9.24.2016

এবার হিন্দুদের মতো মুসলমানরাও নদীর পূজা শুরু করলো, খোদার গজব কি এমনি এমনি আসে?


গতকালকে বাংলাদেশের কিছু লোক বুড়িগঙ্গা নদীর কাছে ক্ষমা চায়, এবং নদীর মধ্যে ফুল নিক্ষেপ করে। অঙ্গীকার বাংলাদেশঅনির্বাণ-৭১নামে পৃথক দুটি সংগঠনের উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়। (http://bit.ly/2d8j7Xj)

নদীর কাছে ক্ষমা চাওয়া, ফুল নিক্ষেপ করা এই কালচারগুলো কি মুসলিম না হিন্দুয়ানি!? আমরা যদি আমাদের মুসলমানদের ইতিহাস ঘাটাই তাহলে এ ধরনের কালচার, অর্থাৎ নদীকে আলাদা কিছু মনে করে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া বা ফুল নিক্ষেপ করার মত কালচার পাওয়া যায় না, বরং এ ধরনের অদ্ভূত কালচারের বিরুদ্ধচারণ করতে দেখা যায় যা সম্পূর্ণ কুফুরি এবং শিরকি কাজ

এ সম্পর্কে যদি দলিল খুজি তাহলে যা পাওয়া যায় তা হলো মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ফারুকে আজম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সময়কার একটি ইতিহাস পাওয়া যায়।

ঐ সময় মুসলমানরা মিশর বিজয় করে। সে সময় মিশরে পাঠানো সেনাপতির নাম ছিলো আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। মুসলিম সেনাপতি মিশরে গিয়ে সেখানে একটি অদ্ভূত কালচার লক্ষ্য করেন যা পবিত্র দ্বিন ইসলামের বিপক্ষে যায়। দেখতে পান, বছরের একটি সময় মিশরের গুরুত্বপূর্ণ নদী নীলনদের পানি শুকিয়ে যেতো। নীলদের পানি শুকিয়ে গেলে স্থানীয়রা একটি কাজ করতো। তারা একটি সুন্দরী যুবতীকের ধরে এনে নদীর ভূমিতে বলী দিতো। দাবি করা হতো- বলী দেওয়ার পর নাকি নীলনদের পানি ফিরে আসতো।

এরপর মুসলমানরা মিশর বিজয়ের পর একটি সময় নীলনদের পানির শুকিয়ে যায়। তখন স্থানীয় মিশরীয়রা মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আসকে বলতে থাকে নারী বলী দিতে। কিন্তু মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নারী বলী দিতে অস্বীকার করেন এবং খলিফার কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখে। মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা ঐ চিঠির জবাব দেন এবং সেনাপতিকে ধন্যবাদ দেন ঐ অনৈসলামিক কালচার পালন না করার জন্য। এ সময় তিনি নীল নদের উদ্দেশ্যেও একটি চিঠি লিখেন। চিঠিটি আমি হুবুহু তুলে ধরছি।-
من عبد الله عمر أمير المؤمنين إلى نيل مصر أما بعد: فان كنت تجري من قبلك ومن أمرك فلا تجر فلا حاجة لنا فيك وإن كان الله الواحد القهار هو الذي يجريك فنسأل الله أن يجريك فألقى عمرو البطاقة في النيل فجرى أفضل مما كان
অর্থ-মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পক্ষ হতে মিশরের নীল নদের প্রতি প্রেরিত এই পত্র। অতঃপর হে নীল নদ! তুমি যদি নিজের ক্ষমতা বলে ও নিজের পক্ষ হতে প্রবাহিত হয়ে থাক, তাহলে আজ থেকে তুমি আর প্রবাহিত হয়ো না। তোমার কাছে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। আর তুমি যদি মহা পরাক্রমশালী পরম করুনাময় এক মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে প্রবাহিত হয়ে থাক, তাহলে আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তোমাকে প্রবাহিত করেন

এই চিঠি মিশরে পৌছানোর পর মুসলিম সেনাপতিসহ সমস্থ এলাকাবাসী যখন চিঠিটিকে নীল নদীতে নিক্ষেপ করেন। নদীতে নিক্ষেপ করার সাথে সাথে আশ্চর্যজনকভাবে নদীতে ১৬ হাত পানি চলে আসে।

(সম্পূর্ণ ইতিহাস পড়তে-
) http://bit.ly/2dhWnWB,
) http://bit.ly/2cZ6Fak,
) http://bit.ly/2cPLpEG)

উপরের ইতিহাস অনুসারে নদীকে আলাদা শক্তি মনে করে নদীর কাছে ক্ষমা চাওয়া, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা করা এ ধরনের বিষয়গুলো আসলে মুসলিম কালচারের সাথে মিলে না, কারণ মুসলমানরা নদীকে আলাদা কোন শক্তি মনে করে না বরং তা শিরক কুফুর এর পর্যায়ে পড়ে। বিপরীতপক্ষে অন্যান্যধর্মগুলোতে যেমন হিন্দু ধর্মে নদীকে দেবতা মনে করা হয়। যেমন স্বরসতী আগে নদী ছিলো বলে বিশ্বাস করে হিন্দুরা। গঙ্গা নদীকে ডাকে মা-গঙ্গা বলে, অঞ্জলী বলে ফুল ভাসিয়ে দেয়। এছাড়া প্রাচীন গ্রিসে নদী-দেবতা হিসেবে অ্যাকিলাসকে স্মরণ করা হতো। প্রাচীন মিশরে ফারাওদের সময়ে যে নদ-নদীগুলোকে শক্তি বা দেবতারূপে স্মরণ করা হলো তা তো উপরের ইতিহাস থেকেই পাওয়া গেলো।


আমার মনে হয় নদীকে ফুল দেওয়া কিংবা নদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মত কুফরি এবং শিরিকি কাজগুলো খুব সুক্ষভাবে হটাৎ করে মুসলমানদের মধ্যে কেন প্রবেশ করছে তা মুসলমানদের চিন্তা করা উচিত।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: