2.26.2017

ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) একজন শাফায়াৎকারী এবং যার অসিলায় ক্ষমা পাওয়া যায়

ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) একজন অপরিচিত সেলিব্রিটি আমীরুল মুমিনিন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম দাঁড়িয়ে আছেন ইয়েমেন থেকে আগত দলটির সামনেএই দলটি পবিত্র ইয়েমেন থেকে মদিনা শরীফ হয়ে যাবে ইরাক ও আস-সাম এর দিকেহযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ইয়েমেন বাসি!! আপনাদের মধ্যে কি এমন কেউ কি আছে যার নাম ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ)প্রশ্নটি করে হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম অপেক্ষা করছেন কেউ উত্তর দেয় কি না কারন অনেকদিন থেকেই ইয়েমেনের এই ব্যক্তিটিকে খুজছেন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম, প্রতিবারই ইয়েমেন থেকে যেকোন কাফেলা আসলে হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তাদেরকে ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেনকিন্তু এই ব্যক্তি সম্পর্কে কেউ কোন তথ্য দিতে পারে নাপ্রতিবারই উনাকে হতাশ হতে হয় কিন্তু এবার অবশ্য খালিফা হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার প্রশ্ন শুনে একজন দাড়ালেনবিশাল দাড়ি বয়সে বৃদ্ধ তিনি হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আপনি কোন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন সেটাতো জানি না তবে আমার ভাই এর ছেলের নাম ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ)কিন্তু উনার ব্যপারে তো আপনার জিজ্ঞেস করার প্রশ্নই আসে না, তিনি তো এমন কেউ না বরং তিনি এতই গরিব এবং এতই নতমস্তক যে আপনার পরিচিত হওয়ার প্রশ্নই আসে নাতিনি আমাদের উট গুলোর দেখা শোনা করেনএমনকি আমাদের মধ্যেও উনার কোন বিশেষ স্থান নেই বৃদ্ধের কাছে হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি যখন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আরও জানতে চাইলেন বৃদ্ধ বললেন ইয়া আমিরুল মুমিনিন কেন আপনি উনার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? মহান আল্লাহ পাক উনার কসম আমার ভাতিজার মতো এত বোকা আর এত হতদরিদ্র আমাদের মধ্যে আর কেউ নেই বৃদ্ধের এই কথা শুনে হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার চোখের পানি আটকাতে পারলেন না অঝোরে কেদে দিলেনউনার কান্না গোপন রইল নাতিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেনঃ আপনি হত দরিদ্র - তিনি নন। কারন আমি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে রাবিইয়া আর মুজির গোত্রের লোক সংখ্যার ন্যায় মানুষকে মহান আল্লাহ পাক হযরত ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার সুপারিশের কারনে মাফ করে দেবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এখন আমাকে বলুন কোথায় তিনি?” বৃদ্ধ বললেন পবিত্র আরাফা শরীফের চুড়ায় আছেন তিনি। 

হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে দ্রুত পবিত্র আরাফা শরীফে গেলেনঐ তো একটা গাছের নিচে বসে ইবাদত করছেন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ), উনার চারিপাশের অনেক উঠ, হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সামনে গেলেন, উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার ইবাদত শেষ করে উনাদের দিকে ফিরে সালামের উত্তর দিলেন উনারা উনাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কে আপনি? তিনি বললেন আমি উট দেখাশোনা করি এবং একটি গোত্রের কাজের লোকউনারা বললেন আমরা আপনাকে আপনার পশু পালনের ব্যপারে জিজ্ঞেস করিনি এমনকি আপনি কোন গোত্রের কোনো কাজের লোক কিনা সেটাও জানতে চাইনি আমরা জানতে চাচ্ছি আপনার নাম কি? তিনি বললেন আব্দুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা) উনারা বললেন এই আসমান এবং জমিনে যত সৃষ্টি আছে সবই মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা কিন্তু আপনার নাম কি যেটা দিয়ে আপনার মা আপনাকে সম্বোধন করেন? তিনি বললেন আপনারা আমার কাছে কি চান? উনারা বললেন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার আমাদেরকে হযরত ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) নামে এক ব্যক্তির কথা বলেছিলেন উনার বর্ননা অনুযায়ী সেই ব্যক্তির থাকবে নিলাভ কালো চোখএবং উনার বাম কাধের নিচে এক দিরহামের মত একটা সাদা দাগ থাকবেতাই দয়া করে আমাদেরকে দেখতে দিন যে আপনার ঐ সাদা দাগটা আছে কিনা তাহলেই আমরা বুঝবো আমরা যাকে খুজছি সেই লোক আপনি কি না? ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) তখন উনার বাম কাধ উন্মুক্ত করে দেখালেন, দিরহামের ন্যায় সেই সাদা দাগটা স্পষ্ট ফুটে আছে উনার বাম কাধের নিচেহযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে উনাদের বুঝতে আর বাকি রইলো না যে এই সেই ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) যার কথা অনেক অনেক বছর আগে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে বলেছিলেন 

তখন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জমিনে বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি একটি হাদীসে কুদসী শরীফ(যে হাদিস শরীফ সরাসরি মহান আল্লাহ পাক হতে বর্ণিত) বর্ননা করেছিলেনঃ আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত হয়েছে হাদীস শরীফটি যেখানে তিনি বলেন, যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ভালোবাসেন উনার সৃষ্টিকেঃ যে মহান আল্লাহ পাক ভীরু, যার অন্তর পরিসুদ্ধ, উনাদেরকে যারা নিজেদেরকে গোপন রাখেন, এবং উনাদেরকে যারা নিরপরাধ, যার মুখ মন্ডল ধুল মলিন, যার চুল এলোমেলো, যার পেট খালি, এবং তিনি যদি শাসকের সাথে দেখা করার অনুমতি চান তাহলে উনাকে তা দেয়া হয় নাএবং তিনি যদি একটু সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে বিয়ে করতে চান তাহলে উনাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়, এবং তিনি যদি দুনিয়ার কিছু ত্যাগ করেন সেটা কখনোই উনার অভাব বোধ করে না এবং তিনি যদি কোথাও হতে বের হয়ে যান তাহলে উনার বের হয়ে যাওয়া ও কেউ লক্ষ করে নাতিনি যদি অসুস্থ হন, তাহলে উনাকে কেউ দেখতে আসেনা এবং উনি যদি মারা যান তাহলে উনাকে কবর পর্যন্ত পৌছে দিতেও কেউ আসে না এই হাদীস শরীফ শুনে সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন তখন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম একজন ব্যক্তিকে আমরা কিভাবে খুজে পাব? রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেনঃ ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) হচ্ছেন এমনই একজন ব্যক্তি তখন সাহাবাইয়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ কে এই ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ)? রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেনঃ উনার গাত্র বর্ন কালো, কাধ প্রশস্থ, উচ্চতা মাঝারি, উনার দাড়ি মুবারক উনার বুক পর্যন্ত লম্বা, উনার চোখ সবসময় অবনমিত থাকে সেজদার স্থানেউনার ডান হাত থাকে তার বাম হাতের ওপরতিনি একান্তে এমনভাবেই কাদেন যে উনার ঠোট স্ফীত হয়ে যায়তিনি একটা উলের পোশাক পরেন এবং আসমান বাসির পবিত্র সবাই উনাকে চেনেনযদি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নামে কোন শপথ করেন, তাহলে তিনি তা পালন করেন উনার ডান কাধের নিচে একটা সাদা দাগ রয়েছেযখন কেয়ামতের দিন আসবে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদেরকে বলবেন জান্নাতে প্রবেশ করো তখন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাকে বলা হবে দাঁড়াও এবং সুপারিশ করো মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি তখন উনার সুপারিশ অনুযায়ী মুজির এবং রাবিইয়া (ওয়াইস আল কারনি রহিমাহুল্লাহ উনার দুই গোত্রের নাম) গোত্রের লোক সংখ্যার সমান লোককে ক্ষমা করে দেবেন সুতরাং হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম আপনারা যদি কখনো উনার দেখা পান তাহলে উনাকে বলবেন আপনাদের জন্যে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সুপারিশ করতে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার উসিলায় আপনাদের ক্ষমা করে দেবেনরাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আরো বলেছিলেন যে উনার ঘরে বৃদ্ধা মা আছেনযার পুরো দেখা শোনা ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) করেন এবং বৃদ্ধা মা কে দেখা শোনার জন্যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দেখা করে সাহাবি হওয়ার যে সুবর্ন সুযোগ ছিলো তা গ্রহন করতে পারে নিওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার মায়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবী হওয়ার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হনতাই রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবদ্দশায় ইসলাম কবুল করলেও তিনি তাবেই রয়ে যান এই ঘটনার পর প্রায় দশ বছর কেটে গেছেরাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর উনাদের মাঝে নেইসিদ্দিকে আক্ববর আলাইহিস সালাম ও দুনিয়া ছেড়েছেনএর মধ্যে শতো শতো বার খোজার পরেও ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাকে খুজে পান নি উনারাআর আজকে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বর্ননা কৃত সেই ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সুবহানাল্লাহ!! 

হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাকে জড়িয়ে ধরে বললেন আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই সেই ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ)সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমাদের জন্যে ক্ষমা ভিক্ষা চান তাহলে আপনার উসিলায় আমরা ক্ষমা পাবো এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকেও ক্ষমা করুনউত্তরে ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) বললেনঃ কোন আদম সন্তান বা আমি নিজে কাউকে ক্ষমা করানোর ক্ষমতা রাখি না, তবে এই জমিনে ইমানদার পুরুষ এবং ইমানদার নারি রয়েছেন, মুসলিম নারী মুসলিম পুরুষ রয়েছে যাদের দোয়া মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হয়উনারা বললেনঃ সত্যিই তাইতখন তিনি বললেনঃ আপনারা দুজন আমার সম্পর্কে জানেন এবং আমি আমার অবস্থান সম্পর্কে জানি কিন্তু আপনারা কারা? হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি তখন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনাকে দেখিয়ে বললেনঃ ইনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনিন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং আমি হচ্ছি আলী বিন আবু তালিব আলাইহিস সালাম। ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাদের পরিচয় শুনে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং উনাদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম ইয়া আমিরুল মুমিনিন এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম আপনাকেও মহান আল্লাহ পাক আপনাদেরকে এই উম্মাহর জন্যে উত্তম প্রতিদান দান করুন উনারাও বললেন মহান আল্লাহ পাক আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দিনএর পর ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাদের জন্যে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে উনাদের জন্য দোয়া করলেন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনাকে বললেনঃ আপনি এখন থেকে দুনিয়া এবং আখেরাতে আমার বন্ধুওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) জানেন ইহজীবনে হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার বন্ধু হওয়া মানে সুনাম এবং একটি সচ্ছল জীবন পাওয়া, তাই তিনি হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার বন্ধুত্ব গ্রহন করলেন বটে কিন্তু খুব বিনয়ের সাথে উনার সাথের সচ্ছলতা এবং সুনাম যা হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে তিনি পেতে পারতেন সেটাকে প্রত্যাখ্যান করলেনতিনি যেমন আছেন ঠিক তেমনই থাকার ইচ্ছে পোষণ করলেনহযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম বললেন আপনি এখন কোথায় যেতে চান? ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) বললেন ইরাকের কুফায় হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন ঠিক আছে আমি একটা চিঠি লিখে দেই কুফার গভর্নরকে যাতে উনি আপনার ভালোকরে দেখাশোনা করতে পারেনওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) বললেনঃ দয়া করে এই কাজ করবেন না কারন আমি নিজেকে এইভাবে অচেনা রাখতেই পছন্দ করিআমি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এভাবেই অপরিচিত হয়েই থাকতে চাই এরপর তিনি কুফায় চলে যানসেখানেই বসতি স্থাপন করেন। 

এইভাবে কেটে যায় আরও কিছু বছর, একবার কুফা থেকে ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মদিনা শরীফ আসেন উনার কাছে আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) তিনি কেমন আছেন তা জানতে চান খালিফা ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন দেখে সেই ব্যক্তি খুব অবাক হলেন, তিনি খালিফা হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন আমি উনাকে দারিদ্রতায় নিমজ্জিত দেখে এসেছি্, উনার ঘরে কোন আসবাবপত্র নেই, কেন আপনি এই ব্যক্তির কথা জিজ্ঞেস করছেন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন যদি আপনি উনার দেখা পান তাহলে উনাকে বলবেন আপনার জন্যে দোয়া করতে কারন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা বলেছিলেনসেই ব্যক্তি কুফায় ফিরে ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার সাথে দেখা করেন উনাকে বলেনঃ হে ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) আমার জন্যে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) বললেনঃ আপনি নিজে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন কারন আপনি মাত্র সফর করে আসলেন আর মুসাফিরের দোয়া মহান আল্লাহ পাক কবুল করেনতিনি বললেন না নাআমি চাই আপনি আমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেনওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) একটু চুপ থাকলেন তারপর বললেনঃ তোমার কি হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার সাথে দেখা হয়েছিল?” তিনি বললেন হ্যাঁ তখন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) বুঝতে পারলেন কি হয়েছে সম্পূর্ণ ব্যপারটায় তিনি কিছু বললেন না এবং ঐ ব্যক্তির জন্যে দোয়া করলেনএই ঘটনা পুরো কুফা নগরীতে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়লো, সবাই জেনে গেলো ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে এবং নিজেদের মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে মাফ করিয়ে নিতে মানুষজন যখন ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) উনার খোজে উনার বাড়ি গেলো, তখন তারা দেখতে পেলো যে বাড়ি সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে, ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) নেইনাম, যশ, খ্যাতি সব কিছুকে দু হাত দিয়ে ছুড়ে ফেলে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যে বেছে নিয়েছেন তিনিউনার তাকওয়া, উনার মর্যাদা তিনি কারো কাছে কখনো প্রকাশ করতে চান নিএকমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যেই সব করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকেই ইন শা আল্লাহ তিনি এর বিনিময় পাবেন। সত্যিই ওয়াইস আল কারনি (রহিমাহুল্লাহ) একজন অপরিচিত সেলিব্রিটি মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সমস্থ গুনাহকেও উনার উসিলায় ক্ষমা করুন এবং সকল কথা এবং কাজকে সঠিক এখলাসের চাদর দিয়ে ঢেকে দিন আমিন

[সুত্রঃ হাদিস কুদসি, শায়েখ আনওয়ার আল আওলাকির লেকচার এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাব]


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: