11.04.2016

মুসলমানদের ধারনায় বসবাসকৃত ‘ভালো কাফির’ নামের বিষয়টি তাদের জন্য ভয়াবহ কুফরীবিশেষ

সম্মানিত পবিত্র বদর যুদ্ধ উনার পরবর্তী সময়কার কথা। সমস্থ কুরাইশ যুদ্ধবন্দীদের যখন নিয়ে আসা হলো, তখন হযরত ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিনি প্রস্তাব করলেন, এই কুরাইশ বন্দীরা সবাই হিজরতকারী মুসলমানদের আত্মীয়স্বজন। সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খাতামান্নাবীঈন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেনো হিজরতকারী মুসলমানদের হাতে তরবারি তুলে দেন এবং আদেশ করেন, যেনো উনারা নিজ নিজ কুরাইশ আত্মীয়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

এখানে ফিকিরের বিষয় হলো, সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মনে কখনোই এই চিন্তার উদয় হয়নি যে, আচ্ছা ভালো কুরাইশও তো থাকতে পারে। অনেকদিন আগে একটি ঘটনা শেয়ার করেছিলাম বনী ইসরাইলের নবী হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালামক উনাকে নিয়ে। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নবীকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা করেছিলেন, আপনার ১ লক্ষ উম্মতকে আমি গযবে ধ্বংস করে দেব। অথচ উনার ৬০ হাজার উম্মত ছিল নাফরমান, বাকি ৪০ হাজার নিজেদেরকে উম্মত দাবি করলেও তাদের অপরাধ ছিল এই যে তারা ঐ ৬০ হাজারের সাথে সম্পর্ক রাখতো।

সেক্ষেত্রে আপনি কিভাবে বলতে পারেন যে, ভালো কাফিরও থাকতে পারে! আপনি আপনার পাশের যেই হিন্দুটিকে ভালোবলছেন, সে তো আপনার কথিত খারাপ হিন্দুটির সাথেও সামাজিক সম্পর্ক রাখে, ঠিক কিনা? আমার এক ফ্রেন্ডের জীবনের ক্ষুদ্র অথচ শিক্ষণীয় একটি ঘটনা তুলে ধরব। উনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্যুর হবে, সব ছাত্র বাসে উঠলো। হিন্দু ছাত্রগুলো একটি গ্রুপ বেঁধে বাসের এককোনায় বসল। বাস ছাড়লে তাদের আড্ডা শুরু হলো, একপর্যায়ে তাদের আড্ডা ভারতের প্রশংসায় পরিণত হলো। আস্তে আস্তে সেই ভারতের প্রশংসা পরিণত হলো বাংলাদেশের দোষ বর্ণনায়, বাংলাদেশের এটা নেই সেটা নেই, ভারতের না সবই আছে!

হিন্দুদের সেই জটলায় ক্লাসের গোবেচারা ভালো হিন্দুরাও ছিল, উগ্র হিন্দুরাও ছিল। এরা মুসলমানদের সামনে বাংলাদেশের বদনাম করছে, মুসলমান না থাকলে খোদ ইসলামেরই বদনাম করত। আপনি আপনার পাশের হিন্দুটিকে যতোই ভালোবলুন না কেন, তারা দিনশেষে এধরণের আলোচনাতেই কিন্তু যোগ দেয়। দিনশেষে উগ্র হিন্দু আর কথিত ভালো হিন্দুএকই সমাজের সদস্য, একই আড্ডাচক্রের সদস্য। কেবল আপনার মত বোকা মুসলমানরাই তাদের আলাদা করে দেখে।

হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনার ৪০ হাজার উম্মত ভাল কাজ করেও কেবল সম্পর্ক রাখার কারণে নাফরমানদের অন্তর্ভূক্ত হলো, বিপরীতে হিন্দুরা তো নিজেদেরকে উম্মত বলেই স্বীকার করে না। সবচেয়ে বড় কথা, এই যে আপনি বলছেন, সব কাফির খারাপ নয়, এর দ্বারা আপনি কুরআন শরীফের শত শত আয়াত শরীফ অস্বীকার করছেন। কাদিয়ানীরা কেবল একটি আয়াত শরীফ খাতামুন্নাবিয়্যীনঅস্বীকার করে কাফির হয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনার ক্ষেত্রে কী ফয়সালা হবে? আপনার গোবরে ভরা মাথায় কি ঢুকে? না ঢুকলে নিচের দিকে মনযোগ দিন।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ-

১) সমস্ত জীবের মাঝে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা কাফির, যারা ঈমান আনেনি। (পবিত্র সূরা আল আনফাল শরীফঃ আয়াত শরীফ ৫৫)

২) যারা কাফির, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম। (পবিত্র সূরা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামঃ আয়াত শরীফ ১২)

৩) খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না । (পবিত্র সূরা মুমতাহিনা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১)

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বললেন, কাফিররা নিকৃষ্ট, চতুষ্পদ জন্তুর মতো, আর আপনি বলেন তারা ভালো। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, কাফিররা শত্রু, আর আপনি বলেন তারা বন্ধু। কাফির হতে তো খুব বেশি কিছু লাগে না, একবালতি দুধ নষ্ট করতে একফোঁটা গো চোনাই যথেষ্ট।

আজকে একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ খুঁজে পেলাম, যেখানে বলা হয়েছেঃ- হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে(সমস্থ অমুসলিমদের) বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজেকে প্রকাশ্য মুনাফিক হিসেবে প্রমান করতে চাও খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে?  (পবিত্র সূরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৪৪)

এতএব যারা বি-বাড়িয়ার নাসিরনগরে মুসলমানদের বাদ দিয়ে হিন্দুদের পক্ষ নিয়ে ইসলামসম্মত ফতওয়াদিয়ে বেড়াচ্ছে, তারা যেনো উপরের আয়াত শরীফের বক্তব্যে একবার নজর বুলিয়ে নেয়। আপনাদের কি আখিরাতে নাজাত পাওয়ার ইচ্ছা নেই? যদি থাকে, সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অকাট্য দলিলতুলে দেয়া থেকে বিরত হউন অর্থাৎ নিজেকে প্রকাশ্য মুনাফিক প্রমান করা থেকে বিরত থাকুন। নাহলে এই দলিলই হাশরের ময়দানে আপনাকে জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছিয়ে ছাড়বে।


অবশ্য এই সাবধানবাণী এদেশের অধিকাংশ মুসলমানদের মগজেই পৌঁছবে না। কারণ যেই বেহেশতে হিন্দুরা থাকবে না, সেই বেহেশত দিয়ে তো বাঙালি মুসলমানদের কোন দরকার নেই! বদরের যুদ্ধে নিজের আত্মীয়, স্বজন, এমনকি আপন মায়ের পেটের ভাই হওয়ার পরও মুহাজির সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ চিন্তা করেননি যে, কুরাইশরা তাদের আপন হতে পারে। বিপরীতে হিন্দুরা সম্পূর্ণ আলাদা সমাজ, সম্পূর্ণ আলাদা ও সর্বচ্ছ গুনাহ শিরিক কারি জাতির অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পরও বাঙালি মুসলমানদের কতো টান এদের জন্য। পারলে নিজের ছেলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে হলেও হিন্দুদের পাতে তুলে দেয় এরা। এদের জন্য এখন আর আফসোস করতে ইচ্ছা করে না, কেবলি ধিক্কার দিতে ইচ্ছা হয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: