3.01.2017

বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে মঙ্গলশোভাযাত্রা চালু হচ্ছে অথচ মুসলমানরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে

গত কয়েকদিন ধরে অনেকেই ইনবক্সে জানাচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নাকি ইসলাম ধর্মীয় সমাবেশ (ওয়াজ মাহফিল) করতে দিচ্ছে না পুলিশ-প্রশাসন। বলছে- সরকারের উপর মহলের নিষেধ আছে। এমনকি এ সব সমাবেশ আয়োজনকারীদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যাপক চাহিদা বিদ্যামান। মুসলমানরা রাত জেগে এই সব আলোচনা অনুষ্ঠান শ্রবণ করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সরকার পুলিশ-প্রশাসন দিয়ে এই সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছে। বলাবাহুল্য, সরকার যেই অজুহাত-ই দিক এতদিন কিন্তু নির্বিঘ্নেই এইসব ধর্মীয় সভা চলে আসছিলো, এমনকি সরকার দলীয় লোকজন এসব অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে থাকতো, অনেক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের দায়িত্বশীলের উপস্থিতিও কম ছিলো না, কিন্তু এখন সব বন্ধ। কিন্তু কেন?

কিন্তু কেন ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজঁতে গেলে আমাদের জানতে হবে- সরকার আসলে চাচ্ছেটা কি??

সরকার চাচ্ছেটা কি? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে জানতে হবে- সরকারের মাস্টারমাইন্ডরা বলছেটা কি?? সরকারের মাস্টারমাইন্ডরা বলছে- ইসলাম ধর্মীয় সকল প্রচার বন্ধ করতে হবে এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধূলা ও হিন্দুয়ানী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। মুসলমানদের ইসলাম থেকে সরিয়ে যত বেশি সংস্কৃতিবাদী তথা হিন্দুবাদী করা যাবে আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা ততটা পাকাপক্ত হবে। এক্ষেত্রে জঙ্গীবাদ দূর করতে ইসলাম ধর্ম চর্চা বন্ধ, সংষ্কৃতি চর্চা চালুটাইপের শ্লোগান ব্যবহার করা যেতে পারে। (মুনতাসির মামুন বা আসাদুজ্জামান নূরের বক্তব্যগুলো দেখতে পারেন)।

সম্প্রতি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছে- আগে শুধু চারুকলা থেকে মঙ্গলশোভাযাত্রা বের হতো, এখন প্রত্যেক জেলায় জেলায়, প্রত্যেক থানায় থানায়, এমনকি প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউনিয়নে মঙ্গলশোভাযাত্রা বের হবে। (http://bit.ly/2mm47tS)

বলাবাহুল্য মঙ্গলশোভাযাত্রার মূল তত্ত্ব ইসলাম বিরোধী হওয়ায় গত বছরগুলোতে চারুকলা থেকে বের হওয়া ১টি মাত্র মঙ্গলশোভাযাত্রার বিরোধীতা চলছিলো সারা দেশ জুড়ে, কিন্তু এখন দেশের সকল ইউনিয়ন, মানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার স্পট থেকে সরকারী উদ্যোগে করা হবে মঙ্গলশোভাযাত্রা। তারমানে সরকার মুসলমানদের ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে সাড়ে ৪ হাজার স্পটে মঙ্গলশোভাযাত্রা নামক শিরিকি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।


আমি তারপরও বলবো, সব দোষ বাংলাদেশের মুসলমানদেরই। কারণ তারা নিজ হাতে নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করেছে। সরকার পহেলা বৈশাখের মত গোড়া হিন্দুত্ববাদী তত্ত্বকে খাওয়ানোর জন্য প্রাথমিকভাবে বৈশাখী বোনাসনামক আর্থিক টোপ দিয়েছে। আর মুসলমানরা সামান্য কটা টাকার লোভে সেই হিন্দুত্ববাদী তত্ত্বকে গিলে ফেলেছে। মুসলমানরা যদি বলতো- না, পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের পূজার দিন। আমরা ঐ দিন বোনাস নেবো না, মুসলমানদের অনেক ধর্মীয় দিবস আছে, সে উপলক্ষে ভাতা দেয়া হোক।মুসলমানরা এতটুকু বললে, আজ সাড়ে ৪ হাজার স্পটে হিন্দুত্ববাদী মঙ্গলশোভাযাত্রার উদ্যোগ নিতে পারতো না সরকার, কিন্তু টাকা দিয়ে মুখে কুলুপ আটা হয়ে গেছে মুসলমানদের। গত ১ বছর আগে দৈনিক ইনকিলাবে পাঠ্যবই নিয়ে একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো- আমাদের সন্তানরা মুসলমান থাকবে তো?”, আমি ঐ শিরোনামের অগ্রযাত্রা করে বলতে চাই- আপনারা নিজেরাই মুসলমান থাকবেন তো?” (সন্তান তো পরের বিষয়)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: