9.22.2016

দুর্গাপুজা দেখতে গেলে, পুজার প্রসাদ খেলে, পুজার কাজে টাকা দিলে আপনি মুরতাদ হয়ে যাবেন


অবশ্যই পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন এবং কমেন্টে মতামত না দিয়ে এড়িয়ে যাবেন না আর মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবিব হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের হুকুম শতো কষ্ট হলেও মেনে নিয়ে নিজের ঈমান কে আপনারা হেফাজত করবেন।

শিরিক কত ভয়াবহ গুনাহ সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না। দুর্গাপূজা সহ সকল ধরণের মুর্তি পুজা, পুজা দেখতে যাওয়া, পুজার প্রসাদ খাওয়া, পুজার কাজে টাকা দেয়া সবই ভয়াবহ শিরকের অন্তর্ভুক্ত। অথচ পুজা আসলে অনেক মুসলমানকে দেখা যায় পুজায় যেতে, পুজার খাবার খেতে, অনেকে আবার চাঁদা দিয়েও সাহায্য করে।

এসব মুসলমানরা কি একবারও ভেবে দেখেছে তাদের পরিনতি কি হতে যাচ্ছে?

শিরকের পরিণাম ভয়াবহ। এটি মানুষের চুড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনে। আল কোরআন ও সহীহ হাদীস থেকে এর ভয়াবহতার স্বরূপ তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ্।

শিরক্ সবচেয়ে বড় অপরাধ-বড় গুনাহ-
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেনঃ আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলম।” (সূরা, লুকমান শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৩)

ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত, তিনি বলেন এক ব্যক্তি বলল, “হে মহান আল্লাহ পাক এর রাসুল হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি?” রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করা, অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সহীহ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

শিরক্ এর অপরাধ/ গুনাহ মহান আল্লাহ্ পাক খালিস নিয়তের তওবা ব্যতীত কাওকে ক্ষমা করবেন নাঃ- মহান আল্লাহ্ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক্ করলে সে এক মহাপাপ আরোপ করে।” (পবিত্র সুরা, নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৪৮)

তিনি আরো বলেনঃ নিশ্চযই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে শরীক্ করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক্ করলে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়।” ( (পবিত্র সুরা, নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১১৬)

জাবির বিন আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ- বান্দার জন্য সর্বদাই ক্ষমা রয়েছে যতক্ষন পর্যন্ত হিযাব বা পর্দা পতিত না হয়।বলা হলো, “হে মহান আল্লাহ পাক এর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! হিযাব বা পর্দা কি?” তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক্ করা।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনু কাছীর ১ম খন্ড ৬৭৮পৃঃ)

শিরক্ করলে জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিতঃ- এব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তিনি বলেনঃ
হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার রব এবং তোমাদের রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো। কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।” (পবিত্র সূরা মায়েদা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৭২)

রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন কিছুকে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক্ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে।” (মুসলিম শরীফ)

শিরক্ করলে সব আমল বাতিল হয়ে যায় এবং মানুষ ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়ঃ- এব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তিনি বলেনঃ তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী হয়েছে তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক্ করলে তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্য তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্থ।” (পবিত্র সূরা যুমার শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬৫)

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি বলেছেনঃ- এটি মহান আল্লাহ পাক উনার হেদায়েত, নিজ বান্দাহদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি এটি দ্বারা সৎপথে পরিচালিত করেন। তারা যদি শিরক্ করতো তবে তাদের কৃতকর্ম নিস্ফল হত।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফঃ আয়াত শরীফ ৮৮)

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়লা আরও বলেনঃ আমি তাদের আমলের প্রতি মনোনিবেশ করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকনায় পরিণত করে দেব।” (পবিত্র সূরা ফোরক্বান শরীফঃ আয়াত শরীফ ২৩)

শিরককারী ধ্বংসে এবং বিপর্যয়ে পতিত হয়ঃ- মহান আল্লাহ্ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেনঃ যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ল, কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।” (পবিত্র সূরা হাজ্জ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩১)

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আরও বলেনঃ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে অপর ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, সুতরাং শীঘ্রই ওরা (মুশরিক হিন্ধুরা) এর পরিনতি জানতে পারবে।” (পবিত্র সূরা হিজর শরীফঃ আয়াত শরীফ ৯৬)

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে আর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করে।’ [পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩১]

আর পবিত্র হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি উনার সাথে কাউকে শরীক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [সহীহ মুসলিম শরীফ ২৬৬৩]

শিরককে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জঘন্যতম পাপ বলে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘যে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করল সে জঘন্য পাপ করল’ [পবিত্র নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৪৮]

সূতরাং একজন মুসলমান হয়ে কখনো উচিত নয়ঃ

- কোন পুজায় যাওয়া।
- মুর্তির পুজা দেখতে যাওয়া।
- পুজার প্রসাদ খাওয়া।
- পুজায় অর্থ দিয়ে সাহায্য করা।

যদি কেউ এসব করে তবে সে স্পষ্ট শিরক করলো। আর শিরিককারী সবচাইতে বড় পাপী এবং জাহান্নামী হবে।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দর্গাপুজা সহ বিধর্মীদের সকল পুজা নামক শিরিক থেকে হিফাজত করুন। আমীন !


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: