9.26.2016

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বড় অংশটিই হিন্দু ধর্মাবলম্মি নয় কারন হিন্দুরা জাতিগতভাবে ভিতু প্রক্রিতির


আপনি কি জানেন ? ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী নয়? সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই অনেক আলোচনা করছেন। কেউ বলছে ভারতীয় সেনা শ্রেষ্ঠ, কেউবা বলছে পাকিস্তানী সেনা শ্রেষ্ঠ। এই তর্ক একটু উস্কে দিতে আসুন আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু আলোচনা করি।

প্রথমেই বলে রাখি, পৃথিবীতে দুটো জাতি আছে যারা খুবই ভীতু জাতি হিসেবে পরিচিত । এরা কখনই যুদ্ধে অভ্যস্ত নয়। একটি জাতির নাম হচ্ছে ইহুদী জাতি, অপরজাতির নাম হিন্দু জাতি।

ইহুদী জাতিতে যে ভীতু জাতি এটা ইতিহাস দ্বারা বার বার প্রমাণিত হয়। যেমন ধরুন- আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আরবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যতগুলো যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো তার সবগুলো পেছনে ছিলো ইহুদী জাতি। যারা কুরাইশদেরকে কু-পরামর্শ দিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলতো। কিন্তু ইহুদীরা সেসময় একবারও মুসলমানদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে আসেনি।

বর্তমান কালে ইহুদীরা চলে খ্রিস্টানদের উপর ভর করে। ইহুদীদের সামনে আসার যোগ্যতা নেই, তারা আড়লে থেকে কাজ করে। ইসরাইলের সেনাবাহিনীর দিকে তাকালে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হবে। যেমন ইসরাইলের সেনাবাহিনী (আইডিএফ) একটি বড় অংশ দখল করে আছে ড্রুজ সম্প্রদায়। ড্রুজদেরকে অনেকে ইহুদীভাবে, কিন্তু এরা পুরোপুরি ইহুদী নয়, ইহুদীবাদী বা জায়ানিস্ট। এদের আগমন ইসমাইলী শিয়াদের থেকে। আবার ইসরাইলি সৈন্যবাহিনীর মধ্যে বিরাট অংশই হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। অর্থাৎ ড্রুজ ও খ্রিস্টানদের দ্বারাই ফিল্ড পর্যায়ে যুদ্ধের কাজগুলো চালাই ইহুদীরা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থাও কিন্তু একই রকম। ভারতীয় সেনাবাহিনীও খুব ভীতু প্রকৃতির। সম্প্রতি খবর এসেছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা শুনে ভারতের ৪০ হাজার সেনা ছুটির আবেদন করেছে (http://bit.ly/2cPwuIt)। তবে ভারতীয় সেনারা যতটুকুই পারফর্মেন্স দেখায় সেটা কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বী সেনাদের জন্য নয়, বরং অন্যধর্মীয় সেনাদের জন্য।

যেমন ভারতের সেনাবাহিনীর একটা বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে শিখরা। শিখরা খুব হিংস্র প্রকৃতির হয়। তাই শিখদেরকে ভারতীয় হিন্দুরা অগ্রভাগে রাখে। ভারতীয় বাহিনীতে শিখদের জন্য আলাদা ২টি রেজিমেন্ট আছে (শিখ রেজিমেন্ট, শিখ লাইট ইনফেন্ট্রি) । শিখরা ভারতের সেনাপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখলে রাখে। যেমন- ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান অর্জন সিং, সেনা বাহিনী প্রধান বিক্রম সিং, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অতি পরিচিত লেফটেনেন্ট জেনারেল জাগজিট সিং অরোরা, সাবেক সেনাপ্রধান জগিন্দা জাসওয়ান্ত সিংসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শিখ ধর্ম থেকে এসেছে। এছাড়া জাট সম্প্রদায়ও ভারতীয় বাহিনীর অনেক বড় অংশ দখল করে রেখেছে। ভারতীয় বাহিনীতে জাটদের আলাদা রেজিমেন্ট আছে। জাট সেনাদের অধিকাংশ হচ্ছে শিখ। এছাড়া পাঞ্জাব রেজিমেন্টে প্রায় সবাই শিখ ধর্মাবলম্বী। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ হলে শিখরা ভারতের পক্ষে কতটুকু থাকবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ শিখ জাতি নিজেরাই স্বাধীনতা চায়, এজন্য তারা পাকিস্তানের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছে (http://bit.ly/2cPwDM4)

পাশাপাশি ভারতীয় বাহিনীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোরখা সম্প্রদায়। এরা নেপাল থেকে ভাড়া করা সৈনিক। ভারতীয় বাহিনীতে এদের রেজিমেন্ট সংখ্যা ৮টি। গোরখাদের বিরাট অংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশে আছে পার্সী বা জরাথ্রুসত্রা বা অগ্নি উপাসক। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সাম মানেকশ, লেফ. জেনারেল এফএন বিলিমরিয়া (উইলিংটন ক্যান্টমেন্ট প্রধান), অ্যাডমিরাল জাল ছুরছেদজি (সাবেক নেভী প্রধান), এয়ার মার্শাল আস্পাই (সাবেক বিমান প্রধান), এয়ার মার্শাল মিনো মিরওয়ান (সাবেক বিমান প্রধান), এয়ার ভাইস মার্শাল রুস্তম ফিরোজ গান্ধী, এয়ার চীফ মার্শাল মাজর। এছাড়া ভারতীয় বাহিনীতে নাগা রেজিমেন্ট রয়েছে, যাদের প্রায় সবাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।


অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে হিন্দুদের এত উৎফুল্ল হওয়ার কারণ নেই, কারণ তাদের একটা বড় অংশই অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্ভরশীল।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment:

  1. আমি একজন ভারতীয় হিন্দু। দাদা হিন্দু ধর্ম আর হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে আপনি অনেক গবেষণা করেছেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাই পুরোটাই পন্ডশ্রম হয়েছে। প্রথমত,শিখ কোনো ধর্ম নয়। হিন্দু ধর্মের মধ‍্যে থাকা একটা পথ। আপনাদের ইসলাম যেমন শিয়া, সুন্নি ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত, ঠিক তেমন শিখেরাও হিন্দু।
    দ্বিতীয়ত, জাঠ, গোর্খা এরাও একশো শতাংশ হিন্দু। মানুষকে বিভ্রান্ত করার আগে গুগল এ দেখে নিন। জাঠেরা ছড়িয়ে আছেন হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ অঞ্চলে। গোর্খা হল পাহাড়ি হিন্দু। ঠিক যেমন আপনাদের পাকিস্তানি মুসলমান, আরবের মুসলমান, ইরাকের মুসলমান । আপনাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য আপনারা ঐক্যবদ্ধ নন। যার সুযোগ নেয় আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলি। আর আমরা বাঙালি হিন্দু, জাঠ হিন্দু, গুজরাতি হিন্দু, তামিল হিন্দু মিলেমিশে এক দেশে থাকি। বাঙালি হিন্দু সাহিত্য সংস্কৃতি, গানবাজনা য় পারদর্শী। জাঠ, রাজপুত, গোর্খা হিন্দু যুদ্ধে পারদর্শী, গুজরাতি হিন্দু ব‍্যবসা বানিজ্য এবং তামিল হিন্দু বিজ্ঞান এ পারদর্শী। একসঙ্গে সবাই থাকি বলে ভারত আজ একটি পারদর্শী রাষ্ট্র। বিশ্বের অন্যতম আর্থিক শক্তি, পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক বাহিনী, প্রসিদ্ধ বলিউড, যার গান না শুনলে আপনার দিন শুরু হয় না। মুভি না দেখালে প্রেমিকা রাগ করেন।
    তৃতীয়ত, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ রূপে ধর্মনিরপেক্ষ। সক্ষম যারা, তারা যে ধর্ম বা অঞ্চলের মানুষ হোক না কেন,ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য হতে পারে এবং সর্বোচ্চ পদ পেতে পারে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মুসলমানেরাও আছেন।
    চতুর্থত, বীরত্ব ধর্মের ভিত্তিতে নয়, অঞ্চল বিশেষে নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশী মুসলমানের বীরত্ব কি আরব, পাঠান, আফগানদের সঙ্গে তুলনীয়? এমনকি পাক মুসলমানেরাও আপনাদের তুলনায় সক্ষম। ৭১ এর যুদ্ধে আমরা সীমিত শক্তি দিয়ে আপনাদের লড়াইয়ে সঙ্গী ছিলাম। পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করেছিল ৬৫,৭১ এবং ৯৯ এ ভারতীয় বাহিনী। আজও কাশ্মীর আমাদেরই আছে। এক ইঞ্চিও পাকিস্তান নিতে পারেনি।
    পঞ্চমত, শিখ জাতির পাঁচ শতাংশ ধনী মানুষ কানাডা, পাকিস্তান প্রভৃতি রাষ্ট্রের মদতে আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবী জানায়। যে দাবী আপনারাও জানিয়েছিলেন ৭১ এ। পার্থক্য আপনাদের শতকরা নব্বই ভাগ সেই দাবীর সাথে সহমত ছিলেন, পাঞ্জাবের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ পৃথক রাষ্ট্রের দাবীর সঙ্গে নেই। যারা দাবী জানান, তাদের অবস্থা ৮৪ সালে কী হয়েছিল এক রাতের মধ‍্যে, দয়া করে গুগল দেখে নিন।
    পঞ্চমত, হিন্দু রা যদি এতোটাই হীনবল হয়, তাহলে দিন রাত আপনাদের মিডিয়া এবং আপনাদের পূর্বতন রাষ্ট্র পাকিস্তানের মিডিয়া ভারতীয় আগ্ৰাসন,হিন্দু সংস্কৃতির আগ্ৰাসন বলে চিৎকার করে কেন? দুর্বল কি সবলের উপর আগ্ৰাসন চালাতে পারে? ভাববার বিষয়!
    সর্বশেষ একটা জিনিস বলতে চাই,বাংলাদেশ তার সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে যে দ্রুতহারে উন্নতি করে চলেছে, তার খবর আমরা এই দেশে থেকে পাই। আপনাদের সঙ্গে পাকিস্তানকে গুলিয়ে ফেলবেন না। আপনাদের গ্ৰহমুক্তি হয়েছে। ওদের সঙ্গে আমাদের দন্দ্ব চিরকালীন। আপনারা আমাদের বন্ধু। পারস্পরিক সৌহার্দ্য নষ্ট না করে সহযোগীতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের বিবেচ‍্য হওয়া উচিত। ধন‍্যবাদ।

    ReplyDelete