3.06.2017

বাংলাদেশের পর্নোসাইট যৌবনযাত্রার এডমিন আযম খানের ‘আল্লাহ’ শব্দ নিয়ে মিত্যাচারের জবাব

শুনেছিলাম যে যারা পর্নো বানায় এবং নিয়মিত দেখে ধিরে ধিরে তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায় কিন্তু শুধু শুনার মাজে নয় বরং এবার তা বাস্তবেই প্রমান পেলাম। যেমনঃ বাংলাদেশে পর্নোসাইটের শুরুর দিকের সাইট যৌবনযাত্রার এডমিন আযম খানের ক্ষেত্রেও তার সত্যতা মিললোতার দাবি- ১৪০০ বছর আগে আরবের মূর্তি পূজারিদের কথিত দেবী লাতথেকেই নাকি আল্লাহ শব্দের সৃষ্টি নাউযুবিল্লাহ!!! তাই সে সুপ্রীম কোর্টের সামনে লাত দেবীর মূর্তি স্থাপন করতে বলেছে নাউযুবিল্লাহ!!! এর স্বপক্ষে সে একটি বেহুদা ফ্রি ব্লগস্পট সাইটের (http://bit.ly/2ms5abv) লিঙ্কও শেয়ার করেছেতার রেফারেন্সের শক্তি দেখে আমি বুঝতে পেরেছি যে আজ থেকে বহু আগেও আই এম জিপিএ-ফাইভ প্রজন্ম বিদ্যমান ছিলো :v :v :v

যাই হোক, লাত নামক দেবী থেকে আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ইহা একমাত্র চরম শ্রেণীর মূর্খ ব্যতিত কেঊ বলতে পারেনা তাই এমন গাজাখুরি দাবির বিপরীতে বেশি কিছু বলতে চাই না তবে এটুকু বলবো যে- ইহুদী-খ্রিস্টান-ইসলাম এই তিন ধর্মের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নামের ধারণা প্রায় একিই এবং প্রথম মানুষ এবং নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ইতিহাস প্রায় একই, অনেক নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যপারে ধারণাও একিইসেই হিসেবে তিন ধর্ম বিবেচনা করলে ২০০০ বছর আগের নবী হযরত ঈসা রুহুউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ(আল্লাহবা যে এলাকার ভাষায় ডাকুক) শব্দ বিদ্যমান ছিলো এবং ৩২০০ বছর আগের নবী হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সময় আল্লাহশব্দ বিদ্যমান ছিলোতাই কোনো বেকুব মূর্খ আর জাহেল যদি বলে মাত্র ১৪০০ বছর আগে লাত নামের দেবী থেকে আল্লাহশব্দ আসছে তবে তাকে পাগল ভাবা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই কারন প্রলাপ শুধু পাগলই বকে থাকে

আল্লাহ শব্দের ব্যবহারের ব্যাখ্যায় আমরা যা পাই তা হলোঃ-
"আল্লাহ" শব্দটি আরবি "আল" (বাংলায় যার অর্থ সুনির্দিষ্ট বা একমাত্র) এবং "ইলাহ" (বাংলায় যার অর্থ ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা) শব্দদ্বয়ের সম্মিলিত রূপ, বাংলায় যার অর্থ দাড়ায় "একমাত্র সৃষ্টিকর্তা" বা "একক ঈশ্বর"একই শব্দমূল-বিশিষ্ট শব্দ অন্যান্য সেমিটিক ভাষাতেও পাওয়া যায়উদাহরণস্বরূপ, বলা যায়, হিব্রু এবং আরামাইক ভাষার কথাপ্রাচীন হিব্রু ভাষায় শব্দটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বহুবচন এলোহিম אֱלֹהִ֔ים (কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে একবচন) হিসেবে ব্যবহার হয়েছেআর আরামাইক ভাষায় শব্দটির রূপ এলাহা ܐܠܗܐ বা আলাহা ܐܲܠܵܗܵܐকিন্তু এই শব্দটির অর্থ এই সব ভাষাতেই সমার্থক, "একক ঈশ্বর"। (http://bit.ly/2m7EDNZ)

সুরতাং খ্রিস্টান বলেন, ইহুদী বলেন আর মুসলমান বলেন- সবার মধ্যে সৃষ্টিকর্তা অর্থে আল্লাহ বিদ্যামান, ভাষাগত ভিন্নতা ও সামান্য বিশ্বাসগত পার্থক্য থাকতে পারেকিন্তু কোনক্ষেত্রেই লাত নামক দেবী থেকে আল্লাহ এসেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়আসলে অনেক শব্দের আগে পরে নতুন অক্ষর যোগ করে ভিন্ন শব্দ আসতেই পারে, কিন্ত ‍সেটা মানেই এই নয় দুটোই এক

মজার বিষয় হচ্ছে, সে গোজামিল দিয়ে খিচুরি পাকাতে চেয়েছেবলেছে-লাত চন্দ্র দেবী, তাই ‍মুসলমানদের প্রতীক চাদ কিন্তু এর ব্যাখ্যায় বলতে হয় যে আমাদের মুসলমানদের প্রানের আক্বা  শেষ নবী রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিন্তু কখনই চাদকে ইসলামের প্রতীক বা লোগো হিসেবে ব্যবহার করেননিরাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লোগো ছিলো-সাদা-কালো পতাকা যার মধ্যিখানে আরবীতে কালেমা শরীফ লিখা থাকতো

পরিশেষে বলবো- আযম খান নামের সাথে আমি পাকিস্তানের জাতির পিতা আলী জিন্নাহর উপাধির অংশ বিশেষ আযমপাচ্ছি (কায়েদে আযম আলী জিন্নাহ)এর দ্বারা কি আমরা ভেবে নেবো- যৌবনযাত্রার এডমিন আযম খান হচ্ছে জিন্নাহর জারজ সন্তান?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: