9.11.2016

শেখ সাহেব ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে যে দেশটা স্বাধীন করলেন সেটা কী এখন হিন্দুস্তান হতে যাচ্ছে?


১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি যে ভারতীয় দানবের পেটে চলে যায়নি, তার মূল কৃতিত্ব শেখ মুজিবুর রহমানের। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে শুরুরদিকে যখন শেখ সাহেব আসেননি, তখন তাজউদ্দীনের মতো নাস্তিক ও ভারতীয় দালালগুলো ভারতীয় সেনাবাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এদেশে ঘাঁটি গাড়তে দিচ্ছে। ভারতের সাথে চুক্তি ছিলো যে, যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো, কেবল তাদেরই চাকরি বহাল থাকবে। বাকিদের চাকরিচ্যুত করা হবে এবং তাদের জায়গায় বসানো হবে ভারত থেকে আসা প্রশাসনিক আমলাদের...

এর মধ্যে শেখ সাহেব পাকিস্তান থেকে আসলেন। এসে শুরুতেই তিনি এক মিটিংয়ে সরাসরি ইন্দিরা গান্ধীকে বললেন, আপনি কবে আমার দেশ থেকে আপনার সেনা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? প্রকাশ্য সভায় এতো সোজাসাপটা কথায় ইন্দিরা গান্ধী অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। শেখ সাহেব তখন ইন্দিরার অপ্রস্তুত হওয়ার সুযোগ নিয়ে বললেন, প্রধানমন্ত্রীর আদেশই তার জন্য যথেষ্ট। তখন ইন্দিরা মানেকশকে ফোন করে বলল, বাংলাদেশ থেকে যেনো ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করা হয়।

আর যেসব ভারতীয় আমলা ইতিমধ্যেই এদেশের পাবলিক সার্ভিসে জয়েন করেছিল, শেখ সাহেব বাংলাদেশে এসে তাদেরকে বের করে দেন। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র ও সিআইএ বই থেকে নেওয়া)

মুক্তিযুদ্ধের পর যদি শেখ সাহেব এসব পদক্ষেপ না নিতেন, তাহলে তাজউদ্দীনদের স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশ আজকে ভারতের কোন প্রদেশ হিসেবেই থাকত। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত কোন কাজে আসতো না। সেই দেশে এখন কী হচ্ছে এসব-

১) সরকার ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের আদলে কুরবানীকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন পলিসি গ্রহণ করছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি অভিযান চালিয়ে হাট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

যেমন গত কয়েকদিনের খবরের শিরোনাম হলো-

ক) মনোহরদীর স্কুল মাঠের হাট বন্ধ-http://goo.gl/pZXQdN
খ) ধামরাইয়ে হাট উচ্ছেদ- http://goo.gl/ZxDX63
গ) সিলেটের বিয়ানীবাজারে হাট উচ্ছেদ- http://goo.gl/SVPP6d
ঘ) নারায়ণগঞ্জে ওসমানী স্টেডিয়ামের পাশে হাট উচ্ছেদ- http://goo.gl/a7oTTt
ঙ) সিদ্ধিরগঞ্জে হাট উচ্ছেদ- http://goo.gl/gevNyW

এভাবে সারা দেশে সরকার চালাচ্ছে কুরবানীর হাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান। খাপো মিডিয়াগুলো এই হাটগুলোকে অবৈধবলে দাবি করলেও তা বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ এই হাটগুলো গত দশ-বিশ বছর ধরে নিয়মিতই হয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।

২) সরকার হিন্দুদের প্রাধান্য দিতে নির্লজ্জতার সকল সীমা অতিক্রম করেছে। ইসকনের বন্দুকধারী গেরুয়া সন্ত্রাসীদের সাথে করে মসজিদে পুলিশি হামলা করা হয়েছে সিলেটে। সিলেটের পুলিশের সমস্ত বড় বড় পদগুলোতে হিন্দু দেয়া হয়েছে, যেনো ভারতীয় পুলিশদের আদলে দাঙ্গা লাগিয়ে হিন্দুদের পক্ষে কাজ করা যায়।

৩) খাপো মিডিয়ার কারণে দেশবাসী মনে করছে, তারাপুরের জমি রাগীব আলীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ঠিক কাজটাই হয়েছে। কিন্তু কেড়ে নেয়া জমির বড় একটি অংশই রাগীব আলীর কেনা নয়, বরং তা পঙ্কজ আগেই বিক্রি করেছিল টাকার জন্য। বিষয়টি অনেকটা এরকম, আপনি দোকান থেকে টাকা দিয়ে বাজার করলেন, কিছুদূর যাওয়ার পর দোকানদার আপনার পণ্য কেড়ে নিল।

এটাই বর্তমানে বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে হিন্দু প্রধান বিচারকের কারণে, সরকারের হিন্দুতোষণের কারণে।

৪) সরকার কারো কথার তোয়াক্কা না করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, যেখানে পোড়ানো হবে সারাবিশ্বে কুখ্যাত ভারতীয় নিন্মমানের কয়লা। এই নিন্মমানের ভারতীয় কয়লায় সালফারের পরিমাণ হবে অনেক বেশি। (http://goo.gl/tZzBvQ)


যেই দেশকে স্বাধীন করতে শেখ সাহেব ভারতীয় সেনা বের করে দিলেন, ভারতীয় আমলা বের করে দিলেন, সেই দেশ আজ ভারতের উপনিবেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। যেই দেশটাকে শেখ সাহেব ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে স্বাধীন করলেন, সেই দেশটাকে কী আওয়ামী লীগ সরকার হিন্দুস্তান বানাতে চায়?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: