11.06.2016

কথায় কথায় বিদয়াত বলনেওলারা কি নিজেরা হারাম মুক্ত মোমিন তাক্বওয়াশীল মুসলিম?

হে মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা তোমরা যারা নিজেদের মুসলিম ভাবো আর কথায় কথায় ফরজ সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফের বিরোধিতা করো তাদের কাছে আমার প্রশ্ন?

সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি করেন-নি নামক যুক্তি দিয়ে তোমরা যখন সব কিছুকে বিদয়াত বলে চালাতে চাও তখন আমার প্রশ্ন জাগে তাই তোমাদের কাছে জানতে চাই ঈমান থাকলে দলিল ভিত্তিক উত্তর দিও?

১/ সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় কি সিয়া সিত্তার কিতাব ছিলো? তিনি কি উনার প্রস্থানের ৩০০ বছর পরে আসা বুখারি শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিজি শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, নাসাই শরীফ এর লেখক? নাকি সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের লিখিত কিতাব? নাকি তাবেঈন রহিমাহুল্লাহ আলাইহিমগন উনাদের লিখতো কিতাব? যদি কুরুনে সালাসার কেউ এইসব কিতাবের লিখক না হয়ে থাকেন তাহলে তোমাদের ফতওয়া অনুসারে সেগুলো বিদয়াতি কিতাব তাহলে এইসব বিদয়াতি কিতাব কি করে পবিত্র কোরআন উল কারিমের পর সর্বশ্রেষ্ট কিতাব হয়? এবং ঐ একিই বিদয়াতি কিতাব দিয়ে বিদয়াতের দলিল দেওয়া হয়? দলিলভিত্তিক যুক্তিপূর্ণ ইসলামিক উত্তর চাই?

২/ তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে ছবি তোলা হারাম হওয়ার পরেও তোমরা অহরহ ছবি পিকচার তুলছো কেনো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১)

৩/ তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারেঃ এক কালার লাল, হলুদ, যাফরানি রঙের এবং রেশমের কাপড় পরা হারাম (শুধু পুরুষের জন্যে) হওয়ার পরেও তোমরা অহরহ এই কাপড় পরছো কেনো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (সহিহ বুখারি শরীফঃ অধ্যায় পোশাক পরিচ্ছেদ, ই ফা হাদিস শরীফ নং ৫৪২০, ৫৮২৮, ৫৪৩১ ও ইবনে মাজাহ শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৩৫৯১ ও মুসলিম শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ২০৭৭)

৪/ তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে কাফের মুশরেকদের কাপড় পরা হারাম তার পরেও তোমরা ইসলামিক পোশাক না পরে হিন্দুদের একছাটা পাঞ্জাবি, ইহুদি নাসারাদের শার্ট প্যান্ট কোর্ট টাই পরো কেনো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (তবারানী আওসাত শরীফ ৩৯২১ ও ফাতহুল বারী শরীফ ১০/২৮৪।)

৫/ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে সমস্থ খেলাধুলা হারাম হওয়ার পরেও কেনো তোমরা সারাদিন হারাম ক্রিকেট ফুটবল দাবায় মজে থাকো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (পবিত্র সূরা দুখান শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩৮, ৩৯ ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৬, ১৭ ও পবিত্র সূরা হিজর শরীফঃ আয়াত শরীফ ৮৫ ও পবিত্র সূরা জুম্মাহ শরীফঃ আয়াত শরীফঃ ১১ ও মুস্তাদরেকে হাকিম শরীফ)

৬/ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে ১৪ জন ব্যতিত নারী পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দার খিলাফ করে দেখা করা, বিনা প্রয়োজনে কথা বলা, প্রেম ভালোবাসা, রিলেশন তৈরি করা হারাম হওয়ার পরেও কি কারনে তোমরা এইসব হারাম কাজ করো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (পবিত্র সুরা নূর শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩০, ৩১ ও সূরা আহযাব শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩২, ৩৩, ৫৩, ৫৯ ও (সহীহ বুখারী শরীফ হাদীস শরীফঃ ৪৮৫০, আবু দাউদ শরীফ ২/৪৫৭, মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪, তিরমিযী শরীফ, আহমাদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৬৯; সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮, ফাতহুল বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭; উমদাতুল কারী ৪/৩০৫; মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/২৬৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪) ও আহসানুল ফতোয়া খণ্ড ৫ পৃষ্টা ১৯৯, এয়ালাউস সুনান খণ্ড ১৭ পৃষ্টাঃ ৮২১, আহকামুল কোরআন খণ্ড ৩, পৃষ্টাঃ ৪২২, আহসানুল ফতোয়া ৮/৪০, এমদাদুল ফতোয়া ৪/২০০, তাফসীরে কুরতবী ১৪/২৪৩, তাফসীরে তবারী ১০/৩৩১, তাফসীরে তবারী ১০/৩৩২, আহকামুল কোরআন ৩/৪১০, তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮২৪, আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২, তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৫৬; জামেউল বয়ান, তাফসীরে রূহুল মাআনী ২২/৮৮)

৭/ তোমাদের দ্বারা বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে সাদা হয়ে যাওয়া চুল আর দাড়িতে কালো কলপ ব্যবহার করা নাজায়েয হারাম হওয়ার পরেও তোমরা কেনো নিজের যৌবন কে প্রস্ফুটিত করতে চুলে দাড়িতে কলপ বা ভিবিন্ন রঙ করার মতো হারাম কাজ করে থাকো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (সহীহ মুসলিম শরীফঃ হাদীস শরীফ ৫৪৬৬, সুনানে আবু দাউদ শরীফঃ হাদীস শরীফ ৪২০৯, শরহে মুসলিম শরীফ, নববী ১৪/৮০, তাকমিলা, ফাতহুল মুলহিম ৪/১৪৯, মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/২৯৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৭৫৬, আলমুগনী ১/১২৭)

৮/ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং তোমাদের দ্বারা বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে কোনো মুসলমানকে নিজের সম্মুখে বা তুমি জানতে পারলে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে তখন সেই নির্যাতিত মুসলিম ভাইকে তোমার বাঁচানো এবং প্রতিবাদ করা ফরজ এবং না বাঁচিয়ে এড়িয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ হারাম কিন্তু তুমি কি তা করো তুমি তো তোমার মুসলিম ভাইকে বিপদে রেখে কেটে পড়ো যা সম্পূর্ণ হারাম? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (সুরা আন-নিসাঃ ৭৫, সহীহ মুসলিম শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ১/৬৯)

৯/ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে সুদের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা ইসলামী শরীয়তে একটি অমার্জনীয় অপরাধইসলামের দৃষ্টিতে উহা একটি মারাত্মক ও ধ্বংসাত্বক শোষণের কৌশল হিসেবে সাব্যস্থ তার পরেও তোমরা ব্যাঙ্কিং পন্থার সুদের বিরোধিতা না করে উল্টো হারাম সুদ খেয়ে যাচ্ছো কেনো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (পবিত্র সুরা আলে ইমরান আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরীফ ১৩০, পবিত্র সূরা আল বাকারা শরীফঃ আয়াত শরীফ ২৭৫,২৭৬,২৭৮, পবিত্র ইবনে মাযাহ শরীফ, আহমদ শরীফ, আবু ইয়ালা শরীফ, হাকেম শরীফ, বায়হাকী শরীফ, তিরমিযি শরীফ, বুখারী শরীফ হা/৫৯৬২, মুসলিম শরীফ হা/১৫৯৮, বুলুগুল মারাম শরীফ হা/৮১৬)

১০/ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং তোমাদের বিভক্তি করা সহিহ হাদিস শরীফ এর হুকুম অনুসারে যেখানে ছবি হারাম, ভিডিও বেপর্দা হওয়া হারাম, টিভি হারাম করা হয়েছে সেখানে কিভাবে হারাম পন্থায় ইসলাম প্রচার করে নিজেদের মুসলিম ভাবো? নাকি নিজের হারাম কাজের চেয়ে তুমাদের ভ্রান্ত দলিল বিহিন ফতোয়ায় সাব্যস্থ অন্যের বিদআত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বড় মনে হয়?

⇨⇨ দলিলঃ (উপরের ২ নং এবং ৬ নং এ দেওয়া আছে)

যাইহোক যদি লিখতে থাকি তাহলে হাজারো বিদয়াত নয় হারামের বর্ণনা দিতে পারি যা তোমরা প্রতিনিয়ত করেই যাচ্ছ হে মুসলিম নামধারী মুনাফিকেরা কিন্তু আমি চাই তোমরা ফিরে আসো হক্ব কে গ্রহন করো আর তওবা করো যে এই জীবনে ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করে চরম ভূল করেছ মহান আল্লাহ পাক তিনি যেনো তোমাদের ক্ষমা করে দেন এই দোয়া চাও প্রতিদিন মিলাদ শরীফ পাঠ করে। আমিন।

আর মিলাদ শরীফ বিদয়াত বলা কুফুরি বরং মুস্তাহাব নয়, নফল নয়, সুন্নত নয়, ওয়াজিব নয়, সরাসরি ফরজ করা হয়েছে যা করেছেন খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাল্লাহ!!!

দলিল হিসেবে এই পোষ্ট আপনাদের জন্যে যথেষ্টঃ https://goo.gl/RogpfU


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: