2.26.2017

ইসলামে মূর্তিপূজা যায়েজ করতে গিয়ে নাস্তিক হাসান মাহমুদের অনুসারিরা এবার কুরআনের ভূল অর্থ করলো

ইসলামে মূর্তিপূজা যায়েজ করতে গিয়ে নাস্তিক হাসান মাসুদের অনুসারিরা এবার কুরানের ভূল অর্থ করলো
হাইকোর্টে গ্রীক দেবীর মূর্তি হালাল করার জন্য ইসলাম বিদ্বেষীরা একের পর এক মিথ্যাচার করছে তারা এবার হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার নামেও মিথ্যাচার করলোতারা সূরা সাবা শরীফের ১৩ নং আয়াত শরীফের একটা শব্দকে ভুল অর্থ করে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার প্রতি মূর্তি বানানোর অপবাদ দিলো নাউযুবিল্লাহ!!

আসুন প্রকৃতি সত্য ইতিহাস ও অর্থ দেখা যাকঃ يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ ۚ
অর্থঃ তারা (জ্বিনরা) হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম উনার ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, প্রতিকৃতি, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। (সূরা সাবা ১২ নং আয়াত)

আরবী জ্ঞান না থাকার কারনে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে তারা উক্ত আয়াত শরীফে তামাছিল শব্দের অর্থ করেছে মূর্তি নাউযুবিল্লাহ!! অথচ তামাছিল দ্বারা কখেনোই নিদৃষ্টভাবে মূর্তি বোঝায় নাএখানে تماثيل শব্দটি تمثال শব্দের বহুবচনএর অর্থ হচ্ছে "এমন বস্তু যা অন্য কোন বস্তুর অনুরূপ আকৃতিতে তৈরি করা হয়। (লিসানুল আরব ১১/৬৩১)

সূতরাং আমারা দেখতে পেলাম উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা যে তামাছিল বলা হয়েছে সেটা দ্বারা বোঝানো হয়েছে কোন কিছুর অনুরূপ আকৃতি বা প্রতিকৃতিপ্রতিকৃতি দ্বারাতো আর কোন প্রানীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি নিদৃষ্ট করে বোঝায় নাতাহলে কি করে এটা বলা সম্ভব যে হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম প্রানীর মূর্তি বা ভাষ্কর্য বানাতে বলেছেন?

আসুন দেখা যাক উক্ত আয়াত শরীফে তামাছিল দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে, সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াত শরীফে ব্যাখায় আল্লামা যমখশরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ يجوز ان يكون غير صور الحيوان كصور الاشجار و غيرها لان التماثيل كل ماهو علي مثل صورة غيره من حيوان او غير حيوان
অর্থঃ হযরত সুলাইমাম আলাইহাস সালাম জিনদের সাহায্যে যেসব আকৃতি তৈরি করাতেন তা কোন প্রানীর ছবি বা আকৃতি ছিলো না, বরং তা ছিলো গাছপালা ইত্যাদির আকৃতিকেননা আরবীতে تمثال বলা হয় এমন বস্তুকে যা অন্য কোন আকৃতিতে বানানো হয়, চাই তা প্রানী হোক কিংবা হোক কিংবা অপ্রানী হোক। (তাফসীরে কাশশাফ)

প্রশ্ন হতে পারে সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি কি প্রানীর প্রতিকৃতি বানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর, নাকারন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ছিলেন তাওরাত শরীফের অনুসারীসূতরাং উনার পক্ষে কখনোই মূর্তির ভাষ্কর্য বানানো সম্ভব নয়কারন তাওরাত শরীফে যেকোন প্রানীর মূর্তি, প্রতিকৃতি বানানো শক্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে পবিত্র তাওরাত শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
لءلا تفسدوا وتعملوا انفسكم تمثالا منحوتا صورة مثال ماشبه ذكرا اوانثي شبه بهيمة ما مما غلي الارض . شبه طيرما ذي جناح مما يطير في السماء شبه دبيب ما علي الارض شبه سمك ما مما في السماء من تحت الارض
অর্থঃ এমন যেন না হয়, তোমরা বিকৃত হয়ে নিজেদের খোদাই করা প্রতিমুর্তি বানিয়ে নিবে, যা কোন পুরুষ কিংবা নারী অথবা যমীনের কোন প্রাণী বা উড্ডয়নকারী কোন পাখি বা যমীনে বিচরণশীল কোন চতুষ্পদ জন্তু অথবা যমীনের নিচে পানিতে বিচরণশীল মাছের অনুরূপ হয়” (কিতাবুল ইস্তিছনা, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬-১৮)

তাওরাত শরীফের অনুসারী হয়ে কি করে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম প্রনীর প্রতিকৃতি তৈরী করতে নির্দেশ দিবেন?

সূতরাং কি করে বলা যায় সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াত শরীফে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম প্রানীর মূর্তি ভাষ্কর্য বানাতে বলেছেন?

আর সামান্য সময়ের জন্যে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে উনি এমন কাজ করেছিলেন নাউযুবিল্লাহ তাহলেও উনার শরিয়ত এর হুকুম কি আমরা আমাদের করে নিতে পারবো? কস্মিনকালেও না। তামাসিল (تماثيل) অর্থ যদি মুর্তিও হতো তাতেও কিছু আসতো যেত নাকেননা হযরত সোলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ্পাক উনার নবী হলেও, উনার শরীয়ত আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়আমাদের জন্য সকল প্রকার মুর্তি (পুজা করা হোক আর না হোক) হারাম করা হয়েছে


যেমন হযরত আবুল বাশার শফিউল্লাহ্ আলাইহিস সালাম উনার শরীয়তে আপন ভাই-বোন বিবাহ জায়িজ ছিলোএখন সেই দলীল অনুসারে কি আমরাও সমাজে ভাই বোনের বিয়ে যায়েজ করার ফতওয়া চালাবো?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: