3.06.2017

আপনি কি জানেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে গ্রিক দেবীর মূর্তি ভেঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা?

ইসলাম বিদ্বেষীরা কি জানে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা? হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে বসানো গ্রিক দেবীর মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা? মঙ্গলশোভাযাত্রা বন্ধ করা এবং পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দুত্ববাদকে বাদ দেওয়া, কি বিশ্বাস হয়না? তাহলে আসুন দলিল প্রমান দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেই।

অনেকে বলছেঃ সুপ্রীম কোর্টে গ্রিক দেবীর মূর্তি থাকবে, কারণ গ্রিক দেবীর মূর্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা১লা বৈশাখে মঙ্গলশোভাযাত্রা হবে, কারণ মঙ্গলশোভাযাত্রা মুক্তিযুদ্ধের চেতনারাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিতে হবে, কারণ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দুত্ববাদকে বাদ দেওয়া যাবে না, কারণ হিন্দুত্ববাদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনানাউযুবিল্লাহ!!

৯৫% মুসলমানের এই দেশে ৯৯% মুসলিম মুক্তিযোদ্ধার এর দেশে উপরের দাবিগুলো যারা করছে, তারা কি তাদের দাবির স্বপক্ষে, মানে- গ্রিক দেবীর মূর্তি, মঙ্গলশোভাযাত্রা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ যুক্ত করা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সেটার ব্যপারে কি তারা কোনো দলিল দেখাতে পারবে? পারবে কি তার স্বপক্ষে কোন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে??

আসুন আমি সেইসব ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের মুখে চুনকালি মেখে আপনাদেরকে দলিল-প্রমান দেখাইঃ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে কখনই মূর্তি-মঙ্গলশোভাযাত্রা-রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ যোগ করার চেতনা ছিলো না, বরং সেগুলোর বিরোধীতাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে ইসলামী চেতনাই ছিলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাঃ-

যেমনঃ- বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডের ১৬-১৯ নং পৃষ্ঠায় দেখা যায়- ১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার প্রচার দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে প্রচারিত স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলীথেকে পাওয়া যায়-
১) ঐ নিদের্শাবলী শুরু হয়েছে আল্লাহু আক্ববার ধ্বনি দিয়ে
২) এরপর বলা হয়েছে- বাঙ্গালীর অপরাধ তারা এক আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট পৃথিবীতে, আল্লাহর নির্দেশমত সম্মানের সাথে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে চেয়েছেবাঙ্গালীর অপরাধ মহান স্রষ্টার নির্দেশমত অন্যায়, অবিচার, শোষণ-জলুম নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার সংকল্প ঘোষণা করেছে।.............আমাদের সহায় পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য
৩) এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- এ সংগ্রাম আমাদের বাচার সংগ্রাম, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তালার উপর বিশ্বাস রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকুন
৪) সর্বশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে ঘোষণাপত্র শেষ হয়েছে দুটি কোরআনের আয়াত দ্বারা-স্বরণ করুণ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অতীতের চাইতে ভবিষ্যত নিশ্চয়ই সুখকরএবং
বিশ্বাস রাখুন--- আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী

(ছবিঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ডপৃষ্ঠাঃ ১৬-১৯১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার প্রচার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী)

মুক্তিযুদ্ধের দলিল থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইসলামী চেতনার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলোঅথচ মূর্তি-মঙ্গলশোভাযাত্রা-রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ সবগুলোই ইসলাম বিরোধী চেতনা

তারমানে-
সুপ্রীম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেই,
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জারি রাখলেই,
মঙ্গলশোভাযাত্রা বন্ধ করলেই,

পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দুত্ববাদ বাদ দিলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হবে, ইহা ব্যতিত অন্য কোন উপায় থাকতে পারে না


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: