11.21.2016

মায়ানমারে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের কত্রিক চরম নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের চিরস্থায়ী সমস্যার সমাধান কি?

প্রথমে বলে রাখি মায়ানমার এলাকাটিকে সভ্যতাদেখিয়েছিলো রোহিঙ্গারা। আরাকান সভ্যতা সমৃদ্ধি লাভ করেছিলো এই রোহিঙ্গাদের মাধ্যমেই। রোহিঙ্গাদের কারণে আলো দেখেছিলো মগ দস্যু রাখাইনরা। মায়ানমার রোহিঙ্গাদের থেকে কি পেয়েছে, আর রাখাইন (বৌদ্ধদের) থেকে কি পেয়েছে ? এর উত্তর পেতে বেশি দূর যেতে হবে না। রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি আরবী রহমশব্দ থেকে, অপরদিকে রাখাইন শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত রাক্ষসশব্দ থেকে, এখান থেকেই বোঝা যায় বার্মার আরাকান সভ্যতার পেছনে রোহিঙ্গাদের অবস্থান কোথায়।

যাই হোক বৌদ্ধরা ক্ষমতা পেয়ে সেই রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কাড়া হয় ১৯৮২ সালে, আজ থেকে ৩৪ বছর আগে। আপনি নিজেই একটু চিন্তা করুন, সরকার যদি আপনার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় তবে আপনি কত কষ্ট ভোগ করবেন ? হয়ত কষ্ট করে থাকবেন, কিন্তু চাকুরী পাবেন না, ব্যবসা করতে পারবেন না, জমি কিনতে পারবেন না। কিছুই পারবেন না। অনেকেই বলে রোহিঙ্গারা খুব অপরাধ প্রবণ। তারা নানান অপকর্ম ও অবৈধ কাজের সাথে জড়িত।আমি তাদের বলবো-আজ থেকে ৩৪ বছর আগে যদি আপনার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হতো তবে আপনিও এখন অপরাধ প্রবণ হতেন, চাকুরী পেতেন না, বাসায় থাকতে পারতেন না। বাধ্য হয়ে অপরাধ হতো আপনার পেশা, আর আপনার সন্তানরা ইয়াবা বিক্রি করে পেট চালাতো।

বার্মীজ সরকার বলেছে, রোহিঙ্গারা নাকি মায়ানমারের নাগরিক নয়। আমার দৃষ্টিতে এক হিংস্র পশুর পক্ষে এমন উদ্ভট কথা বলা সম্ভব। তারা চায় এথনিক ক্লিনসিং বা জাতিগত নিধন। তাদের কথা- যারা পারবে তারা সমুদ্রে ঝাপ দিক, নয়ত বার্মীজ মগদের আক্রমণের মুখে মরতে হবে। ইতিমধ্যে ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ভেতর মানবেতর জীবন যাপন করছে। বার্মায় যখন হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পায় তখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে, যদিও বাংলাদেশ আওয়ামী সরকার ভারতের দিক নির্দেশনায় তাদের ঢুকতে দেয় না।

হয়ত বলবেন, “বাংলাদেশে তো অনেক রোহিঙ্গা আছে, আমি নতুন করে কেন এই ঝামেলা নেব ? আমাদেরই কত ঝামেলা।মানছি আপনাদের কথা। কিন্তু বিপদবলে একটা কথা আছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনী যখন বাংলাদেশে আক্রমণ করে তখন প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী (যার ৯৫ লক্ষ হিন্দু) ভারতের আশ্রয় নিয়েছিলো। যে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিচ্ছে না, সে হাসিনা নিজেও বাবার মৃত্যুর পর ৬ বছর বিদেশে প্রাণভয়ে পালিয়ে ছিলো। সে হিসেবে রোহিঙ্গারা যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়, তবে জান বাচানোর সুবিধার্থে তাদেরকেও বাংলাদেশে আপাতত আশ্রয় দেয়া উচিত, তবে এটা মনে রাখতে হবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া স্থায়ী কোন সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া।

আপনাদের জানার জন্য বলছি, বর্তমানে রোহিঙ্গারা যে গণহত্যার স্বীকার হচ্ছে, সেটাও কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে। বার্মার সেনাবাহিনীর উপর ভর করেছে চীন সরকার, আর আমেরিকা বাহ্যিকভাবে আছে রোহিঙ্গাদের পক্ষে। এক্ষেত্রে আমেরিকার অবশ্য ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। আমেরিকা চায় পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে। মায়ানমারের অংশটুকু ছিড়তে তারা রোহিঙ্গাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু জংলী বার্মীজরা কোন বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানে বিশ্বাসী নয়, তারা ডাইরেক্ট সাধারণ রোহিঙ্গাদের শত্রু মনে করে গণহত্যা চালায়। আর মার্কিনপন্থী মিডিয়াও সেটা খুব হাইলাইট করে, যার কারণে রোহিঙ্গা গনহত্যার খবর খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিনপন্থীরা রোহিঙ্গাদের মারার খবর খুব বড় করে, আবার স্থায়ী কোন সমাধানও চায় না, কারণ সমাধান হলেই তো তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য বন্ধ হয়ে যাবে।


তবে এটা সত্য রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চলছে, এবং বেশকিছুদিন ধরেই চলছে। রোহিঙ্গারা গুটি হিসেবে বেশকিছুদিন ধরেই আমেরিকা কাছে ব্যবহার হচ্ছে। এখন আমাদের গুটি চালানোটাই বন্ধ করতে হবে। আমেরিকার মাধ্যমে নয়, মুসলমানদের মাধ্যমে কাজ সারতে হবে। সমস্ত মুসলিম দেশ থেকে একযোগে দাবী তুলতে হবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাবনের সুযোগ দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে হুমকি দিতে হবে, যদি তারা রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ না করে এবং নাগরিকত্ব ফিরিয়ে না দেয়, তবে বার্মার সাথে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হবে, প্রয়োজনে মায়ানমার থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করা হবে। মুসলিম দেশের সরকাররা হয়ত প্রথমে মেনে নেবে না, তবে সব জনগণ একযোগে দাবি তুললে মুসলিম দেশগুলো সরকাররা বাধ্য হতেও পারে। যেহেতু বিষয়টি আন্তর্জাতিক, তাই সরকারিমাধ্যমেই দাবি জানাতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বার্মীজ সরকারের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসে এবং একটি সমাধানের পথে নিয়ে যায়। দেখা যাক, মুসলিম দেশের সরকার আর মুসলিম নাগরিক ও মায়ানমারের সরকাররা কতটুকু এগিয়ে আসে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: