11.20.2016

নাসিরনগরে হিন্দুপ্রেমি পুলিশ কতজন মুসলিম নারীকে সম্ভ্রমহরণ করেছে ??

মুসলমানদের সাথে করা যেকোনো যুদ্ধের সময় মুসলিম নারীদের ধর্ষণের মাত্রা অনেক বেশি হয় কারণ অমুসলিম যোদ্ধাবাহিনীকে এমন নির্দেশনা দেয়া থাকে যে, প্রতিপক্ষের ক্ষতি করাই তোমাদের টার্গেটতোমরা যা খুশি তাই করো, সে জন্য তোমাদেরকে কোন জবাবদিহি করা হবে না এটাই কাফের মুশরিকদের যুদ্ধনীতির মূল অংশ আর এই আশ্বাসটুকু পেলে বহুদিন নিয়মের মধ্যে থাকা কাফের আর হিন্দুপ্রেমি বাহিনীর মধ্যে হিংস্র পশুত্ব জেগে ওঠে তখন সাধারণ মানুষের মা-বোনকে নিজের প্রেমিকা বলে মনে হয়ব্যস অস্ত্রের বলে বলিয়ান হয়ে নিরীহ মুসলিম নারীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে কিন্তু সাধারণত একটি স্বাধীন দেশে নিজ দেশের মানুষের উপর স্বসস্ত্রবাহিনীকে এমন সুযোগ দেয়া হয় নাআপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সাধারণ বিডিআর সৈনিকরা সুযোগ পেয়ে বড় বড় আর্মি অফিসারের স্ত্রীদের সম্ভ্রমহানী করেছিলো অথচ এরা অধিকাংশ সৈনিকই ছিলো নামমাত্র মুসলিম যাদের ঈমান কে কোরআন সুন্নাহর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে কিনে নিয়েছিলো ইহুদি নাসারাদের দ্বারা পরিচালিত ইমানদার মুসলমানদের সবথেকে বড় দুশমন হিন্দুত্ববাদিরা।

যাই হোক, সম্প্রতি নাসিরনগরে হিন্দু মন্দিরে কথিত হামলার পর হিন্দুত্ববাদি পুলিশ কে কি এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো যে তারা মুসলমানদের ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করবে? মুসলমান নারী-শিশুদের উপর আক্রমণ করবে? আপনি হয়তো বলবেন না কিন্তু আমি নিশ্চিত, নাসিরনগরে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিকে অবশ্যই এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো-এত কিছু বুঝিনা, এত জন মুসলমানকে গ্রেফতার দেখাও, যতটুকু শক্তি প্রয়োগের দরকার দেখাও, তোমাদের কোনো জবাবদিহি হবে নাব্যস এই নির্দেশনা শুনে অনেক পুলিশ মুসলিম নারীদের উপর হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়েছে

গত কয়েকদিন আগে ফেসবুকে প্রচারিত নাসিরনগরের পরিস্থিতি নিয়ে দুইটি ভিডিওতে দুইজন নারী স্পষ্ট বলেছেন তাদের উপর পুলিশ শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলো যা আমি আমার ইউটিউবে তুলে রাখি লিঙ্কঃ (https://goo.gl/fgZLo7, https://goo.gl/i1prMi)এটাই স্বাভাবিক, কোন নারী নিজের উপর আক্রমণের কথা পুরোটা বলবে না, তবে যতটুকু দুইজন মহিলা বলেছেন তাতে সেই সময় ঈমানহিন হিন্দুপ্রেমি পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি করেবিশেষ করে তিন সপ্তাহ ধরে মামলার ভয়ে ১০-১২ গ্রাম পুরুষশূণ্য রয়েছে, এ অবস্থায় হিন্দুপ্রেমি পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি-হিন্দু এবং সরকার দলীয় লোকজন মুসলিম নারীদের যদি দাসী-বাদি(পরাজিত মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে প্রাপ্ত মুসলিম যুবতি নারী যাদের খ্রিষ্টান রা জোর করে ব্যবহার করতো) বলে চালিয়ে দিতে চায় তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না

আপনাদের ২০১৪ সালে কর্নাইয়ের ঘটনা মনে থাকার কথাসেখানে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগ হিন্দুদের উপর আক্রমণের ঘটনা সাজায় এবং সেই অজুহাতে হাজার হাজার মুসলমানের নামে মামলা দিয়ে ১৭ গ্রামকে পুরুষশূণ্য করেসেই সময় সরকারী বাহিনী যে পুরুষশূণ্য গ্রামগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছিলো তার প্রমাণ দৈনিক প্রথম আলোতে ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৪ তারিখে আসে (লিঙ্ক-http://bit.ly/2fHk2il) হিন্দু, আওয়ামীলীগ ও হিন্দুপ্রেমি সরকারী বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মুসলিম নারীরা কি বলেছিলো সে সময় মিডিয়ার কাছে,

আসুন দেখি-
আমীর হোসেনের স্ত্রী তাহেরা খাতুন বলেন, ভোটের পর দিন গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের হিন্দু ও হিন্দুপ্রেমি মুসলমান ক্যাডাররা আমাদের বাড়িতে ঢুকে পুরুষ লোক না পেয়ে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেবাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং ভাংচুর করেতার স্বামী ২৪ দিন ধরে পলাতক আছেনসাহায্য চাই নাস্বামীকে এনে দেননিরাপদে থাকতে দেনহামলাকারীরা তাকে বলেছে, বউ-বেটিকে সিঁধুর পরিয়ে দেবে

এই গ্রামের আরমিনা (৫০) জানান, ভোটের পর থেকে কোনো পুরুষ গ্রামে নেইপুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ভয়ে সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছেনশীতের মধ্যে নদীর ওপাড়ে খোলা মাঠের মধ্যে তারা জীবন বাঁচানোর জন্য লুকিয়ে আছেনকেউ জুমার নামাজ পড়তেও গ্রামে আসতে পারছেন নাতাকে হামলাকারীরা বলে বাইরে আয়মেরে লাশ বানিয়ে দেবসিঁধুর পরিয়ে দেব

আমিনা বেগম (৩০) বলেন, ভোটের পর দিন গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আমাদের বাড়িতে হামলা করেতারা বলে যে, মুসলমান মেয়েদের শাঁখা-সিঁধুর পরিয়ে হিন্দু বানাবতারা আমাদের বাড়ির গরু, ছাগল, সোনাদানা ও ফসলাদী লুট করে নিয়ে যায়মহিলাদেরই আলুসহ অন্য ফসল তুলতে হচ্ছে

সাজিনুর (১৮) বলেন, স্বামী কামরুল ইসলামআমার স্বামী একজন মিস্ত্রিআমি দশম শ্রেণীতে পড়ছিতিন বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছেভোটের পর দিন গভীর রাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাড়িতে হামলা করেতাদের মধ্যে কয়েক ক্যাডার আমার শরীরে হাত দিয়ে টানা-হিঁচড়া করে এবং শ্লীলতাহানি করেতারা আমাকে ধর্ষণেরও চেষ্টা করেআমার মাথায় সিঁধুর পরিয়ে দেয়

ফাতেমা বেগম (১৭) বলে, আমি কর্ণাই দাখিল মাদরাসায় পড়িএখন মাদরাসায় যেতে পারছি নাগভীর রাতে যখন গ্রামে হামলা হয়, প্রশাসনের লোকজন দাঁড়িয়ে থাকেআওয়ামী ক্যাডাররা জুলুম-নির্যাতন, ভাঙচুর ও লুটপাট করেবীজতলা নষ্ট হয়ে গেছেআলু তুলতে পারেনিসমরুত (৬০) জানান, তার নাতবৌ ববিতাকে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা সিঁধুর পরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়
(সূত্র-http://bit.ly/2g6FOsL)

কর্নাই এর ঘটনা পর্যালোচনা ও নাসিরনগরে নারীদের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায় নাসিরনগরেও পুলিশ দ্বারা নারী নির্যাতন অস্বাভাবিক কিছু নয়একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উদিত হয়, হিন্দুর উপর কথিত আক্রমণের ঘটনা ঘটলেই পুলিশকে কেন ক্রুসেডের খ্রিষ্টান সেনাবাহিনির মতো নিরীহ মুসলমানদের সাথে যুদ্ধপরিস্থিতে নামিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে? কেন এমন নির্দেশণা দেয়া হচ্ছে- মুসলমানদের সাথে যা খুশি তাই করোতাদের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকো, নারীদের শিশুদের গায়ে হাত লাগাওবাংলাদেশের মুসলমানরা কি বাংলাদশের নাগরিক না? তারা কি বহিরাগত কিছু?

মায়ানমারে রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশের মুসলমানদের অবস্থা এখন একই, দুই দেশের সরকারই তাদের মুসলিম অধিবাসীদের নাগরিক মনে করে না


আর কিছু মানুষ মনে করে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা শান্তি পাবো তাই এই সরকার কে গদি থেকে যে কোন মুল্যে নামাতে হবে কিন্তু এমন স্বপ্ন ভুলেও কেউ দেখবেন না বরং তারাও একিই কাজ করবে বা করতে বাদ্য হবে তারাও সময়ের আর পরিস্থিতির কারনে চরম হিন্দুপ্রেমি হয়ে উঠবে। তাই একমাত্র পথ সমস্থ মুসলিম নাগরিকদের উচিৎ অর্থনৈতিক এবং মানসিক এবং আন্তরিক ভাবে সমস্থ হিন্দুকে বর্জন করুন নিজেকে মুসলিম মনে করুন কোরআন সুন্নাহর কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন আর এইটা পড়ুনঃ বর্তমানে মুসলমানদের নিদ্রিষ্ট কোনো আদর্শ নাই যার কারনে সর্বত্র মার খেয়ে যাচ্ছে তারা কিন্তু কেনো?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: