3.20.2017

রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের রিট শুনানী বাতিলঃ সরকার কি তবে রাষ্ট্রধর্ম বাতিল ইস্যুটি জিয়িয়ে রাখতে চায়?


প্রসঙ্গঃ রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের রিট শুনানী বাতিল বাতিল করে হয়েছে। সরকার কি তবে রাষ্ট্রধর্ম বাতিল ইস্যুটি জিয়িয়ে রাখতে চায়?

গত ১৯শে মার্চ বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের রিট শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছিলো কিন্তু অজ্ঞাত কারণবশতঃ রিট শুনানী কোর্টের কার্যতালিকায় আনা হয় নি। কিন্তু কি কারণে আনা হলো না, এই বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনার দরকার আছে।

আপনারা জানেন, গত ১৯ শে মার্চ যে রিট শুনানীর কথা ছিলো তা মূলত ২০১৫ সালের খারিজ হওয়া একটি রিট। রিটটি খারিজ হওয়ার পর চেম্বারজজে শুনানী না করে ডাইরেক্ট আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে উঠোনোর কথা ছিলো পূর্ব নির্ধারিত ১৯ শে মার্চ। যদিও ইসলাম বিদ্বেষী মহল ক্ষমতা আর টাকা দিয়ে বাংলাদেশের সমস্থ টিভি মিডিয়া এবং পত্র পত্রিকায় এই বিষয়টি আশ্চর্যজনক ভাবে দমিয়ে রাখে কিন্তু বাংলাদেশের কিছু সচেতন মুসলমান অনলাইন এবং অফলাইনে সচেতন ছিলো বলে সরকার ভয় পেয়েই বিষয়টি লুকিয়ে ফেলে শেষমেশ। সোজা ভাষায় টেস্টকেসের মত, মুসলমানদের অনুভূতি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই মাত্র। কিন্তু আমার আলোচনার বিষয় সেটি নয়, আমার আলোচনার বিষয়- যদি গত ১৯ শে মার্চ রিটের শুনানী হতো তবে কি হতো ??

যদি রিটটি পরিপূর্ণ বাতিল হতো তবে তা মুসলমানদের জন্য একটি বিরাট ঐতিহাসিক অর্জন হয়ে দাড়াতো। কারণ আপীল বিভাগের রায় একটি চূড়ান্ত বিষয় হয়ে দাড়াতো যে, আর কেউ কোনোদিন রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের জন্য রিট করতে পারতো না, এই রিটের মাধ্যমেই বিষয়টি স্থায়ী হতো।

আর যদি রিটটি জারি হয়ে যেতো, তবে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিল হয়ে যেতো। তখন স্বাভাবিকভাবে দেশের মধ্যে একটি অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হতো, যা সরকার তার বর্তমান অবস্থায় কখনই চাইবেনা। ১৯ শে মার্চ কজলিস্টে না উঠানো দ্বারা প্রমাণ হয়, সরকার দুটো বিষয়ের মাঝখান দিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ সরকার চায় রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের ইস্যুটি টিকে থাক, আবার সুযোগ মতো ব্যবহার করা হবে। কারন তাদের জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে তারা বুঝতে পেরেছে যে এখনো সময় হয়নি, তাই লুকিয়ে ফেল্ল।

বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার আরেকটি কারণ- আপনারা জানেন গত বছর মার্চে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলে আরেকটি রিট খারিজ করে দিয়েছিলো হাইকোর্ট। তখন খারিজের বিষয়টি কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের যথার্থ প্রমাণ করে হয়নি, হয়েছিলো যে ১৫ জন নাগরিক একটি সংগঠনের নামে রিটটি দায়ের করেছিলো তাদের লোকাস স্ট্যান্ডি বা যোগ্যতা নাই বলে (http://bit.ly/2np3xvK)। তারমানে লোকাস স্ট্যান্ডি নিয়ে আসলে অন্য যে কেউ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলে রিট করতে পারবে।

যদি ঐ সময় রাষ্ট্রধর্ম যথার্থ বলে রিট খারিজ করা হতো, তবে মুসলমানদের প্রাপ্য থাকতো এবং বিরোধী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু প্রতিবারই খারিজ করা হচ্ছে বা লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে কৌশল করে, আবার সুযোগ বুঝে জাগ্রত করা হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী ইস্যুটিকে চিরতরে মেরে ফেলা হচ্ছে না, বরং জিয়িয়ে রাখা হচ্ছে, সুযোগ রাখা হচ্ছে পুনরায় রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের রিট করার। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারগুলো বাংলাদেশের মুসলমানদের আরো অধিক অনুধাবন করার চেষ্টা করা উচিত। রাষ্ট্রধর্ম বিরোধী ইস্যুকে কেনো কৌশলে জিয়িয়ে রাখা হচ্ছে সেটা নিয়ে দেশের আইন কে মেনে আইনানুগ অরাজনৈতিক একত্র প্রতিবাদে নামা উচিত।


যেমনঃ সিলেটের ফুলতলি, বরিশালের ছারছিনা, বরিশালের চরমোনাই, চট্রগ্রামের কওমি হেফজত, চট্রগ্রামের ছাত্রসেনা সহ এদেশের সকল ইসলামী দরবার এবং গ্রুপের প্রধান একসাথে বসে আলচনা করে একিই দিনে সারাদেশে মানব্বন্ধন করে সরকারের নিকট এব্যপারে চিরতরে সমাধান কামনা করা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: