11.07.2016

বর্তমানে মুসলমানদের নিদ্রিষ্ট কোনো আদর্শ নাই যার কারনে সর্বত্র মার খেয়ে যাচ্ছে তারা কিন্তু কেনো?


বর্তমান সম্মানিত মুসলমান উনাদের কোনো নিদ্রিষ্ট আদর্শ নাই, যার উপর তারা একত্রিত থাকতে পারে। যখন যে যেটা বলে, তার দিকেই আকৃষ্ট হয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। অনেকটা বেওয়ারিশ কুকুরের মতো। যত্রতত্র খাবারের খোজ করে, কিন্তু বছর শেষে মিনিউসিপিলাটির লোকেরা এসে তাদের হত্যা করে যায়।

কোনো একটি জাতি উন্নতি করতে চাইলে তাকে অবশ্যই কোন না কোন আদর্শের উপর দৃঢ় থাকতে হবে। এখন এটা বিশ্বাস করলাম, তখন ওটা বিশ্বাস করলাম, সেটা হবে না। ফেসবুকে দেখলাম রসুরাজ ধর্ম অবমাননা করেছে, তাই ঝাপিয়ে পড়লাম, এখন দেখছি একাত্তরটিভি আর শাহরিয়ার কবির বলছে- সে অবমানান করেনি, এটাও বিশ্বাস করলাম। মসজিদের হুজুর বললো- ইসলাম অবমাননা করলে তার প্রতিবাদ করা ঈমানী দায়িত্ব, প্রতিবাদ না করলে ঈমান নষ্ট হবে, তাই প্রতিবাদ করলাম, কিন্তু পিনাকী ভট্টাচার্য যখন বুঝালো হাজার অবমাননা হলেও তার প্রতিবাদ করবেন না, এটা ফাদ হতে পারে, তাই পিনাকীর কথা শুনে ইসলাম অবমানান হলেও চুপ করে বসে থাকলাম। এটাই এখন মুসলমানদের নিয়তি।

আপনি ভালো হোন কিংবা মন্দ হোন, আপনি ছোট হোন কিংবা বড় হন, যদি দুনিয়াতে সম্ভ্রম নিয়ে বেচে থাকতে চান, যদি অপরের দ্বারা লাঞ্চিত হতে না চান, তবে অন্তত একটি মতের উপর দৃঢ় থাকুন। মতটি ১০০% সঠিক না হোক, শেষ পর্যন্ত একটি মতের সাথে মিলে কাজ করলে অন্তত একটা সময় গিয়ে কূলে উঠতে পারবেন।

প্রাথমিক যুগে মুসলমান উনাদের মধ্যে একটি মতের উপর দৃঢ় থাকার বিষয়টি ছিলো সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে। মুসলমান উনারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো, তখন সেটার শেষ দেখে ছাড়তো, মাঝ পথে গিয়ে বলতো না, “না, ওমুক খুব ভালো, তমুক খুব নিরীহ আমি যুদ্ধ করবো না”, “কাফেররা (অমুসলিম) খুব ভালো, সব কাফের খারাপ না”, “মন্দির ভাঙ্গা খুব খারাপ কাজ”, “মালউন বলা ঠিক নয়, পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনার ব্যাখ্যাটা আসলে এমন নয়”, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের প্রানের আক্বা সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের বলতেন কাফেরদের (অমুসলিম) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ব্যস উনারা যুদ্ধ করতেন। আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনার মধ্যে বর্ণিত আছে- কাফেররা অপবিত্র, সম্মানিত মুসলমান উনাদের শত্রুকিন্তু কোনো সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের এমন বক্তব্য পাওয়া যায় না, যে তিনি বলেছেন- কাফিররা খুব ভালো, সব কাফের খারাপ না। বরং সম্মানিত মুসলমান উনাদের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র আল কোরআন উনার মাধ্যমে উনাকে আশিদ্দা-উ আলাল কুফফারনামক একটা উপাধি দেয়া হয়েছিলো, যার বাংলা অর্থ- কাফেরদের প্রতি কঠোর। কিন্তু আজকাল কোনো মুসলমান উনাদেরকে যদি বলা হয় সে অমুসলিমদের প্রতি কঠোর, তবে সবাই ছি ছি করবে। বলবে- ব্যাটা এক নম্বর সাম্প্রদায়িক। দেখুন না, হিন্দুদেরকে মালউন বলায় এক মন্ত্রীকে কেমন নাজেহাল করা হচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলোতে লাইভ দেখানো হচ্ছে, মনে হচ্ছে বাংলাদেশ মূল সমস্যা বোধ হয় ঐ মালউন বলার মাধ্যেই। ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত আর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপর মনেহয় আজকে মুসলমান উনারা ঈমান এসেছেন নাউযুবিল্লাহ, তাদের কথাই বিশ্বাস করছে নাউযুবিল্লাহ। এমন ভাব দেখানো হচ্ছে- হিন্দুদের মালউন বলা একটি বিরাট অপরাধ। অথচ পবিত্র আল কোরআন উল কারিমে অমুসলিমদের অসংখ্যবার মালউন বলা হয়েছে। সে হিসেবে পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনার ঐ আয়াতগুলোও বাদ দিয়ে দেয়া উচিত, কারণ মালউন বলা যদি অপরাধ হয়, তবে আল কোরআন উনার মধ্যে থাকা উক্ত আয়াত শরীফ গুলো দ্বারা অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!!

লেখার শুরুতে বলেছিলাম, মুসলমান উনাদের একটি মতাদর্শের উপর একমত হওয়া উচিত। অনেকে হয়তো বুক ফুলিয়ে বলবেনঃ- মুসলমান যারা উনারা পবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও হাদীস শরীফ উনাদের উপর একমত। আমি বলবো- বসে বসে মুড়ি চিবোন। বর্তমান মুসলমান যারা তারা মোটেও সেগুলোর উপর একমত নয়, বরং আজকের মুসলমান যারা তার সেগুলো বিশ্বাস করে নাকি তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এমনকি বড় বড় ইসলামী বেত্তারাও এই অবিশ্বাস থেকে দূরে নয়।। এটাকেই বলে ডিমোরাইজেশনের চূড়ান্ত স্টেজ, আজকে মুসলমানরা তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ধর্মগ্রন্থর উপর একত্রিত হওয়াও ভুলে গিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সিরিয়া আফগানিস্তান, ইরাক, প্যালেস্টাইন, আরাকান কিংবা কাশ্মীর হতে আর বেশি দূরে নয়, এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে নিচের ধর্মগ্রন্থর বাণী গুলো পড়ুন আর দেখুন আপনি কি ধর্মগ্রন্থর উপর বিশ্বাস রাখেন কি না মানতে পারেন কি না?

কাফির-মুশরিকরা মুসলমান উনাদের সব চেয়ে বড় শত্রু। শত্রু কখনোই বন্ধু হতে পারে না।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেনঃ নিশ্চয়ই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী, অতঃপর মুশরিক(হিন্ধুরা)।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২) অর্থাৎ খাছভাবে ইহুদী ও মুশরিকরা(হিন্ধুরা) মুসলমানদের সবথেকে বড় শত্রু আর আমভাবে সমস্ত কাফিররাই মুসলমানদের শত্রু। তাহলে যারা মুসলমান উনাদের শত্রু তারা কি করে মুসলমান উনাদের বন্ধু হতে পারে? কস্মিনকালেও তারা বন্ধু হতে পারে না।

এই ব্যপারে আরো কতিপয় আয়াত শরীফ পেশ করা হলো পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ থেকে নিচে।

১) খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন পরিষ্কার বলতেছেন কালামুল্লাহ শরিফে যে নিশ্চয়ই কাফিররা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৯৮) এতএব তুমি তাদেরকে বন্ধু ভাবার মানেই হলো খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার সাথে শত্রুতা করা।

২) এখানে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত বলছেন হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে ভক্তি বা শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে গ্রহণ করোনা।” (পবিত্র সূরা মুমতাহিনা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১) তাহলে কিভাবে ঐ কাফেরগনের জন্যে এতো দরদ তুমার অন্তরে কেনো এতো বিনম্র শ্রদ্ধা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার হুকুমকে অমান্য করে?

৩) দেখেন আপনি যদি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার হুকুম মানেন যদি মনে করেন পবিত্র কিতাব আল কুরআন উল কারিম উনার হুকুম মানা অবশ্যই ফরজ তাহলে দেখুন কি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আপনাকেঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৫১) তাহলে দেখা যাচ্ছে তাদের বন্ধুর চেয়ে বেশি আপন মনে করে আপনিও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার থেকে খারিজ হয়ে তাদের মতো ইহুদি নাসারা মুশ্রিক হয়ে গেছেন।

৪) কনো মুমিন মুসলমান যেনো ভিন্ন ধর্মের কনো ব্যক্তিকে মনে প্রানে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে যদি করে থাকে তাহলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত এবং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার সাথে সম্পর্ক চ্ছেদ হয়ে যাবে আর এ ব্যপারে পবিত্র কুরআন উল কারিমে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ইরশাদ মোবারক করেন যে মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ব্যতীত কাফেরদিগকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার কোন সম্পর্ক থাকবে না ”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফঃ আয়াত শরিফ ২৮)

৫) কুফরি কোন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করার অর্থ হলো খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার বক্তব্যের বিরূদ্ধে তাদের নিজের মনগড়া বক্তব্য মেনে নেয়া৷ আর তাদের বিশ্বাসহীনতা সম্পর্কে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে মূর্তি ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে। কিন্তু এরা হলো সেই সমস্ত লোক, যাদের উপর লা`নত করেছেন স্বয়ং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি নিজে। বস্তুতঃ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি যার উপর লা`নত করেন আপনি তার জন্যে কোন সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না। (পবিত্র সূরা আন নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৫১-৫২)

৬) যে ইহুদি খ্রিষ্টান কাফের মুশরিকদেরকে আপনি হৃদয়ের অন্তস্থলে অতি যতনে প্রেমিকের মতো রেখেছেন তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি স্পষ্ট বলতেছেন যে হে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি প্রদর্শন করেন, তাই হলো সরল পথ। আর উম্মত যদি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করে, ঐ জ্ঞান(আল কোরআন উল কারিম) লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার কবল থেকে তাদের উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে কেউ থাকবেনা” (পবিত্র সূরা আল বাক্বারাহ শরীফঃ আয়াত শরিফ ১২০) তাহলে আপনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অমান্য করে কি হওয়ার চেষ্টায় আছেন?

৭) কাফিরদের মমতা-ভালবাসা পাওয়ার চেষ্টা করার অর্থ হলো পবিত্র দ্বীন ইসলামকে ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কযুক্ত করা৷ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি এরকম কাজ করতে নিষেধ করেছেন, খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেনঃ যারা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার উপর ও পরকালে বিশ্বাস করে, হে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি তাদেরকে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার ও উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। (পবিত্র সূরা আল মুজাদালাহ শরীফঃ আয়াত শরিফ ২২)

এখন দেখা গেলো পবিত্র আয়াত শরিফ অনুসারে তাদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ হারাম কেউ করলে নির্ঘাত ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে, যদিও এগুলো পবিত আল কোরআন উল কারিম উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ কিন্তু আপনি এগুলো এই বাংলার ওয়াজিদের মুখে শুনতে পাবেন না কারন এরা সবাই কাফেরদের ভয় পায় নয় দালালি করে যদিও প্রকৃত মুসলিম মহান খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করতে পারেনা।

আর শুধু বন্ধুত্ব নয় পবিত্র হাদিস শরীফ দ্বারা এদের সাথে কুনো কাজের মিল রাখাও হারাম মানা না মানা আপনার ব্যপারঃ হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছেঃ হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে এবং তিনি রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের(সমস্থ বিধর্মী তথা হিন্ধু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খ্রিস্টান) সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (পবিত্র মিশকাত শরীফ)

আর কাফের মুশ্রিকের সাথে বন্ধুত্ব তো অনেক দূর ফাসিক ও বিদয়াতীদের পর্যন্ত সম্মান করা হারামএই মর্মে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেনঃ যখন কোন ফাসিক (ফরজ-ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা তরক্বকারী)-এর প্রশংসা করা হয় তখন খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আরশ প্রকম্পিত হয়।নাঊজুবিল্লাহ !

এমনকি যে, কোন বিদয়াতী লোককে সম্মান করলো, সে যেন ইসলাম ধ্বংসে সহযোগিতা করলো।নাঊজুবিল্লাহ ! (বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে কাফির, ফাসিক ফুজ্জারদেরকে সম্মান করা যাবে না বন্ধুত্ব করা যাবেনা কিন্তু তাদের সাথে কথা বলা যাবে চলাফেরা করা যাবে যতটুকু প্রয়জন ঠিক ততটুকু আর কথা বলতে হবে এই খিয়ালে যে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে হেদায়াত করুন।

উপরের আয়াত শরীফ পড়ার পরেও যারা নিজের জিদের অহংকারের বশবর্তী হয়ে পবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও সুন্নাহ মোবারক উনাদের আয়াত শরীফ সমূহ দেখেও পরোয়া করে না তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিঃ সূরা আল জাসিয়া শরীফঃ উঁনার ৭-১১ আয়াত শরীফে মহান খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এরশাদ মোবারক করেনঃ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। সে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উঁনার আয়াত শরীফ সমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেনো সে আয়াত শরীফ শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত শরীফ অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে(ইবাদতের মাধ্যমে), তা তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উঁনার পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে(ইবলিশের অনুসারিদের) তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি। এই কালামুল্লাহ শরীফ সৎপথ প্রদর্শন করেন, আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত শরীফ সমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এবং যারা কিতাবের অর্ধেক মানে এবং নিজের বিপক্ষে যাওয়ার কারনে বাকি অর্ধেক মানেনা তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সুরা বাক্বারা শরীফ উনার ৮৫ নাম্বার আয়াত শরিফে রশাদ মোবারক করেনঃ তবে কি তোমরা কিতাবের কিয়দাংশ বিশ্বাস করো এবং কিয়দাংশ অবিশ্বাস করো? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আমাদের বোঝার তৌফিক দিন আমীন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: