9.23.2016

শির্কের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজায় গিয়ে কি আপনি ঈমানহারা হবেন? উত্তর দিন?


শুরু হচ্ছে শির্কের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হিন্দুদের দুর্গাপূজা। একজন মুসলিমের পক্ষে কোনভাবেই, কোন অজুহাতে এই শির্কের অনুষ্ঠানে যাওয়া জায়েজ নয়, শুভেচ্ছা জানানোও সম্পূর্ণ হারাম। পুজার প্রসাদ খাওয়া তো আরও বহু দূরের পথ। শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরিক করছো এইজন্য আমি তোমার ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সফলতা জানিয়ে উইশ করলাম। না'উযুবিল্লাহ মিন জালিক।

আপনি নিজেকে মুসলিম দাবি করেন? নিজেকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার উম্মত দাবি করেন? অথচ আপনি সবচেয়ে নিকৃষ্ট শির্ক মুর্তি পূজা সাপোর্ট করেন?

অথচ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেনঃ আমি বাদ্যযন্ত্র ও মুর্তি ধ্বংসের জন্য প্রেরিত হয়েছি।

এমনকি অন্য হাদিস শরিফে আরো ইরশাদ মোবারক হয়েছেঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন" যদি কেউ কোণ সম্প্রদায়ের অনুকরন করে, তাহলে সে উক্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গন্য হবে। - আবু দাউদ শরীফ, আস সুনান ৪/৪৪।
__________
ধরুন কেউ গরু জবাইয়ের লম্বা তরবারি দিয়ে তার মা-বাবা-ভাইবোন-স্ত্রী-সন্তান সবাইকেই জবাই করে ফেললো। আরও ধরুন সে ১০০ লোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করে ফেললো। সুদ খেলো, মদ পান করলো, যিনা করলো আরও যা যা করার সব করলো। বলুন তো তার পাপের পরিমাণ কতো? জী অবশ্যই অনেক অনেক বেশি। কিন্তু এর চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর অপরাধ হল মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কাউকে শরিক করা।
__________
কেউ এতো গুনাহ করার পরও যদি অনুতপ্ত হয়, তাওবা করতে থাকে মৃত্যু পর্যন্ত তাহলে আশা করা যায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তার পাপকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কোরআন মাজিদে ঘোষণা করেছেন, তিনি শির্ক ব্যতীত যেকোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন, কিন্তু শির্কের গুনাহ মাফ করবেন না। এর থেকেই প্রমাণিত হয় এটি কতো ভয়ঙ্কর গুনাহ। (এর ব্যাখ্যা হলো শির্ক করে তাওবা বিহীন মারা গেলে মাফ নেই এবং কাফের হিসেবে মারা যাবে, কিন্তু জীবিত অবস্থায় তাওবা করলে মাফের আশা করা যায় ইনশা আল্লাহ্‌)
__________
একজন মুসলিমের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া, শুভেচ্ছা জানানো উলামায়ে কিরামের সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। এমনকি তা তাকে তার অজান্তে ইসলাম থেকেও বের করে দিবে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুক এবং এহেন কাজ থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন।
__________
ধর্ম যার যার উৎসব সবারএটি একটি কুফুরি স্লোগান। একজন মুসলিমের মুখ দিয়ে কখনই এই ধরণের কথা বের হতে পারে না। বের হলে বুঝতে হবে সে মুসলিম নামধারী একজন মুনাফিক, মুরতাদ। যার ধর্ম সে তার উৎসব পালন করবে। এটিই ইসলামের বিধান। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও এখানে মুসলিমদের বাধা দেয়ার সুযোগ নেই। অমুসলিমকে খুশি করতে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজের ঈমানকে বিক্রি করা পবিত্র দ্বীন ইসলাম সমর্থন করেন না।
__________
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মোবারক করেনঃ নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরিফঃ আয়াত শরীফ ১৯)
__________
"হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে যাদের পূজা করো, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন। (পবিত্র সূরা হাজ্ব শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৭৩)
__________
"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করেন না, যে উনার সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। (পবিত্র সূরা আন নিসা শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ১১৬)
__________
ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, "তোমরা মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ সেই সময় তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হতে থাকে। ইবনুল ক্বাইয়্যিম রাহিমহুল্লাহ তিনি উনার 'আহকামুল জিম্মাহ ১/৭২৩-৭২৪ এ সহিহ সনদে বায়হাক্বী শরীফ থেকে এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।
__________
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেনঃ অচিরেই আমার উম্মাতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে এবং আমার উম্মাতের কিছু লোক মূর্তিপূজারীদের সাথে মিশে যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফঃ অধ্যায় ৩৬ (কিতাবুল ফিতান), হাদীস শরীফ নং ৩৯৫২। তাহকীক সহীহ হাদিস শরীফ।
__________
#কারো_ধর্ম_মূর্তি_গড়া আবার #কারো_ধর্ম_মূর্তি_ভাঙ্গা। ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার অনুসারীরা দ্বিতীয়টাকে বেছে নিয়েছে। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি মূর্তিপূজকদের উদ্দেশ্যে করে ইরশাদ মোবারক করেনঃ "তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। (পবিত্র সূরা মুমতাহিনা শরিফঃ আয়াত শরীফঃ ৪)
__________
এই শত্রুতা মানুষ হিসেবে নয়, এই শত্রুতা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শির্ক করার কারণে।
__________

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার এবং মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: