11.21.2016

যারা দাবি করছে মুসলমান সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু এক তারা গোমূত্রখোর ছাড়া কিছু নয়

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সাথে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের তুলনা চলে, কিন্তু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের যদি তুলনা করতে হয় তাহলে তা আমেরিকার সংখ্যালঘু ইহুদীদের সাথে করতে হবে।

গত কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গা সমস্যা বৃদ্ধির পর থেকে বাংলাদেশের নাস্তিক ও হিন্দুরা রোহিঙ্গাদের তুলনা করছে বাংলাদেশের হিন্দুদের সাথে। দাবি করছে-দুটো দলই নাকি নির্যাতিত। অথচ এরা ইসলাম বিদ্বেষীদের টাকা খেয়ে অনলাইন অফলাইনের সমস্থ পাঠক শ্রেনী এবং কাফের মুশরেকদের কূটচাল বুঝতে না পারা মুসলমানদেরকে মিসগাইড করার চেষ্টা করছে।

আসলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের তুলনা করা উচিত ভারতের ও কাশ্মীরের সংখ্যালঘু মুসলমানদের সাথে। কেননা উভয়ই একইভাবে নিগৃহিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত। উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে।

রোহিঙ্গাদেরকে সরকারি ভাবে নিধন করা হচ্ছে, তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা নাকি বাংলাদেশী, তারা বাংলাদেশে চলে যাক। আবার ভারতেও কিন্তু একই অবস্থা। ভারতেও বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশী বলে দাবি করছে ভারতের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী এবং প্রায় ২ কোটি মুসলমানকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। (http://bit.ly/2g84JOg)

বলাবাহুল্য, যেখানে ভারত সরকার বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে (http://bit.ly/2guqGdG), সেখানে শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি কতটা হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী হিন্দুদের মালাউন বলেছে বলে দাবি করে (কোন দলিল দেখাতে পারেনি তারা) কত আন্দোলন করলো হিন্দুরা, সেখানে ভারতের খোদ স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেয়ার কথা বলছে, একমাত্র গোয়াল আর জঙ্গলের গোমূত্রখোর জঙলীদের পক্ষেই তা বলা সম্ভব।

গণহত্যার বিষয়টিও একইরকম। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে মুসলিম নিধনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। অপরদিকে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দু বিরোধী দাঙ্গার সংখ্যা কত? কতজন হিন্দুকে দাঙ্গা করে হত্যা করা হয়েছে? আমি জানি স্বাধীনতার পর কোনো হিন্দু দাঙ্গার খবর দিতে পারবে না। যা দিতে পারবে তা হলো মন্দির ভাঙ্গার খবর। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অধিকাংশ মন্দির ভাঙ্গার ঘটনা বানোয়াট এই পোষ্ট পড়লেই বুঝতে পারবেন। সেগুলো সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে প্রকাশ করা হয়। আমার মনেহয় হিন্দুরা হিসেবে ধরা খাবে তখনই, যখন তারা মন্দির ভাঙ্গার খবর দিতে পারবে, কিন্তু হতাহতের কোন খবর দিতে পারবে না। অথচ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গণহত্যার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু রাতের আধারে (!) অলৌকিকভাবে মন্দির যখন ভাঙ্গে তখন স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠে, মন্দির যখন ভাঙ্গলো তখণ হিন্দুরা নিহত হলো না কেন ?

যাই হোক, এবার আসি বাংলাদেশের হিন্দুদের ক্ষেত্রে। যারা এখন বাংলাদেশে আছে তারা জানে আওয়ামী সরকারের আমলে হিন্দুরা হচ্ছে সুপার-মাইনোরিটি। সুপার মাইনোরিটি বলা হয় আমেরিকার ইহুদীদেরকে। ইহুদীরা আমেরিকার প্রশাসন-চাকুরীসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যায়গা পায়। তাদেরকে ভিআইপি পার্সন হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। কেউ তাদের আঘাত করলে, গালি দিলে ঐ ব্যক্তিকে এমনভাবে হেনস্থা করা হয় যা অন্য কোনো অপরাধে করা হয় না। সব রাজনৈতিক নেতা ওদেরকে তেল দেয়, নির্বাচনের সময় সবাই বলে- ক্ষমতায় গেলে ইহুদীদেরকে আরো সুবিধা দেয়া হবে।ঠিক একই অবস্থা বাংলাদেশেও। সরকারী চাকুরী, প্রশাসনসর্বত্র গণহারে হিন্দু। জনংসংখ্যার ২ থেকে ৩%, কিন্তু চাকুরী-প্রশাসনে ২৫%। হিন্দুদের বিরোধীতা করলে সে যেই হোক, আওয়ামীলীগ হোক আর মন্ত্রীমিনিস্টার হোক তাকে চরমভাবে হেনস্থা ও অপমান করা হয় (অনেক ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে)। সব রাজনৈতিক নেতা হিন্দুদের সারা দিন তেল দেয়। তবে আমেরিকা আর বাংলাদেশের পার্থক্য হচ্ছে, আমেরিকায় ইহুদীরা অর্থনীতি ও জ্ঞানে এগিয়ে খ্রিস্টানদের শাসন করে, আর বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ভারতের পা চাটে, আর সেই পা-চাটার একটা সিস্টেম হচ্ছে হিন্দুদের ঘাড়ে তোলা।

বাংলাদেশের হিন্দুরা যদি নির্যাতিতই হতো তবে বাংলাদেশে ৩০ হাজার পূজা মণ্ডপ হওয়া সম্ভব ছিলো না, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পূজা মণ্ডপ (বাগেরহাটে) হওয়া সম্ভব ছিলো না, পৃথিবীর সবচেয়ে উচু পূজা মণ্ডপ (নোয়াখালী) বাংলাদেশে হতো না। বাংলাদেশের হিন্দুরা যদি নির্যাতিতই হতো তবে ভারত থেকে দূর্গা পূজা করতে হিন্দুরা বাংলাদেশে আসতো না, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতো।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, বসতে দিলে শুতে চায়। শুতে দিলে ঘুমিয়ে যায়'। বাংলাদেশের হিন্দুদের হয়েছে সে অবস্থা। ৪৭ এ থাকতে দিয়েছেন, এখন ঘাড়ে চড়ে বসেছে। মুসলমানদের বেকার করে চাকুরী হাতিয়ে নিচ্ছে। মুসলমানদের তাড়িয়ে জমিজমা দখল করছে। আর প্রায় হিন্দু মুসলমানদের রাষ্ট্রধর্ম তুলে দিতে মামলা করছে।


তারপরও যারা দাবি করছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা আর সংখ্যালঘু হিন্দু এক, তারা গোমূত্র খোর ছাড়া আর কিছু নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: