9.08.2016

আইএসের হুমকি ও আমাদের চাওয়া কবে আমরা পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার নিশ্বাস নিবো


প্রবাদ আছে, “আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর দরকার নাই কেননা আমেরিকানদের নীতি হচ্ছে বন্ধু রূপে প্রবেশ করে শত্রুর চেয়ে বেশী ক্ষতি সাধন করা। যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো; “আইএস

আমি অনেক আগেই লিখেছি আইএস হচ্ছে আমেরিকার ভাড়াটে গুন্ডা। (এ সম্পর্কে এই লিখাটা পড়ুনঃ "IS" Made By "US")

তবে আজকের লিখার প্রসঙ্গটি একটু ভিন্ন। সাধারণত, আপনি যদি কারো বন্ধু হন তাকে কিন্তু বন্ধু সেজে কোন বিষয়ে হুমকি দিতে পারবেন না। তবে বন্ধু সেজে এটা সেটা দাবি করতে পারবেন যেটা শত্রুতার মাধ্যমে সম্ভব না। আবার শত্রুতার মাধ্যমে ভয় দেখীয়ে হুমকি দিয়ে যেটা আপনি লাভ করতে পারবেন সেটা বন্ধুত্বের দ্বারা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু আপনি সবটাই চান! সেক্ষেত্রে আপনাকে শত্রু এবং বন্ধু দুই রূপ-ই ধারণ করতে হবে।

আর সেই কাজটি বর্তমানে সারা বিশ্বে একচেটিয়া করে যাচ্ছে আমেরিকা। যেমনঃ বাংলাদেশের কথাই ধরি। বাংলাদেশের সরকারের দৃষ্টিতে আমেরিকা হচ্ছে বন্ধু আর আইএস হচ্ছে শত্রু। কিন্তু কি কারনে হলো এই ধরনের ধারনা? জবাবে বলতে হয় বাংলাদেশ সরকারের ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স সম্পর্কে দূরদর্শিতার প্রচন্ড অভাব। যার ফলে আজ এক চরিত্রের সাথে দুইরকম সর্ম্পক।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে; আইএস কেনো রাশিয়া বা চায়নায় হামলা চালায় না?

উত্তরঃ রাশিয়া বা চায়না হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের ঝানু প্লেয়ার। যাদের কাছে আমেরিকার বহুরূপি বেশ কোনো কাজে আসবেনা। আইএস রাশিয়াতে বা চীনে হামলা করলে আমেরিকার যে খবর আছে সেটা আমেরিকা ভালো করেই জানে। কেননা, রাশিয়া বা চীন একবার ক্ষেপলে আইএসের গোড়া উপড়ে দেওয়ারও ক্ষমতা রাখে তা আপনি মানুন বা না মানুন। আর সেখানেই আমেরিকার বড্ড ভয় । যার ফলে আজ আইএস বলে কিছু নেই রাশিয়া বা চায়নাতে।

কিন্তু নিচু র‍্যঙ্কের বা রাশিয়ান ব্লকের দেশগুলোকে হামলা/হুমকি/টুইট দেওয়ার ক্ষেত্রে আইএস হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পন্থা। সেই সিস্টেম এপ্লাই করেই আজ সারা বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে আমেরিকা। যাতে সে মোটামোটি সফলও।

আমার মন্তব্যঃ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে ২ লক্ষ মা বোনকে ইজ্জত সম্মান হারাতে হয়েছে। বহু কষ্ট সহ্য করে আজ আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা কি আসলেই স্বাধীন? নাকি পরাধীন? আমেরিকান ভাদারা মাথার উপর দুইরূপ নিয়ে যেভাবে ছড়ি ঘুরাচ্ছে তাতে স্বাধীনতা নিয়ে বহু প্রশ্ন জাগে। সিরিয়ানদের ছবি ভেসে আসে। শাসকদের দালালী পিন্জরে বাধে! একাত্তরের কথা মস্তিষ্কে ভেসে আসে.............


আর দেরি নয় বহুরূপীদের বিরূদ্ধে এখন থেকেই সংগ্রাম করতে হবে। কিন্তু এবারের সংগ্রামে কত মা বোন সম্মান হারাবে? কবে আমরা পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার নিশ্বাস নিবো!


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: