3.15.2017

বাংলাদেশের পর্দানশীল মুসলিম নারীরা কি হিন্দুদের দেবদাসীতে পরিণত হয়েছ? উত্তর দিন?

বাংলাদেশের পর্দানশীল মুসলিম নারীরা কি হিন্দুদের দেবদাসীতে পরিণত হয়েছ!? বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম কি হিন্দুদের জন্য ফ্রিহ্যা তাই তো দেখা যাচ্ছে। নোংরা হোলি পূজার নামে মুসলিম পর্দানশীল নারীদের পবিত্র দেহে হাতিয়ে বেড়াচ্ছে নাপাক উগ্র হিন্দুরা। কখনো কখনো বুকে, কখন মুখে, দেহের এমন কোন স্থান নেই, যেখানে হাত দিচ্ছে না এই উগ্রবাদী কথিত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। হিন্দুদের জন্য কি তবে বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম ফ্রি করে দেয়া হয়েছে, ঠিক যেভাবে কাশ্মীরে আইনসিদ্ধভাবে ভারতীয় সেনারা মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করে থাকে?? নয়ত ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না? কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? কেনো বাংলাদেশে এই নোংরা হোলিকে সরকারিভাবে চিরস্থায়ী বন্ধ করার জন্য কোর্ট থেকে আদেশ আসেনাই? তবে কি বাংলাদেশও কাশ্মীর হয়ে গেছে ??



আপনাদের জানা উচিত যে নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের উৎসবের নাম হোলি নামক নোংরা এই পূজা।

২০১৬ সালে ইন্ডিয়ান ফেমিনিস্ট ডট কমে একটা প্রতিবেদন ছাপা হয় (ছবি)। যার শিরোনাম ছিলো- হোলিঃ নারী বিদ্বেষী, ধর্ষণ ও নিপীড়নের হিন্দু উৎসব।

আসলে ভারতে হিন্দুদের হোলি পূজাকে সবাই নারী নিপীড়নের উপলক্ষ হিসেবেই জানে। এ পূজার ইতিহাসও কিন্তু তাই বলে। কৃষ্ণ রাধাকে যৌন নির্যাতন করায় রাধার সারা শরীরের রক্তে রঞ্জিত হয় এবং সেই রক্ত ঢাকতেই সবাইকে রং ছিটানোর আদেশ দিয়েছিলো কৃষ্ণ, যা আজকে হোলি বা দোল পূজা হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করছে।।

গত বছর ভারতের জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদে হোলি পূজাকে নারীবিরোধী উৎসব হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছিলো আন্দোলনকারীরা। (http://bit.ly/2n4qFzj)। হোলি পূজায় নারী নিপীড়ন এতটাই কঠিন অবস্থায় পৌছে যে ভারতের অনেক হিন্দুই এ পূজাটিকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে।

এ বছর হোলি পূজার দিন দিল্লী ইউনির্ভাসিটির ছাত্রী হল থেকে ছাত্রীদের বের হওয়া নিষিদ্ধ করে ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ, কারণ- এ দিন নারী হেনস্থা সব চেয়ে বেশি হয়। (http://bit.ly/2nm6yKk)। এ সম্পর্কে দিল্লী ভার্সিটির প্রোক্টরের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনাপত্র দেখতে পারেন- http://bit.ly/2mHRJn7

শুধু দিল্লী নয়, ব্যাঙ্গালুরের অধিকাংশ কলেজ ক্যাম্পাসে হোলি পূজা নিষিদ্ধ করা হয় (http://bit.ly/2mn1Yug)

ভারতে হোলি উপলক্ষে হিন্দুরা কিভাবে নারীদের হেনস্থা করে তার ভিডিও দেখতে পারেন-
১) https://youtu.be/bmbwPB56dIw
২) https://youtu.be/BCIb3MaJ0v0

আমি আবার বলছি, হোলি একান্তই হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব, যার ইতিহাসও অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, নারী নির্যাতন ও পীড়নমূলক। অথচ গত কয়েকবছর যাবত হিন্দুরা ও ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া দাবি করছে- হোলি নাকী সার্বজনিন উৎসব। বলাবাহুল্য নারীলোভী এসব কুলাঙ্গার কেন যে হোলি পূজার জন্য দাপাদাপি করে তা হোলি পূজার দিন নারী নিপীড়নের উচ্ছাস দেখলেই বোঝা যায়। সবশেষ বলবো, ভারতে যেখানে হোলি পূজা নিষিদ্ধের দাবী উঠেছে , বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হোলি পূজা নিষিদ্ধ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে কিভাবে হোলি পূজা চলতে পারে? প্রকাশ্যে মুসলিম নারীদের বেইজ্জতি করে রং মাখানো হতে পারে? অবিলম্বে বাংলাদেশে হোলি পূজা বন্ধ করা হোক। এবং যেসব হিন্দু গত সোমবার ঢাকায় নারীদের উপর নিপীড়ন চালিয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করে ফাঁসির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।



হোলি পূজার ইতিহাস সম্পর্কে ব্রহ্মা বৈবর্ত পুরানে পাওয়া যায়- হিন্দুদের ভগবান কৃষ্ণ রাধার উপর সারারাত এতটাই যৌন নিপীড়ন করেছিলো যে রাধার সারা শরীর রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। বিষয়টি আড়াল করতে ভগবান কৃষ্ণ সবাইকে রং দিয়ে খেলতে নির্দেশ দিয়েছিলো , যেন রাধার রক্তের-রঞ্জিত শরীর আড়াল করা যায়। ভগবান কৃষ্ণ রাধার সেই স্মৃতি স্মরণ করতেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা হোলি বা দোল পূজা করে থাকে। (বিস্তারিত- http://bit.ly/2mlNLhq)

সম্প্রতি হোলি পূজায় ভগবান কৃষ্ণের অনুসারিদের আক্রমনের শিকার হয়ে একজন বলেই দিয়েছেনএটা ফেসটিভাল নয়নোংরামি বলা চলে।” আসলে যার ইতিহাসের শুরুটাই নোংরামিসেটার পরবর্তী অংশ পবিত্র হবে এটা কিভাবে ভাবা যায় ?


যাই হোক, সেটা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো- হিন্দুদের পূজা মন্দির ছেড়ে রাস্তায় কেন ? রাস্তার সকল নারীকে রং দেয়ার অধিকার তাদের কে দিলো ? তবে আপনি যদি ভাবেন- এখন আওয়ামী সরকার ক্ষমতায়, এখন হিন্দুদের রামরাজত্ব। ভারতে যেভাবে হিন্দুরা মুসলিম মেয়েদের ঘর থেকে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে, বাংলাদেশেও হিন্দুরা সেটার অধিকার পেয়ে গেছে তবে আমার কিছু বলার নাই।

আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই, ২০১৫ সালে ১লা বৈশাখের দিনে টিএসসিতে নারী হেনস্থার ঘটনা ঘটেছিলো। যার প্রতিবাদের মাঠে নেমেছিলো কথিত শুশীল সমাজ, পুলিশ মামলা করেছিলো, ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করেছিলো কয়েকজনকে। কিন্তু এবারের কথিত হোলি পূজার নামে যেভাবে গণনারী হেনস্থা হলো সেটা কি নববর্ষের নারী হেনস্থার সামনে কিছু ?? কিন্তু এবার কেন কেউ মাঠে নামলো না, কেউ মামলা করলো না, কাউকে গ্রেফতার করা হলো না ???

তবে কি ধরে নেবো বাংলাদেশের মুসলিম নারীরা হিন্দুদের দেবদাসীতে পরিণত হয়েছে ??


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: