9.05.2016

বর্তমান গায়েবানা জানাজার প্রিতিষ্টাতা জামায়াতে ইসলামির কেউ কি ইসলাম সম্মত উত্তর দিতে পারবেন?


হে জামায়াতে ইসলামির অনুসারিগন আপনারা কি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গায়েবানা জানাজা পড়েছেন? পড়বেন?? না শুধু কাদের মোল্লা, নিজামী, গোলাম আজম, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, মির কাশেম আলী আর মৌদুদীর জানাজা গায়েবানা তরীকায় পড়বেন??

আর নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন কাজ জীবনে এক দুইবার করলে সেটা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ হয় না। সহিহ হাদীস শরিফ উনার মধ্যে আছে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার জরুরত বশত দাড়িয়ে ইস্তিঞ্জা মোবারক করেছেন, অথচ সেটা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ হয় নি। এখন কি ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থে দাড়িয়ে পেশাব করা চালু করতে হবে? যদি করা হয় সেটা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ হবে না মউদুদীর আদর্শ হবে?

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ সেটাই যেটা সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন গ্রহণ করেছেন। কোনো সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গায়েবানা জানাজা পড়েন নি, কোনো সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের গায়েবানা জানাজাও নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন ও পড়েন নি। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাত ভাই জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পালক ছেলে জায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুতায় শহিদ হয়েছেন, গায়েবানা জানাজা পড়েন নি! বীরে মাউনায় ৭০ জন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নির্মম ভাবে কাফেরদের হাতে শহীদ হন, জানাজা পড়ার কেউ ছিলো না, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গায়েবানা জানাজা পড়েন নি!

গায়েবানা জানাজা জায়েজ কি না জায়েজ তার থেকে বড় কথা এটা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ কি না। আজান দেওয়া নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ। আজান ছাড়া নামাজ পড়লে নামাজ হবে, জায়েজ না নাজায়েয সেটা অন্য বিষয় ।

বিশেষ প্রয়োজনে মৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েজ (জীবনের আশংকা থাকলে), এজন্য কেউ বলবে না মরা প্রানি খাওয়া ইসলামের আদর্শ। একই ভাবে জায়গা না পেলে মসজিদে জানাজা পড়া জায়েজ, এটা আদর্শ না, সুন্নত ও না। দাড়িয়ে পেশাব করা প্রয়োজনে জায়েজ, এটা ইসলামের আদর্শ না।

গায়েবানা জানাযা হালাল করতে যারা ফাতওয়া উদগীরণ করছেন? আপনাদের উদ্দেশ্য কী? ইসলাম কায়েম করা? না নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ ধংস করা? ইসলাম কায়েম করতে কি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ ধংস করা ফরজ? তবে মৌদুদীর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্য নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ ধংস করা ফরজ !

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সম্মানিত বিছাল শরিফ হয় মদীনা শরিফ এ, অথচ মক্কা শরিফ উনার মধ্যে কোনো গায়েবানা জানাজা হয়নি, অথচ মৌদুদীর গায়েবানার জানাজা নাকি মক্কা শরিফ এও হয়েছে ! সুবহানাল্লাহ ! :v :v :v

গায়েবানা জানাজাকে নাজায়েজ বলেছেন, মাজহাবের শ্রেষ্ট ইমামরা। কেউ কেউ জায়েজ বলেছেন জানাজা না হওয়ার শর্তে। জানাজা পড়ার পরও গায়েবানা জানাজা জায়েজ বলেন নি কেউ ই! বারবার -অবিরত জানাজা কেও জায়েজ বলেন নি কেউ! অথচ মৌদুদী - কাদের মোল্লা, নিজামি, গোলাম আজম, মির কাশেম এদের জানাজা বারবার হচ্ছে, গায়েবানা জানাজা বারবার হচ্ছে !

সম্ভবত এত সুউচ্চ মর্যাদার কারণেই আমাদের জামাতি ভাইয়া নবীদের সমালোচনা সহ্য করলেও নেতাদের সমালোচনা সহ্য করেন না ।

বিঃদ্রঃ রাসূল নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোটা জীবনে তিনি একবার গায়েবী জানাজা পড়েছেন। যার পড়েছিলেন তিনি হলেন হাবসার বাদশা নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ঈমান এনেছিলেন। কিন্তু নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত হয়নি। বাদশা নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি এমন এক স্থানে বিছাল শরিফ লাভ করছিলেন যেখানে উনার জানাযা নামায পড়ার মতো কোনো লোক ছিলো না আর না থাকার হেতু নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জানাযার নামায পড়েছিলেন। উনার উপর নামায পড়া উনার সাথেই নির্দিষ্ট। গায়েবানা জানাযার নামায তখনই পড়া বৈধ হবে, যখন কোনো ব্যক্তি এমন স্থানে মৃত্যুবরন করবে যেখানে তার জানাযা পড়ার লোক থাকবে না। আর আমাদের দেশের ফাসির দন্ড প্রাপ্ত চরম জাহেল দাজ্জাল সমতুল্য আসামিদের উপর ও গায়েবানা জানাযার নামায পড়া হরদম চলতেছে, শরিয়তের ধারে কাছে নাই শুধুই আবেগে, কিন্তু আবেগ দ্বারা যে ইসলাম চলে না তা এইসব ভণ্ডদের কে বোঝাবে?


নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরিফ এর পরে সম্মানিত খলিফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামের চার খলিফা হযরত সিদ্দিকে আক্ববর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত ফারুকে আজম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত জুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এছাড়াও বিভিন্ন রাস্ট্র বা এলাকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এমনকি তাদের নেতৃত্বে অসংখ্য যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েছিল বিভিন্ন স্থানে। কিন্ত মদিনা শরিফে বসে সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামের ৪ খলিফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন সে সকল যুদ্ধে শাহদত প্রাপ্ত মুসলমান উনাদের গায়েবানা জানাযা নামাজ পড়েছেন? এমন কোনো দলিল দিতে পারবে কেউ?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: