12.28.2016

হে যুবক যুবতিরা তোমরা কেনো তুমাদের হারাম প্রেম কে খুব সহজে হালাল করে নাওনা?

আমার একটা বিষয় মাথায় ঢুকেনা প্রেম কে হালাল করতে সমস্যা কোথায়? কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? আজকের হাইফাই সোসাইটির অধিকাংশ মা-বাবা জানে মেয়ের সাথে অমুক ছেলের রিলেশন আছে এতে তাদের কোনো সমস্যা নাই। 

মা বাবা দেখছে তার স্কুল/কলেজ/ইউনিভারসিটি পড়ুয়া মেয়ের বি এফ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার রুমে দরজা লাগিয়ে স্টাডি করছে লিটনের ফ্লাটের মতো এতে তাদের কোন সমস্যা নাই।

মা বাবা দেখছে তার স্কুল/কলেজ/ইউনিভারসিটি পড়ুয়া ছেলের জি এফ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার রুমে দরজা লাগিয়ে স্টাডি করছে লিটনের ফ্লাটের মতো এতে তাদের কোন সমস্যা নাই।

কিন্তু এদের বিয়ে দিতে তাদের যতো সমস্যা চুলকানি শুরু হয়ে যায় তখনি মুখে বুলি আওড়ায় বাল্য বিবাহ অনুচিত নাউযুবিল্লাহ।

কিন্তু যে যুবক যুবতিরা তুমরা কেনো বুঝনা? তুমরা তো চাইলে হালাল করতে পারো সম্পর্কগুলো?

তোমরা যে বয়সেরই হও তা ১৪/১৬/১৮/২০/২৫/৩০ হলেও তোমরা তো অধিকাংশ আজকাল ৫-৭ বছর টানা প্রেম করছো মেয়ে তুমি বাপের বাড়িতে থেকে ছেলে তার বাড়িতে থেকে তুমাদের প্রেম চলছে প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন দেখা করছো পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটছো, ইচ্ছে হলে আদর করে চুমু খাচ্ছ, যখন আর দেহ মানেনা উত্তেজনায় তখন নিরব স্থান খোঁজে শারিরিক চাহিদাও মেটাচ্ছ কিন্তু এই কাজগুলো কেনো হালাল পন্থায় করছোনা? বিয়ে করেও তো দুইজন নিজের বাপের বারী থাকতে পারো যেভাবে প্রেম করছো সেভাবে হালাল প্রেম করতে পারো কিন্তু তা করছোনা কেনো?

তোমাদের একটি উপদেশ দেই দেখো পালন করতে পারো কি না? মা বাবার অজান্তে যদি প্রেম আর শারিরিক সম্পর্ক তুমাদের কাছে যায়েজ মনে হয় তাহলে তাদের অজান্তে বিয়ে করতেও পারবে, একিই ভাবে ৪-৫ বছর প্রেম করে যদি মা বাব্বার অজান্তে ব্রেকাপ হয়ে যেতে পারে তাহলে সেই হালাল বিয়ের ও যেকোনো সময় তালাক সহজেই দিতে পারবে।

সামান্য কিছু সহজ স্টেপ বিয়ে এবং তালাকেরঃ

ইসলামিক শরীয়তে বিয়ে খুবই সোজা বিয়ের জন্য প্রয়জন পাত্র পাত্রিকে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ১৮ বছর বাধ্যতামূলক নয়, এবং পুরুষকে মোহর আদায় করার মতো সাবলম্বি হওয়া।

দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের সম্মুখে বা একজন মুসলিম পুরুষ এবং দুইজন মুসলিম মহিলার সম্মুখে ছেলে যদি মেয়েকে যেকোনো পরিমানের দেন মোহরের বিনিময়ে তাকে বিয়ের জন্য অর্থাৎ স্বামী হিসেবে কবুল করার কথা জিজ্ঞেশ করে আর মেয়ে যদি রাজি হয়ে তিনবার কবুল বলে তাহলে বিয়ে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এরপর তারা একে অন্যের জন্যে হালাল হয়ে যাবে।

ঠিক তেমনি একটি প্রেমের সম্পর্ক যেভাবে যেকোনো সময় ভাঙ্গা যায় তেমন করে বিয়ের সম্পর্ক ও ভাংতে পারবে তার জন্যে স্বামিকে শুধু ৩ বার মুখ দিয়ে তালাক শব্দ উচ্চারন করতে হবে যেমন আমি তুমাকে এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক দিলাম বা যদি একসাথে বলে তিন তালাক তাও বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে একে অন্যের জন্যে হারাম হয়ে যাবে।

তবে হারাম প্রেম ভালোবাসার আগে আপনার জানা উচিৎ আপনি যে কাউকে ভালোবাসতে হলে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উঁনার জন্যেই ভালোবাসতে হবে সে যদি কুনো মেয়ে হয় আর আপনি যদি অনিচ্ছা স্বত্বেও তাকে ভালোবেসে ফেলেন তাহলে হয় পরিত্যাগ করতে হবে নতুবা তাকে ভালবাসতে হবে মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার সন্তুষ্টির জন্যে আর উঁনার সন্তুষ্টি অর্জন করে কুনো মেয়েকে ভালোবাসার একমাত্র রাস্তাই হলো বিবাহ আর বিবাহ ব্যতীত বিকল্প কুনো রাস্তা নাই।

আপনি হয়তো বলবেন আমাদের প্রেম ভালোবাসা পবিত্র কোনো পাপ পঙ্খিলতা নাই কিন্তু পবিত্র দিন ইসলাম এগুলো জীবনেও সমর্থন করবেন না কারন আপনি যখনি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াবেন তখন এক সময় না এক সময় আপনি খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়বেন নিজের অজান্তে কারনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেছেন, "যেখানে দুজন বেগানা নারী-পুরুষ নির্জনে একত্র হয় সেখানে তৃতীয়জন থাকে শয়তান।" -[জামে তিরমিযী, হাদীস শরীফ নং ১১৭১]

আর যেখানে সয়তান থাকে সেখান থেকে ভালো কুনোকিছু পাওয়া যাবে এমন চিন্তা করা হাস্যকর। অথচ আপনি যদি আপনার ভালোবাসাকে হালাল করেন নিকাহের মাধ্যমে আর সেই মেয়েকে সর্বচ্ছো মর্যাদা দেন নিজের আহলিয়া(স্ত্রি) হিসেবে তাহলে দেখা যাবে আপনি রহমত প্রাপ্ত হচ্ছেন গুনাহের বদলে কারনঃ ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেন, "দুজনের পারস্পারিক ভালোবাসার জন্য বিবাহের মতো  ভাল কিছু নেই।" আল হাদীস।

আর হাদিসে কুদসীতে আছে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিঁনি বলেনঃ "আমার জন্য পরস্পর ভালোবাসা স্থাপনকারী, পরস্পর উঠা-বসা-কারী, পরস্পর সাক্ষাৎকারী, পরস্পর ব্যয়কারীদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত।" [আহমদ শরীফ : হাদীস শরীফ নং ২১৭১৭]

আর কেয়ামতের দিন বলা হবে "আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ - যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না- আমি তাদের ছায়া দেব।" [সহীহ মুসলিম শরীফ : হাদীস শরীফ নং ৪৬৫৫]

এমনকি একটি মশহুর হাদিস শরিফে বলা হয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেনঃ যখন স্বামী স্ত্রী পরস্পরের সাথে প্রেম চাহনির বিনিময় করে তখন মহান আল্লাহ পাক তিঁনি উভয়ের দিকে করুনার দৃষ্টি দেন অতঃপর যখন স্বামী স্ত্রীর হাত ধারন করে তখন তাদের আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে পাপরাশি ঝরে পড়ে এবং যখন কোন স্ত্রী স্বামীর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসে তখন মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসেন। সুবহানাল্লাহ।

উপরের হাদিস শরিফ বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া যায় তা হলো বিবাহপূর্বে নারি পুরুষের মধ্যে যে প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি হয় তা সম্পূর্ণ হারাম তা যতই পিউর হউক তাই বিবাহের মাধ্যে নিজের প্রেম কে হালাল করা হচ্ছে সর্বোত্তম পথ একজন খোদাভিরু মুসলমানের জন্যে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: