9.05.2016

আসুন জেনে নিই আজকে মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চলছে তার মূল কারন কি কি?


ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী, জামায়াত শিবিরের ক্যাডার বাহিনী, বিএনপির ক্যাডার বাহিনী, হেফাজতের গাজীরা কই? তালামিজ, ছাত্রসেনা, চরমোনাই খেলাফত আন্দোলনের বীর মুজাহিদ বাহিনী আজ কই গেলো? ইসলাম প্রচারক তাবলীগীরা কি আজীবন মসজিদেই ঘুমাবে? সিলেটে মসজিদের ইমাম মুওাজ্জিন ও মুসল্লিদের উপর হামলার প্রতিবাদে কি তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবে নাকি এরা সব এখন হাতে চুড়ি পড়ে মা আর বউয়ের আচলের নিচে বসে আছে? নাকি মালূগো দেইখা চকির নীচে ঢূকছে?

এরাই আবার ফাঁকা মাঠে চিৎকার দিয়ে বলে বেড়ায় সিলেটের মাটি অমুক তমুকের ঘাটি, ছি ছি ছি লজ্জা থাকলে আর কখনো যেনো না বলে। আর যদি কলিজা গুর্দা ওয়ালা হয়ে থাকে তাহলে যেনো দল মত নির্বিশেষে এক হয়ে ইহুদিবাদি ইসকনের বিরুদ্বে রুখে দাড়ায় ঈমানি বিষয়ে।

মুসলিম হলে নিচের আয়াত শরীফ ও হাদিস শরীফ গুলোর উপর আমল করো যদি চাও মহান আল্লাহ পাক তুমাদের ধ্বংস করে না দেন।

যেমন কালামুল্লাহ শরিফে মহান আল্লাহ পাক ফরমানঃ সবাই উনার অভিমুখী হও এবং ভয় করো, কায়েম করো সম্মানিত নামায এবং হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত  

পবিত্র সুরাহ আর রূমঃ আয়াত শরিফ ৩১-৩২।

আরো বলেন হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকোএবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না আর তোমরা সকলে মহান আল্লাহ পাক উনার রশিকে মজবুত করে দরে রাখো; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না

পবিত্র সুরাহ আল ইমরান আয়াত শরিফ ১০২-১০৩।

এবার আসুন জেনে নিই আজকে মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চলছে তার মূল কারণ কি?

আসুন! নাবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার হাদিস শরীফ বোঝার চেষ্টা করি জেনো আবারো আমরা এক হতে পারি।

প্রশ্ন বর্তমান বিশ্বে সম্মানিত মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চলছে, তার কারণ কি? এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি?

উত্তরঃ প্রথমতঃ

এটা মুসলমানদের কৃতকর্মের ফল। কারন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ তোমাদের যেসব বিপদ-আপদ স্পর্শ করে, সেগুলি তোমাদের কৃতকর্মের ফল।
- পবিত্র সূরা আশ শূরা শরীফ ৪২/৩০।

আর আক্বায়ে নামদার তাজদারে মদিনা শরীফাইন রাসুলে খোদা নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তোমরা পাঁচটি বিষয়ে ফেতনার সম্মুখীন হবে।

১. যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য জিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে প্লেগ মহামারী আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।

- জিনা-ব্যভিচার সমাজে কেমন আকার ধারণ করেছে আমার চেয়ে আপনারাই ভালো অবগত।

২. যখন কোন জাতি ওজন ও মাপে কারচুপি করে, তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন দারিদ্র্য এবং শাসকদের নিষ্ঠুর নিপীড়ন।

- এটা এখন খুব মামুলী ব্যপার হয়ে গেছে।

৩. যখন কোন জাতি তাদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভু-পৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকত, তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হত না।

- যাকাত দেওয়া এখন আর ফরজ নয় ফ্যশন হয়ে গেছে যার ইচ্ছা সে দেয় যার ইচ্ছা সে দেয়না অথচ সবাই জানে জাকাত ঈমানের ৩ নং অবস্থানে আছে যা আদায় না করলে মুসলিম থাকবেনা।

৪. যখন কোনো জাতি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন মহান আল্লাহ পাক তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।

- আর রাসুলে খোদা নাবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার সাথে কৃত ওয়াদা হলো পবিত্র কোরআন শরীফ আর সুন্নাহ শরিফের বিপরীত চলাফেরা করা যা আমরা হরদম করে যাচ্ছি।

৫. যখন তোমাদের শাসকবর্গ মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব তথা কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন।

- আপনি যদি পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখেন যে মুসলিম দেশগুলো পবিত্র কোরআন শরীফ আর সুন্নাহ শরিফের বিপরীত বিধান দিয়েছে তাদের মধ্যে যুদ্ধ বিদ্রোহ লেগেই আছে।

হাদিস শরীফ সূত্রঃ ইবনু মাজাহ হা/৪০১৯, হাদীস সহীহ, ছহীহাহ হা/১০৬-০৭।

উত্তর দ্বিতীয়তঃ দলে দলে বিভক্ত হওয়া।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ তোমরা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো এবং পরস্পর ঝগড়া করো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে।

- পবিত্র সূরা আনফালঃ শরীফ আয়াত শরীফ ৪৬।

উত্তর তৃতীয়তঃ মুমিন বান্দাদের উপর বিপদ-আপদ আপতিত হয় পরীক্ষা স্বরূপ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ আর আমরা তোমাদের পরীক্ষা নেবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-শস্যাদি বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ হল ধৈর্যশীলদের জন্য।

- পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ আয়াত শরীফ ১৫৫।

উত্তর চতুর্থতঃ আমর বিল মা রূফ (সৎ কাজের আদেশ) ও নাহী আনিল মুনকার (অসত কাজের নিষধ) এর দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেনঃ মানুষ যখন কোনো অন্যায় হতে দেখে, অতঃপর তারা তা প্রতিরোধ করে না, তখন সত্বর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ব্যাপক গযবের দ্বারা পাকড়াও করেন। অর্থাৎ আরো বেশি বিপদ বাড়িয়ে দেন।

- তিরমিযী শরীফ, আবুদাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ হা/৫১৪২।

আপনি খেয়াল করলেই স্পষ্ট দেখবেন যে মুসলমান তাদের এ দায়িত্ব যেনো ভুলে গেছে। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার গযব ব্যাপকতা লাভ করছে।

সুতরাং মুসলমানদের উপর সকল নির্যাতনের মূলে রয়েছে কোরআন ও সুন্নাহ শরীফ থেকে দূরে সরে যাওয়া।


এক্ষণে মুসলমানদের একমাত্র করণীয় হল, ঈমান-ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তার আলোকে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম সমাজ গড়ে তোলা। আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: