10.05.2016

আগাগোড়া মুসলিমবিরোধী একটি সিনেমাকে ‘কাটছাঁট’ করা কিভাবে সম্ভব? উত্তর দিন?


পশ্চিমবঙ্গে কয়েকদিন পরে দুর্গাপূজায় জুলফিকারনামে একটি সিনেমা রিলিজ করা হবে। ইউটিউবে সিনেমাটির ট্রেলারে শুরুতেই শোনা যায় গুলির শব্দ, দেখানো হয় রবীন্দ্রর ছবির উপর রক্ত ছিটকে পড়ছে। এরপর দেখানো হয় টুপি ও পাঞ্জাবী পরা মুসলমানদের, সাথে সাথে শিয়াদের গায়ে তরবারি দিয়ে আঘাত করে রক্তপাতের দৃশ্য দেখানো হয়। পাঞ্জাবী পরা বাচ্চাদের তরবারি হাতে নিয়ে মারামারির দৃশ্য দেখানো হয়। সিনেমার প্রত্যেকটি চরিত্র হলো মুসলিম চরিত্র, যাদের মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি ও গায়ে কাবলি ড্রেস। (https://youtu.be/iBO6H7LPqbM)

সিনেমায় কারিশমা আহমেদনামে একটি পতিতার চরিত্রে অভিনয় করে পাওলি দাম, যাকে ট্রেলারে দেখা যায় সিগারেট ফুঁকতে। উল্লেখ্য, এই জুলফিকারসিনেমার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় কয়েকমাস আগে রাজকাহিনীনামে একটি সিনেমা বানিয়েছিল, যেখানে দেশভাগকে নেগেটিভ হিসেবে দেখানো হয়েছিল (অর্থাৎ দুই বাংলা এক হয়ে যাও)। ঐ রাজকাহিনীসিনেমাতে একটি পতিতালয়কে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত হয়, যে পতিতালয়ের সবগুলো মেয়ের নাম হলো মুসলিম নামে। পতিতাদের মূল সর্দারণীর নাম দেয়া হয় বেগম জান। (https://goo.gl/jFFNqp

বোঝাই যায় যে, এই সৃজিত মুখোপাধ্যায় কতোটা সাম্প্রদায়িক ও ইসলামবিদ্বেষী। সে তার প্রত্যেকটি সিনেমায় উদ্দেশ্যমূলকভাবেই পতিতা চরিত্রগুলোর নাম মুসলিম মেয়েদের নামে রেখেছে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের এই জুলফিকারসিনেমাকে ঠিক সেভাবেই ঠেকিয়ে দেয়া উচিত, যেভাবে তারা তসলিমা নাসরিনকে ঠেকিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেখানকার সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সংগঠনগুলো সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আশ্বাসপেয়ে মামলা ও এফআইআর করা থেকে দূরে রয়েছে। পরিচালক বলেছে, এই সিনেমার আপত্তিকরঅংশগুলো বাদ দিয়ে নাকি মুসলিম সংগঠনের নেতাদের দেখানো হবে। কিন্তু একটি সিনেমাকে কী করে কাটছাঁটকরা সম্ভব, যেখানে সবগুলো দৃশ্যই হলো চরম আপত্তিকর ও মুসলিমবিদ্বেষী? কাটছাঁট করে কী অভিনেতাদের গা থেকে কাবলি ড্রেস ও দাড়ি বাদ দেয়া সম্ভব? সুতরাং পুরো আশ্বাসটাই ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছু নয়। (https://goo.gl/kgTZ5H)



সিনেমাটির স্বপক্ষে ইতিমধ্যেই ফেসবুকের উগ্র হিন্দু পেজগুলো প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। (https://goo.gl/Z4eGDF) সুতরাং পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা যা করছে তা সম্পূর্ণ ভুল ও বোকামি, আশ্বাসের নামে হিন্দুদের ধোঁকায় না পড়ে তাদের অবিলম্বে মামলা করা উচিত। বিশেষ করে মুসলিম মা-বোনদের অবমাননা করার জন্য কোটি কোটি টাকার মানহানি মামলা করা উচিত এই সাম্প্রদায়িক সৃজিত মুখোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে। হিন্দুদের পূজার সময়ে এমনিতেই মুসলিমবিরোধী আবহ বিরাজ করে, এর মধ্যে এই সিনেমা রিলিজ হলে তা আগুনে ঘি ঢালার সমতুল্য হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: