9.26.2016

আওয়ামীলীগ নেত্রীর কোরবানীর গরু ছেড়ে দেয়া ও জাতিগত ডি-মরালাইজেশন

সোভিয়েত কেজিবির গোয়েন্দা আলেক্সান্দর ব্রেজমেনভ একটি জাতিকে পদানত করার চারটি ধাপ বর্ণনা করেছিল, যথাক্রমে ডি-মরালাইজেশন, ডি-স্টেবিলাইজেশন, ক্রাইসিস, নরমালাইজেশন। প্রথম ধাপটি হলো ডি-মরালাইজেশন, যার আক্ষরিক অর্থ হলো জাতির নৈতিক অধঃপতন ঘটানো। কিন্তু আসলে এই ধাপটি নির্দেশ করে জাতির যে মানসিক দৃঢ়তা, সেটাকে ভেঙে দেয়া।

এই ঈদে ঝালকাঠির আওয়ামীলীগ নেত্রী শারমিন কেকা ফেসবুকে প্রচার করেছে যে, সে তার কুরবানীর জন্য কেনা গরুটি ছেড়ে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এটি ভয়াবহ সূক্ষ্ম একটি কন্সপিরেসি। যেহেতু শারমিন কেকা গরুর প্রতি উদারতা দেখিয়েছে, সুতরাং তার প্রতি মানুষের মন নরম হবেই। এতে করে নষ্ট হয়ে যাবে ইসলামের প্রতি মুসলমানদের কমিটমেন্ট ও দৃঢ়তা।

মহান আল্লাহ পাক একটি কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্য এক চরিত্রহীন নারীকেও জান্নাত নসীব করেছেন। অপরদিকে হযরত নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র কেনান যখন বন্যায় ডুবে মরছিল, তখন আল্লাহ পাকই কেনানকে কিশতীতে তুলতে নিষেধ করে দিলেন। আদেশ দিলেন তাকে পানিতে চুবিয়ে মারতে। অর্থাৎ ইসলাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক যা আদেশ করবেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করবেন তা থেকে বিরত থাকা। অবস্থাভেদে কুকুরকে পানি খাওয়ানো ইসলামের নির্দেশ, আবার গরুর গলায় ছুরি চালিয়ে রক্ত প্রবাহিত করাটাও ইসলামের নির্দেশ। এর প্রতি দৃঢ় থাকাটাই হলো মুসলমানদের কর্তব্য, এখান থেকে তাকে উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা কিংবা এসব সুশীলকথাবার্তা দিয়ে সরিয়ে দেয়াটাই হলো ডি-মরালাইজেশন

সুতরাং শারমিন কেকার গরু ছেড়ে দেয়াটা খুবই ভয়াবহ, গভীর ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। এখানে আসলে মানবতা, উদারতা এসব দিকে যাওয়ার অপশন নেই, সরাসরি বলতে হবে গরু জবাই না করে ছেড়ে দেয়াটা এই শারমিন কেকা কোথা থেকে পেল? তাকে দেখাতে হবে শরীয়তের কোথায় এই আইন রয়েছে, নতুবা তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মুসলমানরা এখন আর এভাবে চিন্তা করতে পারে না, কারণ তারা হলো ডি-মরালাইজড। তারা চিন্তা করে যে, “এটা করলে উদারতা রক্ষা হবে না”, “সাম্প্রদায়িক হয়ে যাবেইত্যাদি। এসব চিন্তাই তাদেরকে ৯০ শতাংশ দুর্বল করে দেয়, এমনকি নিজের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও পরিচালিত করে। যেমন কেউ যদি হিন্দুদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়, সেক্ষেত্রে মুসলমানরাই তার বিরোধিতা করে। তাদেরকে যদি কুরআন শরীফের আয়াত দেখানো হয়, কাফির-মুশরিকরা শত্রু, তারা সেটাও মেনে নিতে চায় না। কারণ তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা এগুলোই বোধহয় ইসলাম ধর্ম।

কিন্তু তার ধারণা ভুল। ইসলাম ধর্ম সেটাই, যেটা আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নির্দেশ করেছেন। উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা এগুলো ম্যান মেড চিন্তাভাবনা, এসব মাপকাঠি কাফিররা তৈরী করেছে মুসলমানদের পিছিয়ে রাখার জন্য। (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ ٣:١٤٩) হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কাফেরদের কথা শোন, তাহলে ওরা তোমাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দেবে, তাতে তোমরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়বে।(সূরা আল ইমরান শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৪৯)

কাফির-মুশরিকরা তাদের এইসব মেডিসিন নিজেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেনা। আমেরিকার জাতীয় সংগীতে রয়েছে

Then conquer we must, when our cause it is just,
And this be our motto: 'In God is our trust.'


অর্থাৎ উদারতার বালাই নেই, স্ট্রেটকাট কথা আমরা মনে করি আমাদের উদ্দেশ্য ঠিক, সুতরাং আমরা আগ্রাসন চালাবোই। আমরা শুধু গডে বিশ্বাস করি।এভাবেই কাফিররা সোজাসুজি চিন্তা করে বলে তারা তাদের ছুরি সোজাসুজি মুসলমানদের বুকে ঢুকিয়ে দিতে পারে, ডানে-বামে সে তাকায় না। আর মুসলমানদের শত ধানাইপানাই; উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সুশীলতা, এসব করতে করতেই সে খরগোশ হয়েও কচ্ছপের তুলনায় অনেক পিছিয়ে যায়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: