11.02.2016

ভ্রান্ত মওদুদিবাদের মতো নিজের মুসলমানিত্ব হারাতে আওয়ামী এম্পি মন্ত্রিদের চরম কুফুরিমূলক বক্তব্য

প্রথমে ছিলো মুসলিম লীগ, এরপর হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ, এরপর আওয়ামীলীগ, এবার নতুন করে কি আওয়ামী হিন্দু লীগ হবে?? বর্তমান আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্য তো সেরকমই আভাস দিচ্ছেসম্ভবত আওয়ামী সরকারের নেতা-নেত্রীরা কনভার্ট হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেবিশ্বাস না হলে নিচের বক্তব্যগুলো দেখুন, কোন মুসলমান কি এরকম বক্তব্য দিতে পারে ??

আমরা জানি শুধু মওদুদির মতো ভ্রান্ত মতবাদির থেকে জগন্য কিছু কথাবার্তা বের হয়েছিলো যা জামায়াতে ইসলামি নামের রাজনৈতিক দলের আদর্শ কিন্তু এখন দেখছি আওয়ামীলীগ ও সেই একিই পথে হাঁটতে মুশরিকদের মন পেতে নিজের মুসলমানিত্ব কে বিসর্জন দিয়ে এমন সব মারাত্বক কথাবার্তা বলেছে যা কল্পনা করাও কোনো মুসলিমের পক্ষে সম্ভব নয় যেমনঃ

১) গজে চড়ে মা দুর্গা আসায় ফসল ভালো হয়েছেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাঃ-
(https://youtu.be/u5UmK-sZ9I0)

২) জঙ্গি নির্মূলে 'মা দুর্গা'র কাছে প্রার্থনা করতে হবেঃ খাদ্যমন্ত্রী কামরুলঃ-
(http://bit.ly/2f3xAEX)

৩) মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করে অসুরদেরকে শায়েস্তা করতে হবেঃ নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানঃ- (http://bit.ly/2fyUvIR)

৪) দূর্গা পূজায় আমি আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছিঃ - ডা দিপু মনিঃ- (http://bit.ly/2eVXwiY)

৫) বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে সনাতন ধর্ম একটি সার্বজনীন রুপঃ - ইকবালুর রহিম এমপিঃ- (http://bit.ly/2f7jxw4)

৬) শ্রী দুর্গা মানুষের জন্য আনন্দ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনতার হাতে সব অশুভ দানবেরা শাস্তি পাবেঃ - অর্থমন্ত্রী মাল মুহিতঃ- (http://bit.ly/2dWX4nB)

৭) দূর্গাদেবী সকল অশুভ দানবের বিরুদ্ধে শান্তি ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসেনঃ - প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপিঃ- (http://bit.ly/2fbx83F)

৮) দুর্গাদেবীর আগমনের অর্থ অসুরমন্দ’-এর পরাজয় এবং সুন্দরভালর বিজয়ঃ তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু (http://bit.ly/2etPYDa)

৯) মুসলমানদের মসজিদ মাদ্রাসার জন্য কিছু না দিলেও মন্দিরের জন্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবেঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিতঃ- (https://goo.gl/oqAhWl)

অথচ দ্বীন হিসেবে ইসলাম জাতি হিসেবে মুসলিম আর আক্বিদা হিসেবে আহলুস সুন্নাহ কে গ্রহণ করাই হচ্ছে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের একমাত্র পথখালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই অত্যন্ত মেহেরবানী করে মানুষের জীবন যাপনের সঠিক পথ-মত-দ্বীন উনাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন আর সে পবিত্র দ্বীনই হলেন একমাত্র সম্মানিত ইসলাম ধর্মএই জন্য পবিত্র দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেনঃ নিঃসন্দেহে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন(ধর্ম) হচ্ছেন একমাত্র পবিত্র ইসলাম ধর্ম” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরীফ ১৯)

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেনঃ- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন অর্থাৎ ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং সম্মানিত পবিত্র ইসলাম ধর্মকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম” (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩)

আর এই জীবন বিধানকে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে দ্বীনে হক্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেনআবার এ দ্বীনে হক্ব শব্দটি দুটি অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছেএকটি হচ্ছে অধিকার বা কর্তব্য আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সত্য-সঠিক বা নির্ভুলপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের দ্বিতীয় অর্থটিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছেযার কারনে দ্বীন শব্দটির পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায়- সত্য, সঠিক ও নির্ভুল জীবন বিধান যাতে গোলামি, আইনের আনুগত্য ও ইবাদত একমাত্র খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনারই

পারিভাষিক অর্থে আদ্ দ্বীন বলতে বুঝায়, খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খাতামান্নাবীঈন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রদর্শিত নির্ভুল জীবন বিধান। যাতে করে মানুষ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে, উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খাতামান্নাবীঈন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শতভাগ ভালবাসা রাখে এবং উনাদের কাছেই আশা ও আকাংখা নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল দিক ও বিভাগগুলোতে পরিপূর্ণভাবে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলেআর এই জীবন বিধান যারা গ্রহণ করে ও মেনে চলে তারাই হচ্ছে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের দৃষ্টিতে সম্মানিত মুসলিম বা পবিত্র দ্বীন-ইসলামের অনুসারী

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য একমাত্র পবিত্র দ্বীন-জীবন ব্যবস্থা হচ্ছেন সম্মানিত ইসলামকিন্তু কেউ ইচ্ছে করলে ইসলাম ব্যতীত ভিন্ন কোন জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, তবে তা শয়তানী কর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় উপরন্তু মৃত্যু পরবর্তী আখিরাতের অনন্ত অসীম জীবনে সে হবে চরম ক্ষতির সম্মুখীনএ সম্পর্কে হুশিয়ারী উচ্চারণ দিয়ে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ- যে ব্যক্তি পবিত্র দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন-জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়, তার সেই দ্বীন-ব্যবস্থা কস্মিণকালেও কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ব্যর্থ ও মহা ক্ষতিগ্রস্ত” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরীফ ৮৫)

শুধু তাই নয় সম্মানিত মহা পবিত্র দ্বীন ইসলামে আপনি আধা হিন্দু আর আধা মুসলিম হতে পারবেনা হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলামের অনুসারী হয়ে যাও এবং মহাশত্রু শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো নানিশ্চিতরূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু” (পবিত্র সূরা আল বাকারাহ শরীফঃ আয়াত শরীফ ২০৮)

সার্বভৌমত্ব ও দ্বীন সম্পর্কে এমন মহাসত্য উপলব্ধি করার পরও যে সকল নামধারী আলিম উলামা, মুসলিম নামধারী নেতা আমির বা মন্ত্রী এমপিরা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার পরিবর্তে কাফের মুশরেক হিন্দুদের কে ভয় করে চলে এবং দুনিয়ার জীবনে জান-মালের ক্ষতির আশংকায়, ক্ষমতা চলে যাওয়ার, জেল-জুলম, কটুক্তি-অপমান, কষ্ট-যাতনা সহ্য করার ভয়ে মানুষের সার্বভৌমত্ব নামক চরম মিথ্যা এবং মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধাচরণ করেন না, এ সম্পর্কে মুসলিম জাতিকে সাবধান-সতর্ক করেন না, উপরন্তু হিকমতের কথা বলে তা জায়েয করার মতো দুঃসাহসী কাজ করেন আর ফতোয়া দেন তাদের উদ্দেশ্যে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ- ‘‘মূলতঃ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবে যে সমস্ত বিধান অবতীর্ণ করেছেন সেগুলো যারা গোপন করে এবং সামান্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে সেগুলো বিসর্জন দেয় তারা আসলে আগুন দিয়ে নিজেদের পেট ভর্তি করছেকিয়ামতের দিন খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তাদের সাথে কথাই বলবেন না, তাদের পবিত্রতার ঘোষণাও দেবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তথা নিকৃষ্ট যাহান্নাম” (পবিত্র সূরা আল বাকারাহ শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৭৪)


সর্বশেষে একটি কথাই বলে যায় আর তা হলো সবার মনে রাখা উচিৎ যেহেতু মৃত্যু অনিবার্য সেহেতু জীবনে যতগুলো কুফুরি কাজ করেছেন তা থেকে খালেস তওবা করে যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন পবিত্র দ্বীন ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়জিত করুন। আর মুসলিমদের থেকে ভুলেও কাফের মুশরেকদের প্রাধান্য বেশি দিবেন না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: