9.04.2016

লীগের মুসলিম নেতারা ইসলাম নিয়ে লিখলে হয় বহিষ্কার আর হিন্দু নেতারা বিপক্ষে লিখলে পায় বাহবা


আপনাদের উদ্যেশ্যে একটি ফেসবুক স্ট্যটাস বর্ণনা করছি যেখানে লেখা হয়েছেঃআপনাদের পোলাপান আরো বেশি জঙ্গি হোক, অদের হাতেই মরেন, ইদের জামাতে আবারো হামলা হোক, মরেন আপনারা। আপনারা এইশব পাওয়ারই যোগ্য।

ফেসবুকের পোস্টে উপরের কথাগুলো লিখেছে অনন্ত শেশা নামক এক হিন্দু, সিলেটে ইসকন মন্দিরে সংঘর্ষের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে। অথচ পত্রিকায় আহত ৭ জনের নাম হলো- সাবেক কাউন্সিলর জেবুন্নাহার শিরীন (৫৮), সাজু আক্তার (২৮), বাবুল আহমেদ (৪৩), সাঈদ (২৪), আরিফ (২২), সুমন (১৭) ও রাজেন্দ্র দাশ। । (http://goo.gl/AV6CzB)

অর্থাৎ একজন বাদে বাকি সবাই মুসলমান, যারা আহত হয়েছে মন্দির থেকে ছোঁড়া ঢিলের কারণে। কিন্তু তারপরও সে বলেছে, বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ জঙ্গিতৈরীতে সহায়ক।

এই সমাজকে পরিবর্তনের জন্য সে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছে, যেমন--

১) দিনে ৫ বার মাইকে আযান শুনলে তার সমস্যাহয়। ওয়াজ শুনলে তার সমস্যা হয়। তাই মসজিদ-ওয়াজের মাইক বন্ধ করে মন্দিরের কীর্তনের মাইক চালু রাখতে হবে।
২) গরুর গোশতের দোকানে গরুর গোশত ঝুলিয়ে রাখলে তার কষ্ট হয়। সুতরাং গরুর গোশতের দোকান বন্ধ করতে হবে।
৩) সাথে সাথে রেস্টুরেন্টে গরুর গোশত সার্ভ করাও বন্ধ করতে হবে। তা না করলে আপনারা সব মুসলমানরা হলেন গিয়ে জঙ্গি।

অনন্ত শেশা বর্তমানে মার্কেটিং এক্সেকিউটিভ হিসেবে চাকুরিরত রয়েছে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে, যারা কিউটব্র্যান্ডের কসমেটিকস বাজারজাত করে।

তবে তার একটা কথার সাথে সহমত হতে হয়, তা হলো আপনারা আমাদের লীগ সরকারের মতনই। ঠিকই তো, কারণ আমরা দেখি বর্তমান লীগ সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে পা থেকে চুন খসালেই সংগঠনের টপ নেতাদের পর্যন্ত বহিষ্কার করে দেয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক উপ-সম্পাদক রিতিকা রহমান থেকে শুরু করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, কেউই বাদ যায় না। (http://goo.gl/a8SV8g, http://goo.gl/aYNE6a)

বিপরীতে লীগের হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক স্ট্যাটাস দিলে তার বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করা হয় না। ঠিক সেভাবেই কিউটকোম্পানীতে চাকরি করা এই অনন্ত শেশা জানে যে, মুসলমানদের চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করে গালিগালাজ করলেও তার চাকরিক্ষেত্রে কিংবা সমাজে কোনপ্রকার জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে না। সুতরাং লীগের সাথে আমজনতার পার্থক্য কোথায়? মন্দির থেকে ঢিল ছুঁড়ে মহিলা কাউন্সিলরের মাথা ফাটানোর সাহস ভারত থেকে আসে না, সেটা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসাধারণের নিষ্ক্রিয়তার থেকেই আসে।

অনন্ত শেশার স্ট্যাটাসটি ফ্রেন্ডস অনলি’, তাই শুধু স্ক্রীনশট দেয়া হল। তার একাউন্টের লিঙ্ক- http://goo.gl/xaTr7C


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: