9.25.2016

সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ কি যুদ্ধবন্দিনী সুন্দরী ললনার লোভে জিহাদ করতেন?


আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু যখন খলীফা ছিলেন, তখন নীল ভূমধ্যসাগর তীরের তারাবেলাসনগরী মুসলমানদের করতলগত হয়। শক্তিশালী খ্রিস্টান রাজা জার্জিসের প্রধান নগরী ছিল এ এলাকা। আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান রদ্বিআল্লাহু তায়ালা তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সেনাপতি করে রাজা জার্জিসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পাঠান। জার্জিস ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবন সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনীর অগ্রাভিযানের পথ রোধ করে দাঁড়ালো। স্বয়ং রাজা জার্জিস তার বাহিনী পরিচালনা করছিল। পাশে রয়েছে তার মেয়ে। অত্যন্ত সুন্দরী ছিলো তার সে মেয়ে।

জিহাদ শুরু হলো। জার্জিস মনে করেছিল তার দুর্ধর্ষ বাহিনী এবার মুসলিম বাহিনীকে উচিত শিক্ষা দেবে। কিন্তু তা হলো না। মুসলিম বাহিনীর পাল্টা আঘাতে জার্জিস বাহিনীর ব্যুহ ভেঙ্গে পড়লো। উপায়ান্তর না দেখে সে সেনা সদস্যদের উৎসাহিত করার জন্য ঘোষণা করলো, “যে খ্রিস্টান সেনা মুসলিম সেনাপতি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ছিন্ন শির এনে দিতে পারবে, আমার কুমারী কন্যাকে তার হাতে সমর্পণ করবো।
জার্জিসের এই ঘোষণা খ্রিস্টান সেনাবাহিনীর মধ্যে উৎসাহের এক তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করলো। জার্জিসের সুন্দরী কন্যা প্রাপ্তির কামনায় তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠলো। তাদের উন্মাদ আক্রমণে মুসলিম রক্ষা ব্যুহে ফাটল দেখা দিলো। রসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অপর একজন ছাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও সে যুদ্ধে শরীক ছিলেন।

তিনি সেনাপতি হযরত আব্দুল্লাহ বিন সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে পরামর্শ দিলেন, “আপনিও ঘোষণা করুন, যে তারাবেলাসের শাসনকর্তা জার্জিসের ছিন্ন মাথা এনে দিতে পারবে, তাকে জার্জিস দুহিতাসহ এক হাজার দিনার পুরষ্কার দেয়া হবে।উনার পরামর্শ অনুসারে সেনাপতি হযরত ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই কথাই ঘোষণা করে দিলেন।

তারাবেলাসের প্রান্তরে ঘোরতর জিহাদ সংঘটিত হলো। যুদ্ধে জার্জিস পরাজিত হলো। জার্জিসের কাটা শিরসহ তার সুন্দরী কন্যাকে বন্দি করে মুসলিম শিবিরে নিয়ে আসা হলো। জিহাদের পর মুসলিম শিবিরে সভা আহূত হলো। হাজির করা হলো জার্জিস-দুহিতাকে। সেনাপতি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আহবান করলেন, “আপনাদের মধ্যে যিনি জার্জিসকে নিহত করেছেন, তিনি আসুন । আমার প্রতিশ্রুত উপহার উনার হাতে তুলে দিচ্ছি।

কিন্তু গোটা মুসলিম বাহিনী নীরব নিস্তব্ধ। এই অসীম সাহসিকতার কাজ কে করলেন? এই বীরত্বের কাজ কার দ্বারা সাধিত হলো? কেউ কথা বললেন না, কেউ দাবি নিয়ে এগুলেন না। সেনাপতি হযরত সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বারবার আহ্বান জানিয়েও ব্যর্থ হলেন। এই অভূতপূর্ব ব্যাপার দেখে বিস্ময়ে হতবাক হলো জার্জিস-কন্যা। সে দেখতে পাচ্ছে তার পিতৃহন্তাকে। কিন্তু তিনি দাবি নিয়ে আসছেন না কেন? টাকার লোভ, সুন্দরী কুমারীর মোহ তিনি উপেক্ষা করছেন? এত বড় স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারে জগতের ইতিহাসে এমন মহান যোদ্ধা-জাতির নাম তো কখনো শুনেননি তিনি । পিতার হত্যাকারীর প্রতি তার যে ক্রোধ ও ঘৃণা ছিল, তা যেন মুহূর্তে কোথায় অন্তর্হিত হয়ে গেল। অপরিচিত এক অনুরাগ এসে সেখানে স্থান করে নিলো।

অবশেষে সেনাপতির আদেশে জার্জিস-কন্যাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দেখিয়ে দিল। বললো, “ইনিই আমার পিতাকে হত্যা করেছেন, ইনিই আপনার জিজ্ঞাসিত মহান বীর পুরুষ।সেনাপতি হযরত সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাকে অনুরোধ করলেন ঘোষিত উপহার গ্রহণ করার জন্য।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “জাগতিক কোনো লাভের আশায় আমি জিহাদ করিনি। যদি কোনো পুরস্কার আমার প্রাপ্য হয় তাহলে আমাকে পুরস্কৃত করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তিনিই যথেষ্ট ।


উপরের ঘটনাটা যদি মুসলিম শিবিরে না ঘটে খ্রিস্টান শিবিরে ঘটতো, সেক্ষেত্রে শত শত দাবিদার উঠে দাঁড়াত এবং তাদের মধ্যেই আরেকদফা রক্তারক্তি হয়ে যেত এটা নিশ্চিত। কিন্তু সাহাবায়ে কিরামগণ এক আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ব্যতীত আর কোনকিছুর জন্যই কোশেশ করেননি, তাই কেউই দাঁড়াননি জার্জিস কন্যাকে গ্রহণ করতে। জাগতিক সুবিধার লোভ করা তো দূরের কথা, বরং উনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন জগতের বুকে ইসলামকে টিকিয়ে রাখার জন্য, তা না করলে আমাদের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব ছিল না এই ১৪০০ বছর পরেও দ্বীন ইসলাম লাভ করা। ইসলামবিদ্বেষীরা যে ইতিহাস বিকৃত করে দাবি করে থাকে, উনারা যুদ্ধবন্দিনীর লোভে জিহাদ করতেন, তা নিরেট মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। উপরের ঘটনার ন্যায় সাহাবায়ে কিরামগণের জীবনীতে আরো অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো দিয়ে হিন্দু ও নাস্তিকদের মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব দেয়া যেতে পারে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: