11.21.2016

মিত্যাচারের কারনে লিখতে বাধ্য হলাম ইনসেস্টের(পারিবারিক সেক্স) জন্মদাতা খোদ হিন্দু দেবতারাই


গত কয়েকদিন থেকে হিন্দুরা একটা ভিডিও ছড়াচ্ছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে সিলেটে এক দাড়ি-টুপি ওয়ালা এক বৃদ্ধ নাকি তার মেয়ের উপর অনৈতিক নির্যাতন করেছে। 

ভিডিও দেখার পর স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মূল ঘটনা কি তা বোঝা যাচ্ছে না এবং কারা কি উদ্দেশ্য নিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়েছে তাও ১০০% সন্দেহজনক। শুধু তাই নয়, এ ধরনের একটি ভিডিও ছড়ানো যথেষ্ট নৈতিকতা বিরোধী।

যাইহোক দেখা যাচ্ছে, ঐ ভিডিও নিয়ে হিন্দুরা ইসলামকে দেদারসে গালাগালি করছে এবং ঐ বুড়োকে রেফারেন্স করে বলছেঃ- ইসলাম নাকি কন্যা-পিতার মধ্যে সম্পর্কে অনুমোদন দেয় নাউযুবিল্লাহ। অথচ ঐ বুড়ো না নবী, না রাসুল, না সাহাবি, না তাবেঈ, না ইমাম মুস্তাহিদ, না অলি আল্লাহ এমনকি না কোনো একজন মসজিদের ইমাম এমনকি ইসলামের কোনো নেতৃস্থানীয় কেউও না, তাকে কেউ চিনেই না এবং দাড়িটুপি লাগালেই সে ইসলামের দলিল হয় না এইসব নাপাক হিন্দুরা তা জানেইনা আর জানার কথাও না কারন গো মাতার চরম মূর্খ শ্রেনির সন্তানরা তো জানার কথা না জ্ঞানের সাগর মহাসাগর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্পর্কে। বলাবাহুল্য ইউটিউব ঘাটলে এমন শত সহস্র ভিডিও পাওয়া যাবে যেখানে দেখা যাবে হিন্দু ধর্মগুরুরা নারীদের নিয়ে কি করছে। যাই হোক আমি সে দিকে যাচ্ছি না, তবে এটা কিন্তু সত্য হিন্দু ধর্মে দেবতাদের মধ্যেই অসংখ্য অযাচার বা ইনসেস্টের(মা/ছেলে, মেয়ে/পিতা, ভাই/বোনের যৌন মিলন) দেখা মিলে। ধর্মগ্রন্থ অনুসারে হিন্দুরা যাদের পূজা করে তারা প্রত্যেকে ভাই-বোন, পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্রের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত। আসুন সে রকম কিছু দলিল দেখি-

১) ব্রহ্মা তার কন্যা স্বরস্বতির রুপে মুগ্ধ হয়ে তার সাথে সঙ্গম ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। স্বরস্বতি তার পিতার হাত থেকে বাচার জন্য ভুমির চারদিকে ছুটে বেড়াতে লাগলেন কিন্তু ব্রহ্মার হাত থেকে বাচতে পারলেন না। তারা স্বামী-স্ত্রী রুপে ১০০ বছর বাস করলেন এবং সয়ম্ভুমারু ও শতরুপা নামক এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম দিলেন। সয়ম্ভুমারু ও শতরুপাও স্বামী স্ত্রী রুপে বসবাস করতে লাগলেন। Aitreay Brahman III : 33 // Satapatha Brahman 1 : 4 : 7 : 1ff // Matsy Puran III : 32ff // Bhagabati Puran III : 12 : 28ff

২) অহল্যা,গৌতম মুনরি স্ত্রী,সদ্য সড়বাতা (গোসল) এবং আদ্র (ভেজা) বস্ত্র পরিহিতা অবস্থায় আশ্রমে প্রত্যাবর্তন কালে পথিমধ্যে গৌতম শিষ্য দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে তার সাক্ষাত ঘটে। আদ্র বস্ত্রের মিথ্যা আবরণকে ভেদ করে উদগত যৌবনা অহল্যার রূপ লাবণ্য বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ফুটে উঠায় ইন্দ্রদেবের পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে,তিনি গুরুপত্নী অহল্যার সতীত্ব হরণ করেন। ত্রিকালজ্ঞ গৌতম মুনির কাছে একথা অজ্ঞাত থাকে না। তার অভিশাপে অহল্যা প্রস্তরে পরিণত হয়। আর ইন্দ্রদেবের সারা দেহে সহস্র যোনির উদ্ভব ঘটে। সুদীর্ঘকাল পরে ত্রেতাযুগে ঈশ্বরের অবতার রূপে শ্রীরাম চন্দ্র আবির্ভূত হন,তার পদ স্পশে অহল্যার পাষাণত্বঅপনোদিত হয়। (পঞ্চ পুরাণ,ষষ্ঠ খণ্ড,৬৯০ পৃষ্ঠা,মহাভারত,কৃত্তীবাসী রামায়ণের আদিকাণ্ডের ৬৫১ পৃষ্ঠা) এবার আরও কিছু দেব দেবীর যৌনতার বর্ণনা ॥

৩) যম ও যমী, যমজ ভাই-বোন। সূর্যদেবের ঔরসে ও উষাদেবীর গর্ভে তারা জন্মলাভ করে। যমী একদিন যমকে বলে- "তোমার সহবাসের জন্য আমি অভিলাষিনী, গর্ভাবস্থা হতে তুমি আমার সহচর। বিধাতা মনে মনে চিন্তা করে রেখেছেন যে, তোমার ঔরসে আমার গর্ভে আমাদের পিতার এক নাতি জন্মাবে। তুমি পুত্রজন্মদাতা পতির ন্যায় আমার শরীরে প্রবেশ কর।" (ঋকবেদ মন্ডল-৯, সুক্ত ১০)

সেই ঘটনাকে স্মরনীয় করে রাখতে হিন্দুরা প্রতিবছর 'ভাইফোঁটা' নামক এক উৎসব পালন করে। ঐদিন যম আর যমীর অনুপ্রেরণায় হিন্দু ছেলেরা তাদের আপন বোনকে নিয়ে কল্পনা করে আর ভাবে- "ঈশ! আমার বোনটাও যদি যমীর মত হত..."

৪) রাম ও সীতাকে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই জানি। কিন্তু বৌদ্ধ দশরথ জাতক অনুযায়ী- রাম ও সীতা হল ভাই-বোন, পরে তাদের মধ্যে বিবাহ হয়। "দশরথ জাতক" অনুযায়ী রামের জনক রাজা দশরথ ও জননী রানী কৌশল্যার মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল, তথাপি তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল। ঋগ্বেদ- এ দেখা যায় দম্ভ নিজ বোন মায়াকে, লোভ নিজ বোন নিবৃত্তিকে, কলি নিজ বোন নিরুক্তিকে বিয়ে করেছিল।

৫) শুধু ভাইবোন নয়, হিন্দু ধর্মে এমনকি মা-ছেলে, পিতা-কন্যার বিয়েতেও কোন নিষেধ নেই। ঋগ্বেদ-এ উল্লেখ আছে- পূষণ তার বিধবা মাকে বিয়ে করে দ্বিধিষূ অর্থ্যাৎ বিধবার স্বামী হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র মৎস পুরাণে বর্ণিত আছে- ইশ্বর ব্রক্ষ্মা নিজ কণ্যা শতরুপার প্রতি প্রণয়াশক্ত হন এবং হিন্দুদের আদি মানব মনুর জন্ম হয় তাদের মিলন থেকেই।

৬) পঞ্চপান্ডবের নোংরামি সবাই জানেন, তারপরও মনে করিয়ে দেই। পঞ্চপান্ডব ছিল পাঁচ ভাই। এক বাজিতে জিতে পাঁচ ভাইয়ের একজন (অর্জুন) দ্রৌপদীকে লাভ করেছিল। দ্রৌপদীকে বাড়ি এনে পাঁচ ভাই মাতা কুন্তিকে আহবান করে বলল- এসো দেখে যাও কি এনেছি। মাতা কুন্তি না দেখেই উত্তর করল-" যা এনেছিস পাঁচ ভাই মিলে ভাগ করে খা"। মাতার আদেশ মোতাবেক পাঁচ ভ্রাতাই দ্রৌপদীকে বিয়ে করে ভাগ করে খেয়েছিল...

৭) সরস্বতী-পুরাণ বলে, ঊর্বশীকে দেখে স্বমেহন (কবিরাজি বাংলায় হস্তমৈথুন) করতেন ব্রহ্মা। তাঁর শুক্রাণু জমা হত একটি পাত্রে সেই পাত্রে জন্ম হয় ঋষি অগস্ত্য এবং অগস্ত্য জন্ম দেন সরস্বতীর। এই সূত্র অনুযায়ী সরস্বতী ব্রহ্মার নাতনি আবার অন্য সূত্র বলে, ব্রহ্মার শুক্রাণু থেকে সরাসরি জন্ম হয় সরস্বতীর। কিন্তু আত্মজার রূপ দেখে মুগ্ধ হন প্রজাপতি। তিনি তাঁর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে চান। জন্মদাতার কামনা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যান সরস্বতী। কিন্তু শেষ অবধি হার মানতে হয় ব্রহ্মার কামনার কাছে। ব্রহ্মা এবং সরস্বতী স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকেন পদ্ম ফুলে। প্রায় ১০০ বছর ধরে। তাঁদের পুত্রের নাম 'স্বায়ম্ভুব মনু' এবং কন্যা 'শতরূপা'। কিন্তু এরপরেও ব্রহ্মার বিকৃত যৌন কামনা কমেনি। এতে বিদ্যা এবং জ্ঞানের দেবী সরস্বতী অভিশাপ দেন ব্রহ্মাকে। বলেন, দেবতাদের মূলস্রোতে থাকবেন না প্রজাপতি ব্রহ্মা। অর্থাৎ তিনি পূজিত হবেন না। সত্যি হিন্দু দেবতাদের মূলধারার মধ্যে পড়েন না ব্রহ্মা। তাঁর রাজস্থানের পুষ্কর ছাড়া তাঁর মন্দির এবং অর্চনা বিরল। কুপিত হয়ে সরস্বতী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। দেবী থেকে রূপান্তরিত হন নদীতে।

অতঃপর তারাও দুজন দুজনের সাথে সহবাস করে এবং তাদের মিলনের ফলে ব্রহ্মা দুজন দৌহিত্র ও দুজন দৌহিত্রা লাভ করেন। (মৎস্য পুরাণ ৩:৩২; ভগবত পুরাণ্ ৩/১২-২৮)


যে ধর্মের পূজনীয় দেব-দেবীদের এই অবস্থা, তারা কিভাবে সামান্য একটা ভিডিও নিয়ে এত লম্ফঝম্ফ করে আমার বুঝে আসে না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: