11.05.2016

নাসিরনগরের হামলা নিয়ে কিছু মুসলিম নামধারী মুনাফিকদের ধর্মীয় আধোব্যাখ্যা কিন্তু পুরোটা কি?


নাসিরনগরের হামলা নিয়ে অনেক মুসলমান বিভিন্ন হাদীস শরীফ থেকে দলিল দিয়ে বলছেসাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি কাফের মুশরেকদের উপর হামলা করতে নিষেধ করেছেন, এবং বলেছেন- কেউ তা করলে তিনি তার বিরুদ্ধে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বিচার দেবেন।

আচ্ছা মেনে নালাম তিনি বলেছেন কিন্তু আমি পুরো ব্যাখ্যা আপনাদের জানাতে চাই তাই আমি বিষয়টি নিয়ে অনেকক্ষণ ঘাটাঘাটি করলাম, ঘেটে যা পেলাম তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার কোনো ভুল হলে আপনাদের মাঝে যারা উলিল আমর তারা ভুল ধরিয়ে দেবেন।

উপরের হাদীস শরীফে যে কথা বলা হয়েছেঃ- সেটা ঐ সকল অমুসলিম কাফের মুশরেকদের জন্য যারা ব্যক্তি বা সম্প্রদায় কোন পর্যায়েই মুসলমান বা ইসলামের বিরুদ্ধে কোনরূপ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নেই। কিন্তু যদি কোন হিন্দু বা অমুসলিম, সম্মানিত মুসলমান বা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তবে কিন্তু তার শাস্তির কথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেই বলা হয়েছে।

আমার মনে হয়, এই ব্যাখ্যাটার জন্য সবচেয়ে ভালো হলো মদীনা শরীফ সনদের দিকে তাকানো। কারণ সেখানে সম্মানিত মুসলিম ও অমুসলিম কাফের মুশরেকদের মিলে একত্রে বসবাসের নিয়মনীতি সম্পূর্ণ রূপে ব্যাখ্যা রয়েছে। মুসলমানদের শেষ নবী যখন মদীনায় গেলেন তখন ইহুদীদের সাথে একটি চূক্তি হলো যা মদীনা সনদ নামে পরিচিত। যেখানে স্পষ্ট বলা ছিলো- ইহুদী ও মুসলিম একত্রে থাকবে, কিন্তু কেউ কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারবে না। যদি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তবে শাস্তি পেতে হবে।

মদীনা শরীফ সনদের পরে সম্মানিত মুসলিম ও অমুসলিম কাফের মুশরেকরা একসাথে বসবাহ করতে লাগলো কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেলো ইহুদীরা গোপনে সম্মানিত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। ইহুদীরা চূক্তি ভঙ্গ করায় কানুন অনুযায়ী কয়েকশোইহুদীকে হত্যা করা হয় এবং বাকিদের মদীনা শরীফ থেকে বহিষ্কার করে সিরিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ দ্বারা বোঝা যায়, যদি কোনো অমুসলিম গোষ্ঠী সম্মানিত মুসলিম উনাদের বিরুদ্বে ষড়যন্ত্র করে তবে তাদের ক্ষেত্রে নমনীয় থাকা যাবে না ঐ একিই ব্যবহার করতে হবে যা সম্মানিত মুসলিম উনাদের জন্যে খাস সুন্নাহ মোবারক।

তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, সেটা হলো যারা দোষী তারাই শুধু শাস্তি পাবে, নাকি পুরো সম্প্রদায় পাবে। এর সহজ উত্তর কিন্তু মদীনা শরীফ সনদে পাওয়া যায়। দোষীদের তো মৃত্যুদণ্ড হচ্ছেই, বাকিরা যেহেতু দোষীদের সমর্থন যোগাচ্ছে, আড়াল থেকে পয়সা পাতি দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে তাই পুরো গোত্রকেও কিছুটা দায়ভার বহন করত হবে এবং এবং ঐ এলাকা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এর জন্য দেখবেন, সম্মানিত মুসলমান উনাদের প্রানের আক্বা রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিন্তু বলেছেন- তোমরা মূর্তিপূজকদের পবিত্র আরব থেকে বের করে দিও।এই আইনটি মুসলমান উনাদের সম্মানিত দ্বিতীয় খলিফা উনার সময়ে কার্যকর হয়, মূর্তি পূজককের আরব থেকে বের করে দেয়া হয়।

আপনি যদি নাসিরনগরের রসরাজের ধর্ম অবমাননার কথা বাদও দেন, তবুও দেখবেন বাংলাদেশের অসংখ্য মুশরিক হিন্দু(মালউন) প্রকাশ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননার সাথে সংযুক্ত, অনলাইন-অফলাইনে দুই যায়গায় হিন্দুদের পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননার খবর একটি খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে আজকাল। তারা যদি ভালোই হতো, তবে তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননার বিষয়টি বাদ দিতো, কিন্তু সেটা তো তারা করছে না। বরং গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে হিন্দুরা ইসলাম অবমাননা কয়েকশগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।


যাইহোক যারা(মুসলিম নামধারী মুনাফিক) এ ধরনের অপব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন, আমি তাদের থামতে বলবো। আমি বলবো আপনাদের মতো লোকদের জন্য আজকে মুসলমানরা নপুংসক জাতিতে পরিণত হয়েছে। আপনারাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের করেছেন বিভ্রান্ত করছেন। আপনাদের কারণে মুসলমানদের মধ্যে দৃঢ়তার বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই। আপনারাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননা হলে কিছু বলেন না, কিন্তু মূর্তি ভাঙ্গলে পবিত্র কোরআন শরীফ হাদীস শরীফ নিয়ে হাজির হন। আমার মনে হয় সম্মানিত মুসলিম সমাজ থেকে এইসব বিশ্বাসঘাতকলোকগুলোকে বয়কট করা উচিত।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: