10.31.2016

আসুন জেনে নেই হায়াৎ, রিজিক, বিবাহ সম্পর্কে পবিত্র দ্বিন ইসলাম কি বলেন

সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি চায় যে তার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হোক এবং বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হোকতাহলে সে যেনো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। "-[পবিত্র মুসলিম শরীফ]

- কি বুঝলেন? আপনি যদি আপনার আত্বিয় স্বজন এর সাথে সু সম্পর্ক রাখেন এবং তাদের হক্ব কে যথাযথভাবে আদায় করেন তাহলে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার হায়াত এবং রিজিক কে বাড়িয়ে দেবেন।

শুধু তাই নয় আপনি যদি মোমিন খাটি বান্দা হতে পারেন তাহলে আপনার দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো কিছুর ভয় নাই কারন খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মোবারক করেনঃ "আর যে ব্যক্তি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেখালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্যে নিস্কৃতির বা মুক্তির পথ বের করে দিবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দান করবেন।" -[পবিত্র সূরা তালাক শরীফঃ আয়াত শরীফ ২-৩]

তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনার কি আছে বা কি নেই তা চিন্তা করে মাথা নষ্ট করে লাভ নাই আপনি নিজেকে মোমিন মুত্তাকি বানালে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার রিজিকের কুদরতি ফায়সালা করে দেবেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে আপনার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।

সমাজে একটা জিনিস আজকাল প্রায়ই দেখা যায় তা হলো জন্মনিয়ন্ত্রন এবং এবরেশন করার  প্রবনতা আর ইহা মূলত দুইটা কারনে করা হয়, এক) অভাব অনটনের কথা ভেবে। দুই) ইহুদি নাসারাদের ধোকায় পড়ে অথচ ইহা স্পষ্ট কুফুরি কারন, খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মোবারক করেনঃ দারিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদিগকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি। [পবিত্র সূরা বনী ইসরাঈল শরীফআয়াত শরিফ-৩১] তাই দরিদ্রতার ভয়ে যদি কেউ এই ধরনের কাজ করে তাহলে সে কুফরি করলো।

শুধু তাই নয় ইহুদি নাসারাদের ধোঁকায় পড়ে মুসলিম রা আজকাল একটি দুইটির বেশি সন্তান নিতে নারাজ নাউযুবিল্লাহ অথচ উপরে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেই দিয়েছেন রিজিকের মালিক তিনি নিজে আর সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান দায়িনী নারীকে বিবাহ করো। কারণ আমার উম্মতের সংখ্যা বেশী হওয়া আমার গৌরবের কারণ’ (পবিত্র আবু দাঊদ শরীফনাসাঈ শরীফমিশকাত শরীফ হা/৩০৯১)

শুধু তাই নয় হযরত মু'আবিয়া ইবনে হাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেনঃ যে কালো কুৎসিত মহিলা সন্তান জন্ম দেয় সে ওই সুন্দরী মহিলার চেয়ে উত্তমযে (রূপ লাবন্যের ক্ষতির ভয়ে) সন্তান জন্ম দেয় না। আমি (আমার রবের দরবারে) তোমাদের আধিক্যের কারনে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করবো। এমনকি গর্ভ থেকে পতিত (অসম্পূর্ণ) বাচ্চাও পবিত্র জান্নাতের দ্বারে এসে অভিমানবস্থায় দন্ডায়মান হবে। তখন তাকে আদেশ করা হবে যেপবিত্র জান্নতে প্রবেশ করো। তখন সে বলবেহে আমার প্রতিপালকআমার পিতা- মাতাইরশাদ মোবারক হবেতুমি তোমার পিতা-মাতাসহ পবিত্র জান্নাতে প্রবেশ করো। সুবাহানাল্লাহ -(কানযুল উম্মালঃ পবিত্র হাদিস শরীফ ১৬:২৭৪)

বুঝতে পারলেন? আপনার যদি অনেক গুলো বাচ্চা থাকে তাহলে আপনার উপর সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রাজি আর খুশি থাকবেন এবং কেয়ামতের ময়দানে আপনাকে নিয়ে গর্ব করা হবে আর রিজিকের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেই দিয়েছেন যে সন্তান কে ভুমিষ্ট হতে দিতে হবে এবরেশন করে নষ্ট করলে তা হত্যার অপরাধ হবে কিন্তু যদি মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করেন তাহলে প্রত্যেক শিশুর রিজিক তিনিই দেবেন আপানার চিন্তা পেরেশানির প্রয়জন নাই।

আর মেয়েরা অবশ্যই অধিক প্রেমময়ী হবেন নাহলে আপনাদের দিন দুনিয়া বরবাদ হয়ে যাবে কারন সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "স্ত্রী সব সময়ই স্বামীর মুখাপেক্ষী। তথাপিও যে স্ত্রী স্বীয় স্বামীর কৃতজ্ঞ নয়খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি সেই স্ত্রীর দিকে রহমতের নজরে তাকাবেন না।" (তিবরানী শরীফ) এর দ্বারা নিশ্চয়ই প্রমান হয় স্ত্রীদের প্রেমময়ী হওয়া আবশ্যক।

আজকাল সমাজে আরেকটি বিষয় খুব বেশি দেখা যাচ্ছে মানুষ শুধুই সুন্দরী মেয়ে খোঁজে বিয়ের বেলায় যদিও সে চরিত্রহীন হয় তাহলেও সমস্যা নাই অথচ পবিত্র হাদিস শরীফে বিয়ের কনের ব্যপারে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে কেমন মেয়ে বিয়ের জন্যে খোঁজবেনঃ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেনসাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেনঃ "সমগ্র পৃথিবীটাই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে কল্যাণকর ও উত্তম সম্পদ হল চরিত্রবান নেককার স্ত্রী।" [সহীহ মুসলিম শরীফরিয়াদুস সালেহীন শরিফঃ হাদিস শরীফ নং ২৮০]

সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেননারীকে বিবাহ করা হয় চারটি জিনিস দেখে অর্থাৎ যদি এই চারটি জিনিস দেখে যে কোনো মোমিন মুসলমান বিবাহ করবে তার দ্বিন দুনিয়া আখেরাত উজ্জ্বল হবে আর তা হলোঃ

(১) তার সম্পদ
(২) তার বংশ মর্যাদা
(৩) তার সৌন্দর্য(চেহারা সাদা নয় বরং চেহারার সুন্দর আবয়ব) এবং
(৪) তার দ্বীনদারীর কারণে।

কিন্তু উপরের ৪ টি বিষয়ের মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন তোমরা দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও। নাহলে ধ্বংস হও। (পবিত্র বুখারী শরীফমুসলিম শরীফমিশকাত শরীফ হাদিস শরীফ ৩০৮২,‘বিবাহ’ অধ্যায়)।

অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছেলে (বর) সম্পর্কে বলেনযখন তোমাদের কাছে এমন কোনো ছেলে বিবাহের পয়গাম দেয়যার দ্বীনদারী এবং সচ্চরিত্রতার ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্টতখন ঐ ছেলের সাথে তোমাদের মেয়েকে বিয়ে দাও। যদি না দাওতাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও বড় ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি হবে’ (পবিত্র তিরমিযী শরীফমিশকাত শরীফঃ হাদিস শরীফ ৩০৯০)।

উপরোক্ত দুটি হাদীছ শরীফে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের বিবাহের মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। এক্ষণে দ্বীনদারীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাকীগুলি যথাসম্ভব সামঞ্জস্য রেখে পারস্পরিক বিবাহ সম্পাদন করাই শরীআত সম্মত।

কিন্তু আজকাল ছেলের দ্বিনদারির চেয়ে তার কতটুকু সম্পদ আছে কতটা ডিগ্রি আছে তাই মেয়ের বাপ তালাশ করে আর মেয়ের মা খোঁজে মেয়ে কতটুকু সুন্দরী সে পর্দাশীল ফরহেজগার দ্বীনদার কি না তা খোজেন না। এবার আপনারাই বলুন এই সমাজের কতজন মানুষ সত্যিকারের মুসলমান? কোরআন সুন্নাহ দিয়ে তাদের বিয়ের সময় ধরা হলে তাদের ঈমান কি যায়গায় থাকবে?

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নাহ মোবারক, উনার হাদিস শরীফ এবং কালামুল্লাহ শরীফ অনুসারে জীবন জাপন করার তৌফিক দান করুন আমিন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: