9.08.2016

ভারতীয় মুসলমানদের ন্যায় মনমানসিকতা ধারণ করায় সিলেটিদের আজ হিন্দুদের হাতে মার খেতে হচ্ছে


৪৭ এর দেশবিভাগের সময় বাংলাদেশের যে ভূখণ্ডটি ভারতের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তা হলো আমাদের সিলেট বিভাগ। এর কারণ, সিলেটের মুসলমানদের একটি বড় অংশই ছিল কংগ্রেসের সমর্থক। যার ফলশ্রুতিতে সিলেট পূর্ব বাংলার অন্তর্ভূক্ত হবে কি হবে না, তা নিয়ে তখন ভোটাভুটি হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে এই ভোটাভুটি সিলেট রেফারেন্ডামনামে পরিচিত। এই ভোটে বাংলাদেশে যোগ দেয়ার পক্ষে পড়েছিল ২,৩৯,৬১৯ ভোট, আর ভারতের পক্ষে পড়েছিল ১,৮৪,০৪১ ভোট।

অর্থাৎ বর্তমান সিলেটবাসীর পূর্বপুরুষদের প্রায় ৩৪ শতাংশই ভোট দিয়েছিল ভারতে থাকার পক্ষে। যার ফলশ্রুতিতে সিলেটবাসীর উল্লেখযোগ্য অংশের মন-মেন্টালিটি হলো ভারতীয় মুসলমানদের মতো, আর এটিই তাদের মার খাওয়ার মূল কারণ।

এখন ভারতীয় মুসলমানদের মন-মানসিকতা কীরকম? আজকে বিবিসিতে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ভারতের হরিয়ানাতে এখন গরুর গোশত ঠেকাতে বিরিয়ানি পুলিশনিয়োগ করা হয়েছে, যারা মুসলমানদের হোটেলে ঘুরে ঘুরে দেখবে সেখানে বিরিয়ানীতে গরুর গোশত দেয়া হয় কিনা। হরিয়ানার মেওয়াট শহরের রেস্টুরেন্টগুলোতে নাকি গরুর গোশত মেশানো হয়, এই অভিযোগের তদন্ত করবে বিরিয়ানি পুলিশ। (http://goo.gl/hozL1g)

উল্লেখ্য, মেওয়াট শহরটির ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী হলো মুসলমান। আইনজীবি ও মেওয়াট বার এসোসিয়েশনের সদস্য নূরউদ্দিন নূর বিবিসি বাংলাকে বলছিলো, "বিরিয়ানিতে গরুর গোশত মেশানোর এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। বহু যুগ ধরে এখানে বিরিয়ানি তৈরি আর বিক্রি হয়, কখনই বিফ থাকে না তাতে। মেওয়াটের বদনাম করতে এসব বলা হচ্ছে। এখানে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে যে একটা সম্প্রীতি রয়েছে, সেটা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, মানুষের মনে ভীতি তৈরি করতে চাইছে কেউ কেউ।"

অর্থাৎ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেখানকার মুসলমানদের উপর স্টীমরোলার চালালেও তারা কতোটা নপুংসক ও অসাম্প্রদায়িক! মুসলিম অধ্যুষিত মেওয়াটে গরুর গোশত খাওয়ার অধিকার দাবি করা তো দূরে, উল্টো মুসলমান নেতারা সেখানে কাচুমাচু করে বলছে, “না না এগুলো সব বদনাম করতে বলা হচ্ছে। আমরা আমাদের হিন্দু ভাইদের সাথে কোনক্রমেই সম্প্রীতিনষ্ট করতে চাই না।

ঠিক এই ধরণের অসহায় বক্তব্যই কি আমরা শুনিনি বাংলাদেশের অন্তর্গত সিলেট জেলার মুসলমানদের তরফ থেকে? ইসকনীদের গুলি খাওয়ার পর ভিডিওতে সিলেটের এক স্থানীয় মুসলমানের বক্তব্য হলো, “আমাদের হিন্দুদের নিকট অনুরোধ, তারা যেন আমাদের শান্তিমতো নামায পড়ার জন্য দশটা মিনিট সময় দেয়।

এটা কী স্বাধীন বাংলাদেশের কোন মুসলমানের বক্তব্য হতে পারে? আমরা তো নারায়ণগঞ্জের মুসলমানদের দেখেছি, কিভাবে তারা সেলিম ওসমানের পক্ষে একত্রিত হলো। হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নারায়ণগঞ্জে এনে শ্যামল কান্তির হাতে নির্যাতিত স্কুলছাত্র রিফাতকে নিয়ে সমাবেশ করা হলো। শুধু তাই নয়, সেই সভায় হিন্দুদের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্য স্থানীয় কেবল টিভিতে প্রচার করা হলো। ভয়ে নারায়ণগঞ্জের হিন্দুরা সব খাটের তলে লুকিয়ে গেল। এমনকি ঢাকা শহর থেকে নাসিমের মতো মন্ত্রীও হুংকার দিয়ে সেলিম ওসমানের একটা চুলও খসাতে পারেনি।

ঠিক একই ঘটনা ঘটলো গেণ্ডারিয়ার কাপড়িয়া জামে মসজিদের বেলায়। মুসল্লীরা আর কিছু না পারুক, ক্যামেরার সামনে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিল। সাথে সাথে কাজ হলো, পরের জুমাতেই গেণ্ডারিয়ায় সারা দেশ থেকে মুসলমানরা এসে জড়ো হল। ভয়ে গেণ্ডারিয়ার হিন্দুরা সব ঘরের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে রইল। মসজিদে হামলাকারী ওসি মিজান নিজে থেকে এসে মসজিদ কমিটির কাছে মাফ চাইল।

কিন্তু সিলেটের মুসলমানদের ক্ষেত্রে তার কিছুই দেখা গেল না। যেই তারাপুর চা বাগান কেড়ে নিচ্ছে হিন্দুরা, সেই তারাপুর চা বাগান রক্ষা কমিটিতে তারা সামনের সারিতে রেখেছে হিন্দুদের। অর্থাৎ হিন্দুদের লাথি খেয়েও তারা অসহায়ের মতো সম্প্রীতির কথা বলে আর হিন্দুদের তুষ্ট করার চেষ্টা করে, ঠিক ভারতীয় মুসলমানদের মতো। আমরা জানি, দুর্বলের উপর সবাই চেপে বসে। হরিয়ানার মেওয়াটের দুর্বল মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বিরিয়ানি পুলিশ’, আর সিলেটি মুসলমানদের মার দেয়ার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে ইসকনী পুলিশ


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: