1.28.2017

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বাস না করলেও জান্নাতি হওয়ার কিঞ্চিৎ চান্স আছে – নাউযুবিল্লাহ


ডা. জাকির নায়েকের কুফরি/পথভ্রষ্টতার বক্তব্য [রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বাস না করলেও জান্নাতি হওয়ার কিঞ্চিৎ চান্স আছে নাউযুবিল্লাহ] ও তার জবাব।

জাকির নায়েক বলেছে [https://www.youtube.com/watch?v=dZkmUVGwvB4] যে কোনো ব্যক্তি যদি হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না মানে তাহলে সেই ব্যক্তির জান্নাতের যাবার সুযোগ আছে ০.০০০০০ ১%, যদি মহান আল্লাহ পাক তাকে মাফ করে দেন, এবং সেই ব্যক্তি যদি শিরক না করে থাকে নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক।

যারা তার পক্ষে কমেন্ট করবেন তারা অবশ্যই প্রথমে, ০.০০০০০০১% একটি দলীল দেনএই রকম বিষয়ের জন্য সহিহ তো দূর একটি জাল দলীলও কেউ দিতে পারবেন না

আসলে সে যে ইহুদী নাসারাদের এজেন্ট নিজেই ইহুদী নাসারার অনুসারী রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদ্বেষি এবং তাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার ফতওয়া দিয়ে তাদের কাছে নিজেকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখতে চাচ্ছে তার এই বক্ত্যবে ক্লিয়ার করে দিয়েছে।

যাইহোক এখন কথা হলো যে ব্যক্তি হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না মানে, সেতো মুসলমান ই না? সেতো ইসলাম ধর্মই মানলনা? আর বর্তমানে ইসলাম ধর্ম না মেনে কেউ কিভাবে জান্নাতে যাবে?

আপনি যদি জ্ঞানি হোন আর পবিত্র কুরআন উল কারীমের নিচের আয়াত শরীফ সমূহ একটু দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন আর যদি জাকির নায়েকের অন্ধ অনুসারী হন তাহলে চান্স নাই

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ] আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর না করুনযদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন, তথাপি কখনোই তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন নাতা এজন্য যে, তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অস্বীকার করেছেবস্তুতঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি নাফারমানদেরকে পথ দেখান না। [সুরা তাওবা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৮০]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ] নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলামএবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। [সুরা আলে ইমরান আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরীফ ১৯]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ] যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। [সুরা আলে ইমরান আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরীফ ৮৫]

আর মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টই বলে দিয়েছেনঃ [فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا] অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করেঅতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। [সুরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬৫]

আর বর্তমানে জান্নাতে যাওয়ার জন্যে শুধু মুসলিম হলেই হবেনা সাথে মুমিন হতে হবে আর কেউ যদি নিজেকে মুমিন দাবি করে তাহলে শুধু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানলেও হবেনা উনাকে যদি সমস্থ সবকিছুর থেকে বেশি মুহব্বত না করে। যেমনঃ

একবার নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশি প্রিয় হই অর্থাৎ সে যদি তার পিতা এবং পুত্র হতে আমাকে বেশি মুহব্বত না করে' অন্য হাদিস শরীফেও এসেছেঃ তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে পিতা, সন্তান ও সমস্থ মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই অর্থাৎ তুমরা যদি তোমাদের পিতা এবং পুত্র এবং সমস্থ মানুষ হতে আমাকে বেশি মুহব্বত না করোঅন্য আরেকটি হাদিস শরীফে এসেছেঃ তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে পিতা, সন্তান ও সমস্থ মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই অর্থাৎ তুমরা যদি তোমাদের পিতা এবং পুত্র এবং সমস্থ মানুষ হতে আমাকে বেশি মুহব্বত না করো

সূত্রঃ বুখারি শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ১৩/১৪/১৫/ ও  মুসলিম শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ১৭৮আরো দেখতে পারেনঃ মুসলিম শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৪৪ এবং মিশকাত শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৭

যাইহোক উপরের হাদিস শরীফ গুলো যখন রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন ঐ সময় হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জীবন ব্যতীত আপনি আমার নিকট সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়তখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বললেন, না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! আপনার কাছে আমি যতক্ষণ আপনার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় না হবো ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি পূর্ণ মুমিন হতে পারবেন নাতখন ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয়নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ওমর! ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এখন আপনি সত্যিকারের ঈমানদার হলেন

বুখারী শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৬৬৩২ শপথ ও মানত অধ্যায়

এখন কথা হচ্ছে হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন বলছিলেন আমার জীবন ব্যতীত আপনি আমার নিকট সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় অর্থাৎ আমি আমার জিবনের চেয়েও বেশি আপনাকে মুহব্বত করিনা তখন রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুমিন বলে মেনে নিলেন না তাহলে কি হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তখন মুসলিম ছিলেন না? তিনি তখন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন না? রমাদ্বানের ৩০ টি ফরজ রোজা রাখতেন না? যাকাত আদায় করতেন না? হজ্জ করতেন না? ইসলামের পাবন্দি ছিলেন না? যদি সবকিছু করে থাকেন তাহলে উনাকে কেনো মুমিন বলে মেনে নিলেন না রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? কারন উনি রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের জিবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করতেন না আর রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বললেন যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! আপনার কাছে আমি যতক্ষণ আপনার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় না হবো ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি পূর্ণ মুমিন হতে পারবেন না তখন ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয় আমি আপনাকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করি

উনার এই স্বীকৃতির পরেই উনাকে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ওমর! ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এখন আপনি সত্যিকারের ঈমানদার হলেন

এতএব উপরের হাদিস শরীফ থেকে সারমর্ম যা পেলাম পূর্ণ ঈমানদার এবং জান্নাতি হতে হলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করলেই হবেনা মনেপ্রানে রাসুলাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মানতে তো হবেই সাথে নিজের জিবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত করতে হবে না হলে যতোই অনুসরণ অনুকরণ আর আমল করুন না কেনো কোনো অবস্থাতেই পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবেন না, ক্ষমা পাবেন না, জান্নাতি হবেন না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের কে মানার এবং বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: