3.02.2017

গুল মেরে গুগলের উপর চালিয়ে দিতে গিয়ে ধরা খেলো মুক্তমনা নাস্তিক হাসান মাহমুদ

বিডিনিউজ ২৪ ডট কমে হাসান মাহমুদের মতামত (http://archive.is/lQ6o1) ও আমার সর্বশেষ কিছু প্রশ্নঃ- গত কয়েকদিন আগে বিডিউনিজ২৪ডট কমে নাস্তিক্যবাদী মুক্তমনা ব্লগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসান মাহমুদ একটা স্ট্যটাস লিখে দাবি করে যে সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামে ভাস্কর্য্য বৈধ মন্তব্যটির পর পরই আমি কয়েকটি স্ট্যটাস লিখি যদিও সে একটিরও কোন উত্তর দিতে পারেনি তার পরেও এবার তার কাছে চুড়ান্তভাবে কিছু প্রশ্ন ছুড়লাম সে কি পারবে উত্তর দিতে?

১) ভাষ্কর্য্য যদি সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ-ই হয়, তবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ট শেষ নবী রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ভাষ্কর্য্য নেই কেন? যায়েজ হলে উনার ভাস্কর্য্য থাকা তো সবার আগে ফরজ ছিলো মুসলমানদের জন্যে??

২) ভাষ্কর্য্য যদি সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ হয়, তবে তার কলামেই কেন সে লিখেছে মুসলমানদের বিরোধীতার কারণে নিউইয়র্ক আপিল বিভাগের কোর্ট দালানের ছাদের মূর্তি সরানো হলো? তার স্ট্যাটাস দ্বারা কি প্রমাণ হয় না- সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম-এর রীতি মানতেই এমেরিকান মুসলমানরা ঐ হারাম মূর্তি সরাতে বলেছিলো?

৩) হাসান মাহমুদ তার লেখার শুরুতেই বলেছে ভাস্কর্যের সাথে হেফাজাতিরা ইসলামকে জড়িয়ে ফেলেছে কিন্তু তার লেখাতেই কি প্রমাণ হয় নাঃ- শুধু হেফাজত নয়, এমেরিকার মুসলমানরাও ভাস্কর্য্যের বিরোধীতা করেছিলো?

৪) হাসান মাহমুদ মূর্তি আর ভাস্কর্য্য আলাদা করতে চেয়েছে, বলেছে- ঐ ভাস্কর্য্য পূজার জন্য নয় কিন্তু ছবিতে দিয়েছে সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবী জাস্টিসিয়া বা রোমান দেবী থেমিস এর মূর্তি এই মূর্তিটি রোমান বা গ্রিকদের পূজনীয় দেবীর মূর্তি এখন কেউ যদি দূর্গা মূর্তি স্থাপন করে বলে, ‘এটা দূর্গার ভাষ্কর্য্য’, তবে বিষয়টি কেমন হবে?

৫) হাসান মাহমুদ তার লেখায়, মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্যতম পবিত্র কিতাব ফতহুল বারির লেখক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বিতর্কিত করতে গিয়ে বলেছে- ([রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কী কারণে করেছিলেন সেটা ইমামের জানা সম্ভব নয় কারণ তিনি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৮০০ বছর পরে হাজার মাইল দূরে জন্ম নেওয়া মিসরের ইমাম, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি
- এখন আমার কথা হচ্ছে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদি ৮০০ বছর পরে এসে, হাজার মাইল দূরে জন্ম নিয়ে হাদীস শরীফ আর উনার ব্যখা না জানেন না বুঝেন এবং উনাকে অজ্ঞ বলে বিতর্কিত করা হয়, তবে হাসান মাহমুদ ১৪০০ বছর পরে এসে, হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে, মুসলিম তো নয়ই বরং মুক্তমনা হয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলামের ফতওয়া দিলে পাবলিকের কাছে ইহা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে??

৬) হাসান মাহমুদ তার লেখায় বলেছে- রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজস্র ছবি স্বচক্ষে দেখতে চাইলে ইরানে চলে যান নাউযুবিল্লাহ!! দেখবেন দেয়ালে ঝুলানো সুদৃশ্য কার্পেটে আছে মা আমিনা(আলাইহাস সালাম) উনার কোলে শিশু নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের পরিবেষ্টিত নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আসমানে পবিত্র বোরাখে উপবিষ্ট নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইত্যাদি  গুগল করলেই পেয়ে যাবেনসবই কাল্পনিক ছবি অবশ্যহাজার বছর ধরে আছে ওগুলো ইরান এখন তো শিয়া দেশ, কিন্তু ৭৫০ সালে আব্বাসিরা দখল করার আগে পর্যন্ত ওটা সুন্নি উমাইয়াদের রাজত্ব ছিল"

- ঊপরের বাক্যগুলো লিখে হাসান মাহমুদ প্রমাণ করেছে সে মিথ্যাবাদী কারণ হাজার বছর পুরোনো নবীর কোন ছবি ইরানে আছে, সেটা সে হাজার বার দুনিয়ায় জন্ম নিলেও দেখাতে পারবেনা সাম্প্রতিক বাতিল ফেরকার অন্তর্ভুক্ত শিয়া কাফেরদের মতবাদ চালু হওয়ার পর হয়তো কিছু কাল্পনিক বিষয় হচ্ছে, কিন্তু হাজার বছর পুরানো?? হাসান মাহমুদ দলিল হিসেবে দিলো- গুগল মামা!!! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- তবে কি গুল মেরে গুগলের উপর চালিয়ে দিলো হাসান মাহমুদ??

গুগল করুন- সব উত্তর পেয়ে যাবেন”- এই যদি হয় হাসান মাহমুদের গুলমারা শক্তি, তবে এই সব আজগুবি লেখা লিখে তার গু...মারা খাওয়ার সময় কি চলে আসেনি?

পড়তে পারেনঃ


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: