর ছবি তৈরী করা, তোলা, তোলানো, আঁকা, রাখা, দেখা, দেখানো ইত্যাদি হারাম ও নাযায়িজ।

১) নিশ্চয়ই আমরা ফেরেশ্তারা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি থাকে। (শরহু মুসনাদি আবী হানীফাহ ইখরাজুত তাছাবীরি ওয়াল কালবি মিনাল বাইতি ২৪০ পৃষ্ঠা)

২) হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন: নিশ্চয়ই এরূপ প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদের ক্বিয়ামতের দিন কঠিন আযাব দেয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে তোমরা যে প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি করেছ, সেগুলোতে প্রাণ দাও। (আল মুয়াত্ত্বা লিল ইমাম মালিক- বাবুন: মা জায়া ফিছ্ ছুওয়ার ওয়াত তামাছীল ৩৮১ পৃষ্ঠা)

৩) ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে যারা আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে।” (আল মুছান্নাফ লি আব্দির রযযাক- কিতাবুল জামিবাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খ- ৩৯৮ পৃষ্ঠা)

৪) নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি হবে যারা প্রাণীর ছবি আঁকে (তোলে বা দেখে)। (মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল- আল্ বাব: মুসনাদু আব্দিল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু ১ম খ- ৩৭৫ পৃষ্ঠা)

৫) নিশ্চয়ই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছবি অঙ্কণকারী (বা উত্তোলনকারী)-এর উপর অভিশম্পাত দিয়েছেন। (মুসনাদুত্ তায়ালাসী- আল বাব: আহাদীছু আবী জুহাইফা ওয়া ইসমুহু ওয়াহব ১ম খ- ১৪০ পৃষ্ঠা)

৬) নিশ্চয়ই আমরা ফেরেশতারা ঐ সমস্ত ঘরে প্রবেশ করি না, যেখান কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (কিতাবুল আছার লিআবী ইউসুফ - আল বাবঃ মা বাত্বায়াকা আন্নী ক্বালা ইন্না লা ২য় খ- ৭২৯ পৃষ্ঠা)

৭) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান কর।” (বুখারী শরীফ- কিতাবুল লিবাস বাবুত তাছাবীর ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১)

৮) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ কিতাবুল লিবাস বাবুত তাছাবীর ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০)

৯) প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে। এবং মহান আল্লাহ্ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবি গুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।” (আছ ছহীহু লি মুসলিম- কিতাবুল লিবাস ওয়ায্ যীনাহ বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ৬ষ্ঠ খ- ১৬১ পৃষ্ঠা)

১০) সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় বাতহা নামক স্থানে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন কাবা শরীফে প্রবেশ করার জন্য। তিনি প্রবেশ করে সমস্ত প্রাণীর ছবি (ভাস্কর্য-মূর্তি) নিশ্চিহ্ন করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত ছবি ধ্বংস করার পর কাবা শরীফে প্রবেশ করেন। (সুনানু আবী দাঊদ- কিতাবুল লিবাস বাবুন ফিছ ছুওয়ার ৪র্থ খ- ১২২ পৃষ্ঠা)


আর সিহাহ ছিত্তহ সহ পৃথিবীর সকল কিতাবে ছবি তোলা, আঁকার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। অথচ এসকল মৌলবীরা ফেসবুকে একটু পরপর সেলফি আপলোড দেয়। এরা ধর্মব্যবসায়ী, প্রতারক। এদের জন্য সাধারন মানুষ পথভ্রষ্ট হয়। নিজেরাতো বেঈমান হচ্ছেই সধারন মানুষকে গোমরাহ করার দায়ও এদের ঘাড়েই বর্তবে। এসব মৌলবীদের কোথাও সেলফী তুলতে দেখলে সেখানেই শাস্তি দিন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: